• ই-পেপার

বায়ার্নে সাইবারি

কেইনের পায়ে সোনালি গল্প

রানা শেখ
কেইনের পায়ে সোনালি গল্প

আটলান্টার বিশাল ডোম স্টেডিয়ামে যেন পুরো ম্যাচটাই ঝুলছিল অনিশ্চয়তার মিহি সুতায়। বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে ইংল্যান্ড তখন ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে। সময় যত গড়াচ্ছিল, ততই গাঢ় হচ্ছিল শঙ্কার মেঘ। মনে হচ্ছিল, আরেকটি বড় টুর্নামেন্ট থেকে হয়তো শূন্য হাতেই ফিরতে হবে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। গ্যালারিতে ইংলিশ সমর্থকদের চোখেমুখে জমছিল চাপা উদ্বেগের ঘন মেঘ। কেউ দুই হাত শক্ত করে জড়িয়ে বসে আছে, কেউ আবার দৃষ্টি নামিয়ে চুপচাপ তাকিয়ে আছে মাঠের দিকে। যেন নীরব প্রার্থনায় ডুবে গিয়েছিল পুরো স্টেডিয়াম। প্রতিটি ভুল পাসে বেরিয়ে আসছিল দীর্ঘশ্বাস, প্রতিটি ব্যর্থ আক্রমণে উঠছিল হাহাকারের সুর। ঠিক এমনই এক দমবন্ধ মুহূর্তে হঠাৎ করেই আলোর মতো হাজির হলেন হ্যারি কেইন। অ্যান্টনি গর্ডনের নিখুঁত ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠিয়ে ইংল্যান্ডকে ফিরিয়ে আনলেন সমতায়। মুহূর্তেই বদলে গেল স্টেডিয়ামের আবহ। গ্যালারিতে ইংলিশ সমর্থকরা দুই হাত আকাশে তুলে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেল, বিশ্বাসের শিখা আবার জ্বলে উঠল। এই দল এখনো শেষ হয়নি। আরো কিছুক্ষণ পর সেই অনিশ্চয়তার শেষ সুতাও ছিঁড়ে দিলেন কেইন। তাঁর ঠাণ্ডা মাথার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড, সেই সঙ্গে বেঁচে রইল বিশ্বকাপস্বপ্নও।

দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ইংল্যান্ডকে এভাবেই টেনে নিয়ে চলেছেন হ্যারি কেইন। ইংল্যান্ডের ইতিহাসে নতুন করে নাম খোদাই করে ইংলিশ অধিনায়ক যেন আবারও নিজের সেই চেনা গল্পটাই লিখলেন। মেজর টুর্নামেন্টে তাঁর গোল এখন ২০টি, আর বিশ্বকাপে ১৩টি। তিনি গত পরশু রাতে ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলেকে। ক্লাব ও দেশের হয়ে চলতি মৌসুমে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ৭২। আর ইংলিশ জার্সিতে ৮৪, যা সর্বোচ্চ। ২০১৮ বিশ্বকাপে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জয়ের স্মৃতি এখনো তাজা কেইনের। সেই একই মঞ্চে এবার তিনি আবারও সমান ছন্দে, চার ম্যাচে করেছেন ৫ গোল। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পেদের সঙ্গে ছুটছেন কেইনও। অসম্ভব চাপের এক ম্যাচ শেষে আবারও ধরা দিল সেই পরিচিত দৃশ্যসতীর্থদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, ইংলিশ সমর্থকদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে কেইন গাইলেন ওয়েসিস-এর কালজয়ী গান ওয়ান্ডার ওয়াল। গ্যালারির আলো আর আবেগে ভেসে থাকা মুহূর্তে তাঁকে দেখা গেল জার্সির ব্যাজে চুমু খেতে।

পরে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে কেইন বলেন, এটা (দলকে জেতানো) করতে পেরে অসাধারণ লাগছে। কী পাগলাটে একটা ম্যাচ! প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের পরই মনে হয়েছিল আমরা খেলার মান বাড়িয়েছি, আমরা ভালো খেলছিলাম। তাদের গোলরক্ষক প্রথমার্ধে অবিশ্বাস্য কিছু সেভ করেছে। তখন আমাদের মানসিকতা ছিল একটাইধাক্কা দিয়ে যেতে হবে, বারবার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, সুযোগ আসবেই। আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলেছিলামএই ম্যাচে যে কেউ হিরো হতে পারে। আমি, পিকফোর্ডের সেভ, ডিফেন্ডারদের ব্লকযে কেউ। খেলায় ম্যাচজয়ী মুহূর্ত থাকে, আর আজ সেটা আমার দিন ছিল।

