• ই-পেপার

প্রকৃতির নানা রং ও জাতের ফলফলাদি আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত

যে ৩ শ্রেণির মানুষের জন্য রাসুল (সা.) জান্নাতে একটি ঘরের জিম্মাদার হবেন

অনলাইন ডেস্ক
যে ৩ শ্রেণির মানুষের জন্য রাসুল (সা.) জান্নাতে একটি ঘরের জিম্মাদার হবেন
সংগৃহীত ছবি

ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী মুমিনের জন্য পরীক্ষার হলের মতো। পরকালে সফল হতে অবশ্যই এই পরীক্ষায় সফলকাম হতে হবে। এরপরই মিলবে কাঙ্ক্ষিত জান্নাত। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘জমিনের ওপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোর শোভাবর্ধন করেছি, যাতে আমি মানুষকে পরীক্ষা করতে পারি যে, আমলের ক্ষেত্রে কারা উত্তম।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত: ৭)

অপর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে তাদের সুসংবাদ দাও, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৫)। আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারা জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানে হবে স্থায়ী।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৮২)

এজন্য দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে গুনাহ বা পাপ কাজ থেকে নিজেকে রক্ষার পাশাপাশি আল্লাহর হুকুম ও রাসুল (সা.) এর আদর্শ এবং তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ জরুরি। তাই পরকালে সফল হতে বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে উম্মতদের যেমন নানা বিষয়ে আদেশ-নিষেধের কথা জানিয়েছেন নবীজি (সা.), তেমনি বাতলে দিয়েছেন মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের পথও। এর মধ্যে একটি হাদিসে মুমিনের তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা এসেছে, যার ফলে খোদ নবীজি (সা.) এই তিন বৈশিষ্ট্যের মানুষদের জন্য জান্নাতে একটি ঘরের জিম্মাদার হবেন।

আবু উমামা (রা.) সূত্রে বর্ণিত হাদিসটি হলো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গত হওয়া সত্ত্বেও ঝগড়া পরিহার করবে, আমি তার জন্য জান্নাতের বেষ্টনীর মধ্যে একটি ঘরের জিম্মাদার; আর যে ব্যক্তি তামাশার ছলেও মিথ্যা বলে না, আমি তার জন্য জান্নাতের মাঝখানে একটি ঘরের জিম্মাদার; আর যে ব্যক্তি তার চরিত্রকে সৌন্দর্যমন্ডিত করেছে, আমি তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থিত একটি ঘরের জিম্মাদার। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮০০)

স্ত্রীদের খুশি করতে মহানবী (সা.) যেসব বিষয়ে যত্নবান ছিলেন

মুফতি ওমর বিন নাছির
স্ত্রীদের খুশি করতে মহানবী (সা.) যেসব বিষয়ে যত্নবান ছিলেন
সংগৃহীত ছবি

পরিবার একটি সমাজের ভিত্তি, আর দাম্পত্য জীবন সেই ভিত্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও আন্তরিকতার ওপরই নির্ভর করে একটি পরিবারের সুখ-শান্তি। আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেক পরিবারে ভুল বোঝাবুঝি, মানসিক দূরত্ব ও সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা যায়। অথচ মহানবী (সা.) প্রায় দেড় হাজার বছর আগেই এমন এক আদর্শ দাম্পত্য জীবনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, যা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে সর্বোত্তম। আর আমি আমার স্ত্রীদের কাছে তোমাদের সবার চেয়ে উত্তম।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৮৯৫)
এই একটি হাদিসই একজন আদর্শ স্বামীর পরিচয় তুলে ধরতে যথেষ্ট। তারপরও স্ত্রীদের মনরক্ষায় মহানবী (সা.)-এর জীবন থেকে কিছু চিত্র তুলে ধরা হলো। যদিও নিম্মুক্ত বিষয়গুলোতে বিশেষভাবে স্ত্রীদের কথা বলা হয়েছে। তবে সুখময় দাম্পত্য জীবনে উভয়কেই এসব বিষয়ে যত্নবান হতে হবে।    

১. স্ত্রীর কাজে সহযোগিতা করা
অনেকেই মনে করেন, ঘরের কাজ শুধু নারীর দায়িত্ব। কিন্তু মহানবী (সা.) নিজেই এই ধারণার বিপরীত শিক্ষা দিয়েছেন। রাষ্ট্র পরিচালনা, দাওয়াত, বিচার এবং ইবাদতের মতো অসংখ্য দায়িত্ব পালন করেও তিনি পরিবারের কাজে স্ত্রীদের সহযোগিতা করতেন। আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, মহানবী (সা.) ঘরে কী করতেন? তিনি বলেন, ‘তিনি পরিবারের কাজকর্মে সাহায্য করতেন। আর নামাজের সময় হলে নামাজে চলে যেতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৭৬)
এ থেকেই বোঝা যায়, পরিবারের কাজে সহযোগিতা করা নববী সুন্নত।

