বগুড়ার শাজাহানপুরে মুক্তিপণের দাবিতে আট বছরের শিশু রিফাত হোসেনকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপরাধের সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় অপর পাঁচ আসামিকে শিশু আইন অনুযায়ী ১০ বছর করে কারাদণ্ড (আটকাদেশ) দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এবং শিশু আদালত-১ এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. সেলিম ইসলাম, মো. মেহেদী হাসান, মো. রাজু মিয়া ওরফে পাঁচফুল ও মো. সাগর। এর মধ্যে সেলিম ইসলাম ও সাগর পলাতক রয়েছেন। বাকি তিনজন রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অপহরণ ও আলামত গোপনের দায়ে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ঘটনার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ১০ বছর করে কারাদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- মো. সজিব হাসান, মো. মফিজুল ইসলাম ওরফে বাচ্চু মিয়া, মো. জাহিদ হাসান, মো. বোরহান আলী ও মো. বায়েজীদ হোসেন। অপরাধের সময় তারা শিশু হলেও বর্তমানে তাদের বয়স ২৬ বছরের ওপরে। এ কারণে আদালত তাদের বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেকের বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় ভিন্ন ভিন্ন গ্রামে।
জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটখোলা এলাকার প্রবাসী এনামুল হকের ছেলে রিফাত হোসেনকে অপহরণ করেন আসামিরা। প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ এনামুলের কাছে এক লাখ টাকা ধার চেয়ে না পেয়ে এই অপহরণের পরিকল্পনা করেন। পরে মুক্তিপণ দাবি করা হলেও অপহরণের তিনদিন পর ১৮ জুলাই পোয়ালগাছা ব্রিজের নিচ থেকে রিফাতের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় রিফাতের বাবা এনামুল হক বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালীন মাসুদ রানা নামে এক আসামির মৃত্যু হওয়ায় তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়। বাকি ১০ আসামির মধ্যে ৯ জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এদিকে, দীর্ঘ আট বছর পর কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়ে আদালত চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েন রিফাতের স্বজনেরা। এসময় সন্তোষ প্রকাশ করে রিফাতের বাবা এনামুল হক বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এই রায়ে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট। উচ্চ আদালতে যেন এই রায় বহাল থাকে এবং দ্রুত কার্যকর করা হয়। এই রায় যেন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে, যেন আর কোনো বাবা-মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আলী আসগর রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এই রায় সমাজ ও দেশের জন্য একটি মাইলফলক। রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণ করতে পেরেছে। এর মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো এবং অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা যাবে।’