কেইনের পায়ে সোনালি গল্পশুধু গোলসংখ্যা দিয়ে কেইনের শ্রেষ্ঠত্ব মাপা যায় না। আধুনিক ফুটবলে একজন পূর্ণাঙ্গ স্ট্রাইকারের যা যা গুণ থাকা দরকারনিখুঁত ফিনিশিং, দুই পায়ে সমান দক্ষতা, বল ধরে রেখে সতীর্থদের খেলায় যুক্ত করার সামর্থ্য, চাপের মুহূর্তে নেতৃত্ব দেওয়া এবং বড় ম্যাচে জ্বলে ওঠার মানসিকতাসবকিছুই আছে তাঁর খেলায়। তিনিই ইংলিশদের হূিপণ্ড। কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচটিও তার আরেকটি প্রমাণ। যখন দল খাদের কিনারায়, তখনই দুই গোল করে ইংল্যান্ডকে টেনে তুলেছেন কেইন। কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ মেক্সিকো। আজতেকায় স্বাগতিকদের বিপক্ষেও হয়তো জ্বলে উঠবেন কেইন। আর গ্যালারির কোথাও থেকে আবার ভেসে উঠবে সেই বিখ্যাত গানের লাইন, ইটস কামিং হোম।

 

বাবা হারালেন কঙ্গো কোচ

বাবা হারালেন কঙ্গো কোচ

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রাউন্ড অব থার্টিটু-তে হারার কষ্ট কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন দুঃসংবাদ সঙ্গী হয়েছে ডিআর কঙ্গো কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাবারের। বাবা হারিয়েছেন দেসাবার। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের মধ্যেই খবরটি জানতে পারেন দেসাবার। কয়েক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন ৪৯ বছর বয়সী এই কোচ। দেসাবারের অধীনে বিশ্বকাপে স্মরণীয় ফুটবল খেলেছে ডিআর কঙ্গো। রয়টার্স

 

টিভিতে

টিভিতে

অন্যান্য চ্যানেল

ক্রিকেট

ওয়েস্ট ইন্ডিজ-শ্রীলঙ্কা

ওয়েস্ট ইন্ডিজ-শ্রীলঙ্কা, দ্বিতীয় টেস্ট সরাসরি, রাত ৮টা, ফ্যানকোড

 

কথামালা

কথামালা

আমার কাছে এটা (বালোগান) কোনোভাবেই লাল কার্ড নয়। প্রতিপক্ষকে আঘাত করার কোনো ইচ্ছাই ওর ছিল না। বলের জন্য লড়াই করতে গিয়ে ফুটবলে এমন ঘটনা ঘটতেই পারে।

যুক্তরাষ্ট্র কোচ

মরিসিও পচেত্তিনো

 

 

 

আমার সত্যিই মনে হয় না এটা পেনাল্টি (বেলজিয়াম-সেনেগাল ম্যাচে)। তিয়েলেমানস যদি আগে বলে স্পর্শ করতেন, এরপর লাথি খেতেন, তাহলে পেনাল্টি দেওয়া যেত।

সাবেক ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার

 গ্যারি নেভিল

 

 

এমন পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ী হওয়া পুরো দলকে এক সূত্রে বাঁধতে পারে এবং তাদের এটা উপলব্ধি করাতে পারে যে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত যেকোনো কিছুই সম্ভব।

 

বেলজিয়াম কোচ

 

রুদি গার্সিয়া

 

 

তিনি (হ্যারি কেইন) এমন একটি মৌসুম কাটাচ্ছেন, যা শুধু সর্বকালের সেরা ফুটবলার লিও মেসিই ছাড়িয়ে যেতে পেরেছেন। এটা থেকেই বোঝা যায় তিনি কোন স্তরে খেলছেন।

 

ইংল্যান্ড ফরোয়ার্ড

অ্যান্থনি গর্ডন

 

 

আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর বিপক্ষে আমাদের জন্য অনেক অনেক বাধা অপেক্ষা করে থাকবে। উচ্চতার কথা তো বাদই দিলাম, যেটা অবশ্যই আমাদের জন্য একটা বড় অসুবিধা হবে।

ইংল্যান্ড কোচ

টমাস টুখেল

 

দুর্ভাগ্যবশত ম্যাচটি আমাদের হাত থেকে ফসকে গেছে। এটাই ফুটবল, এটা নির্মম, এটা মোটেও সহজ নয়। কিন্তু আপনাকে তা মেনে নিতেই হবে, তা যতই কঠিন হোক না কেন।

সেনেগাল কোচ

পাপে থিয়াও