২. স্ত্রীর প্রশংসা করা 
প্রশংসা মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা সৃষ্টি করে। মহানবী (সা.) তাঁর স্ত্রীদের গুণাবলির প্রশংসা করতেন এবং তাদের মর্যাদা তুলে ধরতেন। তিনি বলেন, ‘নারীদের মধ্যে মরিয়ম ও ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া পূর্ণতা অর্জন করেছেন। আর সকল নারীর ওপর আয়েশার মর্যাদা এমন, যেমন সব খাবারের ওপর সারীদের মর্যাদা।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৪১১)
এ শিক্ষা দেয় যে, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে মজবুত করতে আন্তরিক প্রশংসার বিকল্প নেই।

৩. স্ত্রীকে নিজের হাতে খাবার খাওয়ানো
ইসলামে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার প্রকাশও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। স্ত্রীকে নিজের হাতে খাবার তুলে দেওয়াকে সওয়াবের কাজ বলা হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যে ব্যয় করবে, তার প্রতিদান পাবে; এমনকি স্ত্রীকে যে এক লোকমা খাবার মুখে তুলে দেবে, তারও সওয়াব পাবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৬২৮)
তিনি স্ত্রীদের ব্যবহৃত পাত্র থেকেই পানি পান করতেন, যা ছিল গভীর ভালোবাসার এক অনন্য প্রকাশ।

৪. স্ত্রী ও সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া
দাম্পত্য জীবনে শুধু আর্থিক দায়িত্ব পালন করাই যথেষ্ট নয়; মানসিক উপস্থিতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। উকবা ইবনে আমির (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি মহানবী (সা.)-কে মুক্তির পথ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘তোমার জিহ্বাকে সংযত রাখো, তোমার ঘর যেন তোমার জন্য প্রশস্ত হয় (অর্থাৎ পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটাও) এবং নিজের গুনাহের জন্য কাঁদো।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৪০৬)
আজকের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে এই শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।

৫. ভালোবেসে সুন্দর নামে ডাকা
ভালোবাসার ভাষা কখনো কঠোর হতে পারে না। মহানবী (সা.) স্ত্রীদের আদর করে সুন্দর নামে ডাকতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) আমাকে কখনো ‘হুমাইরা’ (লালিমাময়) বলে সম্বোধন করতেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৪৭৪)
এতে দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও মানসিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।

৬. স্ত্রীর সঙ্গে ভালোবাসা ও রোমান্টিক আচরণ
মহানবী (সা.)-এর দাম্পত্য জীবন ছিল ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও সৌন্দর্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি যে স্থানে মুখ রেখে পানি পান করতাম, মহানবী (সা.) ঠিক সেই স্থানেই মুখ রেখে পানি পান করতেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩০০)
এসব ঘটনা প্রমাণ করে, ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা ও আন্তরিকতা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।

৭. স্ত্রীকে নিয়ে ভ্রমণে যাওয়া
দাম্পত্য সম্পর্কে নতুন প্রাণ সঞ্চার করতে একসঙ্গে সময় কাটানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘সফরে যাওয়ার সময় মহানবী (সা.) স্ত্রীদের মধ্যে লটারির ব্যবস্থা করতেন; যার নাম উঠত, তাকেই সঙ্গে নিয়ে যেতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৫৯৩)
এতে বোঝা যায়, স্ত্রীকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়া সময়ের অপচয় নয়; বরং সম্পর্ককে গভীর করার একটি সুন্দর মাধ্যম।

৮. ভালোবাসার স্বাভাবিক প্রকাশ
ইসলাম কখনো স্বামী-স্ত্রীর বৈধ ভালোবাসাকে নিরুৎসাহিত করেনি। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘একবার মহানবী (সা.) তাঁর এক স্ত্রীকে চুম্বন করলেন, তারপর নামাজের জন্য বের হলেন; নতুন করে ওজু করলেন না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৫০২)
এ হাদিস প্রমাণ করে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসার স্বাভাবিক প্রকাশ ইসলামের দৃষ্টিতে প্রশংসনীয়।

আজকের পৃথিবীতে পারিবারিক অশান্তি, বিবাহবিচ্ছেদ এবং মানসিক দূরত্বের অন্যতম কারণ হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সময় ও ভালোবাসার অভাব। অথচ মহানবী (সা.)-এর জীবন আমাদের শেখায়—একজন আদর্শ স্বামী কখনো কর্তৃত্বপরায়ণ হন না; বরং তিনি হন সহযোগী, সহানুভূতিশীল, দয়ালু এবং ভালোবাসাপূর্ণ। তিনি স্ত্রীদের সম্মান দিয়েছেন, তাদের অনুভূতির মূল্য দিয়েছেন, পরিবারের কাজে অংশ নিয়েছেন, প্রশংসা করেছেন, সময় দিয়েছেন এবং ভালোবাসা প্রকাশে কখনো কুণ্ঠাবোধ করেননি। তাই সুখী, শান্তিময় ও বরকতময় দাম্পত্য জীবন গড়তে চাইলে আমাদের প্রত্যেকের উচিত মহানবী (সা.)-এর এই মহান আদর্শকে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করা। কারণ তাঁর দেখানো পথেই রয়েছে পারিবারিক শান্তি, পারস্পরিক ভালোবাসা এবং দুনিয়া-আখিরাতের প্রকৃত সফলতা।

যে চারটি গুণ পরিবারে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বয়ে আনে

মুফতি ওমর বিন নাছির
যে চারটি গুণ পরিবারে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বয়ে আনে
সংগৃহীত ছবি

অনেক মানুষ আছেন, যাদের আয় সীমিত; তবু তাদের সংসারে প্রশান্তি, তৃপ্তি ও সুখের কমতি নেই। আবার কেউ কেউ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও অশান্তি, উদ্বেগ ও অপূর্ণতায় ভোগেন। এই দুই অবস্থার পার্থক্যের নামই হলো ‘বরকত’। ইসলামের দৃষ্টিতে বরকত শুধু অর্থ-সম্পদের প্রাচুর্য নয়; বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, যা অল্পকে অনেক এবং সীমিতকে অর্থবহ করে তোলে। সময়, সম্পদ, জ্ঞান, পরিবার কিংবা স্বাস্থ্যে যখন বরকত আসে, তখন মানুষের জীবন হয়ে ওঠে শান্তিময় ও পরিপূর্ণ। তাই একজন মুমিনের জন্য বরকতের প্রকৃত অর্থ জানা এবং তা অর্জনের পথ অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বরকতের অর্থ- মুসলিম হিসেবে আমরা প্রতিদিনের কথাবার্তা, দোয়া এবং পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ে ‘বরকত’ শব্দটি ব্যবহার করি। সালামের জবাবে বলি, ‘আপনার ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।’ ঈদের দিনে বলি ‘ঈদ মোবারক’। নতুন বিবাহিত দম্পতির জন্যও সুন্নত অনুযায়ী বরকতের দোয়া করা হয়। আরবি ভাষা ও ব্যাকরণবিদদের মতে, ‘বরকত’ শব্দের অর্থ স্থায়িত্ব, দৃঢ়তা, বৃদ্ধি, প্রাচুর্য এবং কল্যাণের ধারাবাহিকতা। সহজ ভাষায়, কোনো কাজে যখন আল্লাহর বরকত থাকে, তখন সামান্য প্রচেষ্টা থেকেও আশাতীত ফল লাভ করা যায়।

বরকতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থ হলো- কল্যাণের ধারাবাহিকতা। অর্থাৎ শুধু প্রাপ্তি নয়, সেই প্রাপ্তির স্থায়িত্ব ও উপকারিতাও বরকতের অন্তর্ভুক্ত। সামগ্রিকভাবে বরকত হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন এক বিশেষ অনুগ্রহ, যা মানুষের জীবনকে কল্যাণময়, অর্থবহ এবং দীর্ঘস্থায়ী সুফলে পরিপূর্ণ করে।

পবিত্র কোরআনের বহু স্থানে ‘বরকত’ শব্দ ও তার বিভিন্ন রূপ এসেছে। মহান আল্লাহ নিজেই কোরআনকে বরকতময় কিতাব হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এটি এমন এক কিতাব, যা আমি নাজিল করেছি; এটি অত্যন্ত বরকতময়।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৯২)

হাদিসে বরকতের প্রকৃত প্রভাব আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করবে, সে একটি নেকি পাবে। আর প্রতিটি নেকি দশ গুণ বৃদ্ধি করে দেওয়া হবে...।’ (তিরমিজি , হাদিস নং : ২৯১০)

এই হাদিস প্রমাণ করে, আল্লাহর বরকত থাকলে সামান্য আমলও বহুগুণ ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে। অনেক সময় মানুষ সম্পদ, সুযোগ-সুবিধা ও বাহ্যিক সফলতা অর্জন করেও অন্তরে শান্তি খুঁজে পায় না। আবার সীমিত আয় ও সাধারণ জীবনযাপন করেও কেউ সুখী ও তৃপ্ত থাকেন। এই পার্থক্যের মূল কারণ হলো বরকতের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি। আর জীবনে বরকত ফিরিয়ে আনার কার্যকর উপায় হলো-

১. আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া : বরকত লাভের প্রথম শর্ত হলো কৃতজ্ঞতা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বৃদ্ধি করে দেব।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৭)
কৃতজ্ঞতা শুধু মুখের কথা নয়; বরং আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতকে তার সন্তুষ্টির পথে ব্যবহার করাও কৃতজ্ঞতার অংশ। তাই তাঁর যে কোনো নেয়ামতের যথাযথ কৃতজ্ঞতা আদায় করা উচিত।

২. দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করা : প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও কিছু সময় আল্লাহর কাছে দোয়ার জন্য নির্ধারণ করা উচিত। বিশেষভাবে তিনটি বিষয়ে বরকতের জন্য দোয়া করা প্রয়োজন— সময়ের বরকত, সম্পদের বরকত ও স্বাস্থ্যের বরকত। সময়ের বরকত কর্মদক্ষতা বাড়ায়, সম্পদের বরকত অভাব দূর করে এবং স্বাস্থ্যের বরকত মানুষকে কর্মক্ষম ও স্বাবলম্বী রাখে।

৩. নামাজকেন্দ্রিক জীবন গড়ে তোলা : পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে কেন্দ্র করে দিনের পরিকল্পনা সাজালে জীবনে শৃঙ্খলা ও আত্মিক প্রশান্তি আসে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৪৫)

৪. আত্মীয়তা ও সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা করা : পরিবার ও সমাজের মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বরকতের অন্যতম মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার রিজিক বৃদ্ধি এবং আয়ুতে বরকত কামনা করে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৫৯৮৬)

এভাবে সুসম্পর্ক, সততা এবং উত্তম আচরণ মানুষের জীবনে আল্লাহর রহমত, বরকত ও নুসরত বয়ে আনে।

অতএব, বরকত এমন একটি নেয়ামত, যা অর্থ দিয়ে কেনা যায় না; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে লাভ করতে হয়। জীবনে বরকত থাকলে অল্প সম্পদেও সুখ থাকে, সীমিত সময়েও কাজ সম্পন্ন হয় এবং সাধারণ জীবনও হয়ে ওঠে প্রশান্তিময়। তাই আমাদের উচিত কৃতজ্ঞতা, নামাজ, দোয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা এবং উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বরকত লাভের চেষ্টা করা। কারণ প্রকৃত সফলতা শুধু বেশি পাওয়া নয়; বরং আল্লাহর দেওয়া সামান্য নিয়ামতের মধ্যেও অসীম কল্যাণ খুঁজে পাওয়ার নামই বরকত।

দুর্বলতা কাটিয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠার দোয়া

ইসলামী জীবন ডেস্ক
দুর্বলতা কাটিয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠার দোয়া
সংগৃহীত ছবি

মানুষ জন্মগতভাবেই দুর্বল। কখনো শারীরিক দুর্বলতা, কখনো মানসিক ভঙ্গুরতা, কখনো রাগ-অহংকার, আবার কখনো কৃপণতা ও সংকীর্ণতা তার চরিত্রকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। এসব দুর্বলতা শুধু ব্যক্তির আত্মিক উন্নতির পথেই বাধা সৃষ্টি করে না, বরং পরিবার, সমাজ ও মানবসম্পর্কেও অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ একজন প্রকৃত মুমিনের কামনা হলো—তিনি যেন শক্ত ঈমানের অধিকারী, কোমল হৃদয়ের মানুষ এবং উদার চরিত্রের অধিকারী হতে পারেন। আর এ জন্য হাদিসে বর্ণিত একটি দোয়া হলো-

 اَللّٰهُمَّ إنّيْ ضَعِيْفٌ فَقَوِّنِيْ وَإِنِّيْ شَدِيْدٌ فَلَيِّنِيْ وَإِنِّيْ بَخِيْلٌ فَسَخِّنِيْ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি দ্বায়িফুন ফা ক্বাওওয়িনি, ওয়া ইন্নি শাদিদুন ফা লায়্যিনি, ওয়া ইন্নি বাখিলুন ফা সাখখিনি। 

অর্থ : ‘হে আল্লাহ আমি দুর্বল, অতএব আমাকে শক্তিশালী করুন। আমি রূঢ়, আমাকে নম্রতা দান করুন। আমি কৃপণ, আপনি আমাকে বদান্যতা দান করুন।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ, হাদিস নম্বর : ৫১৭৯)