• ই-পেপার

সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় আর এস ফাহিম ফের গ্রেপ্তার

নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

অনলাইন ডেস্ক
নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই
ফাইল ছবি

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আজ রবিবার বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা না থাকায় আপাতত মুক্তিতে বাধা নেই।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. ফজলুর রহমান, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মামুন মাহবুব ও আইনজীবী কাজী আহসান হাবিব। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খান মো. মইনুল হাসান লিপন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে গত বছরের ৬ আগস্ট অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। 

জুলাই আন্দোলন

শহীদ আবু সাঈদ হত্যার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

অনলাইন ডেস্ক
শহীদ আবু সাঈদ হত্যার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) ৮০৯ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশ করে ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে ৯ এপ্রিল বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ২ পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। ৫ মার্চ উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন আবু সাঈদ। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়।

মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক উপাচার্যসহ ২৪ জন বর্তমানে পলাতক। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

তারা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান, সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন মো. মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামীম। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো, আজিজুর রহমান দুলুসহ আরও কয়েকজন। পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সুজাদ মিয়া।

রায়ের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্তে সন্দেহাতীত ও অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার আশা, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে।

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, প্রসিকিউশন অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে এবং আসামিরা খালাস পাবেন।

আত্মসমর্পণ করছেন আমির হামজা

অনলাইন ডেস্ক
আত্মসমর্পণ করছেন আমির হামজা
আমির হামজা। ফাইল ছবি

আদলতে আত্মসমর্পণ করবেন আলোচিত ইসলামী বক্তা ও সংসদ সদস্য আমির হামজা। সরকারের মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় আজ রবিবার সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করার কথা তার।

সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, আমির হামজা আজ দুপুরে আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করবেন।

এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেন আমির হামজা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হয়।

পরে ২ এপ্রিল মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়। একই দিন আদালত তাকে সমন জারি করে ২১ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ১৭ মে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।

নুসরাত হত্যা

ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে অন্তর্ভুক্ত

অনলাইন ডেস্ক
ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে অন্তর্ভুক্ত
নুসরাত জাহান রাফি

ফেনীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

রবিবার (১৪ জুন) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চের কজলিস্টে মামলাটি যুক্ত হয়।

নারী ও শিশু ধর্ষণ ও হত্যা সংক্রান্ত আলোচিত মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় নুসরাত হত্যা মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানানোয় মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর একই বছরের ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ১৬ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ-দৌলা, সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিনসহ ১৬ জন।

রায়ের পর ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার ডেথ রেফারেন্সসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে পেপারবুক প্রস্তুত ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর মামলাটি শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হয়। প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ নির্ধারণ করেন।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বিচারিক আদালত কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে সেই রায় কার্যকর হওয়ার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এ কারণে ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য মামলাটি হাইকোর্টে আসে। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিলও দায়ের করেছেন।

দীর্ঘদিন পর মামলাটি শুনানির কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।