• ই-পেপার

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা রায়ের পর্যালোচনায় যা বললেন আদালত

শাপলা চত্বরের মামলা

দীপু মনি, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
দীপু মনি, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

এক যুগ আগে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তিন আসামিকে এক দিন করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে বলা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের আবেদনে রবিবার (৭ জুন) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন। গত ১৪ মে এই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিন। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মেজবাহ।

গতকাল এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ) থেকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। আগামী ১০ আগস্ট মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করা হয়েছে বলে কালের কণ্ঠকে জানান প্রসিকিউটর আবসুদ সাত্তার।

২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ দেশের চার জেলায়ে এখন পর্যন্ত ৫৮ জনকে হত্যার তথ্য পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এই ৫৮ জনেরই পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে গত ৫ মে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের সমাবেশে নির্বিচার গুলি চালিয়ে শতাধিক কর্মী হত্যার কথা উল্লেখ ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দেন হেফাজতে ইসলামীর যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক। অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারও আছেন অভিযুক্তের তালিকায়। এ মামলায় গ্রেপ্তার আছেন আরো পাঁচ আসামি। তারা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির। গত বছর ১৪ মে ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে গত ৫ এপ্রিল আবদুল জলিল মণ্ডলকে এ মামরায় জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল।

সাংবাদিক দম্পতি শাকিল-রূপার জামিন স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাংবাদিক দম্পতি শাকিল-রূপার জামিন স্থগিত

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগের ১০ মামলায় সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপাকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে রবিবার (৭ জুন) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত এই আদেশ দেন।

এর আগে গত ১১ মে এসব মামলায় শাকিল-রূপাকে জামিন দিয়েছিলেন বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জ্যেতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ অনীক রুশদ হক। সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আল আমিন।

একাত্তর টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান ছিলেন শাকিল আহমেদ। ফারজানা রুপা ছিলেন প্রধান প্রতিবেদক। চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের তিন দিন পর তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় একাত্তর টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ। পরে ওই বছরের ২১ আগস্ট দেশ ছেড়ে যাওয়ার সময় তাদের ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করে পুলিশ। এর পর থেকে তারা কারাগারে।

হাদি হত্যার অধিকতর তদন্ত ১৫  বার পেছাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
হাদি হত্যার অধিকতর তদন্ত ১৫  বার পেছাল
সংগৃহীত ছবি

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১৫তম বারের মত পিছিয়ে আগামী ১৭ জুন ধার্য করেছেন আদালত।  রবিবার (৭ জুন) তদন্ত সংস্থা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো (পূর্ব)-এর সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন  ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ দিন ধার্য করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। কিন্তু অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ।

গত ১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য ছিল। আবদুল্লাহ আল জাবের সেদিন অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুদিন সময় চান। আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করেন। ‎ওইদিন ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি দাখিল করেছেন মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

আরো পড়ুন
দামুড়হুদা সীমান্তে মাদকের বড় চালান জব্দ

দামুড়হুদা সীমান্তে মাদকের বড় চালান জব্দ

 

‎জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি হামলার শিকার হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে।

তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

আরো পড়ুন
ভ্যানে বস্তায় নিয়ে যাচ্ছিলেন গাঁজা, পুলিশের তল্লাশিতে আটক চালক

ভ্যানে বস্তায় নিয়ে যাচ্ছিলেন গাঁজা, পুলিশের তল্লাশিতে আটক চালক

 

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন- প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার  মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। তাদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ জানান, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে বোঝা গেছে, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই’ হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘বাধাগ্রস্ত করতে’ এবং ভোটারদের মধ্যে ‘ভয়ভীতি তৈরি করতেই’ আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনি প্রচারে অনুপ্রবেশ করে বলে অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়।

রামিসা হত্যা মামলার রায় বিচারিক প্রক্রিয়ার মাইলফলক : অ্যাটর্নি জেনারেল

অনলাইন ডেস্ক
রামিসা হত্যা মামলার রায় বিচারিক প্রক্রিয়ার মাইলফলক : অ্যাটর্নি জেনারেল
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ ও স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) এ রায় প্রদান করা হয়। মৃত্যুদণ্ডের এ রায়কে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাইলফলক বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রবিবার শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আরো পড়ুন
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় সুখবর

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় সুখবর

 

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় রাষ্ট্রের সব যন্ত্র সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে বলে এত দ্রুত বিচার করা সম্ভব হয়েছে। এত কম সময়ে শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার বিচার সম্পন্ন করে রাষ্ট্র তার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছে।’

এদিন সকালে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত।