• ই-পেপার

সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কারে বিশেষ কমিটি চায় বিরোধী দল

আরবি নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীকে জামায়াত আমিরের শুভেচ্ছা

হিজরি সন মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ : ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
হিজরি সন মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ : ডা. শফিকুর রহমান
ডা. শফিকুর রহমান। ফাইল ছবি

পবিত্র হিজরি নববর্ষ ১৪৪৮ উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান।

বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং তার সাহাবিগণের মক্কা থেকে মদিনায় ঐতিহাসিক ‘হিজরত’-এর মহান স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে এই সনের গণনা শুরু হয়। হিজরি সন মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তিনি উল্লেখ করেন, হিজরত কেবল কোনো সাধারণ স্থান পরিবর্তন ছিল না; বরং তা ছিল জুলুম, অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে ন্যায়, ইনসাফ ও সত্যের এক গৌরবময় বিজয় এবং ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বাঁক বদল।

জামায়াতের আমির বলেন, বিদায়ী বছরের সব ভুলত্রুটি, ব্যর্থতা ও গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বছরে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামের সুমহান আদর্শকে ধারণ করার শপথ নিতে হবে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি ও দেশের চলমান প্রেক্ষাপটে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা অত্যন্ত জরুরি। হিজরতের ত্যাগ ও কোরবানির চেতনা বুকে ধারণ করে সমাজ থেকে সব ধরনের অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিবৃতিতে তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করে বলেন, ‘নতুন হিজরি বছর আমাদের ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া, ন্যায়বিচার, সততা ও মানবকল্যাণের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

দেশকে সকল সংকট, অস্থিরতা ও বিভেদ থেকে মুক্ত রাখার প্রার্থনা জানিয়ে তিনি একটি ইনসাফভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।

জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান আফরোজা আব্বাস

অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান আফরোজা আব্বাস

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসকে জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে তাঁকে ওই পদে অবৈতনিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। 

আজ মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে আফরোজা আব্বাসকে জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরকার প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবে। আফরোজা আব্বাসও পদত্যাগ করতে পারবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস। মির্জা আব্বাস মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা।
 

রাজবাড়ীতে কর্মীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার, উদ্বেগ প্রকাশ জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজবাড়ীতে কর্মীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার, উদ্বেগ প্রকাশ জামায়াতের
সংগৃহীত ছবি

রাজবাড়ীর কালুখালীতে জামায়াত কর্মীর হাত-পা বাঁধা অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।  আজ সোমবার দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান। 

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘রাজবাড়ীর কালুখালীতে জামায়াত কর্মী মো. আসাদুজ্জামানকে (২৪) নির্মমভাবে হত্যার পর হাত-পা বাঁধা লাশে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা চরম বর্বরতা, নৃশংসতা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ। এহেন ঘটনা আইয়্যামে জাহিলিয়াতকে হার মানিয়েছে। আমি এই ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। 

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আসাদুজ্জামানের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে যে দেশের নাগরিকদের কোনো নিরাপত্তা নেই। সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করতে পারায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে সন্ত্রাসী ও খুনিরা। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘আমি নিহত আসাদুজ্জামানের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। পরিবারের সদস্যদের ধৈর্যধারণের তাওফিক কামনা করছি। 

স্থানীয় নির্বাচনে আ. লীগ অংশ নিতে পারবে কি না জানতে চাইলেন রুমিন ফারহানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্থানীয় নির্বাচনে আ. লীগ অংশ নিতে পারবে কি না জানতে চাইলেন রুমিন ফারহানা
সংগৃহীত ছবি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশ নিতে পারবেন কি না, তা স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে স্পষ্ট করার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। এ সময় তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা-ও জানতে চান।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সম্পূরক বাজেটে স্থানীয় মন্ত্রণালয়ের ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ প্রশ্ন উত্থাপন করেন তিনি। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে ওই প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আওয়ামী লীগের বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান।

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে আমি আশ্বস্ত করতে পারি যে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা যে সিদ্ধান্তে একমত হয়েছি, সেই সিদ্ধান্তে আমরা যথাযসময়ে নির্বাচন করতে পারব বলে আশা করি।’

এর আগে স্থানীয় সরকারের উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন নির্বাচন কবে হবে তা জানতে চান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি ইতিমধ্যে প্রতিটি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। তারা সবাই দলীয়ভাবে মনোনীত। অথচ এই গণতন্ত্রের জন্য ২০১৪ থেকে আরম্ভ করে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বাংলাদেশের মানুষ লড়াই করেছে, সংগ্রাম করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকার চার মাসের মতো ক্ষমতায় এসেছে, এরপরও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কিছু জানতে পারি নাই।’

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ের পুরো শাসনব্যবস্থা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হবে। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের অধীনে জেলাগুলো শাসিত হচ্ছে। এটা সংবিধানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর প্রতি প্রশ্ন রেখে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে? সে নির্বাচনে কখনো আমরা শুনতে পাচ্ছি কেউ বলছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে, কেউ বলছেন পারবে না, কেউ বলছেন দলীয় প্রতীকে হবে না বলে ক্লিন ইমেজের আছে যারা তারা পারবেন। এ বিষয়গুলো যদি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী পরিষ্কার করতেন, তাহলে সকলের বুঝতে সুবিধা হতো। একইভাবে স্থানীয় পর্যায়ে যারা রাজনীতি করেন, তাদের জন্য সুবিধা হতো।’