• ই-পেপার

টি-স্পোর্টস

নিঃশব্দে ইতিহাস লেখা নীল তলোয়ার

নাজমুস সায়াদাত
নিঃশব্দে ইতিহাস লেখা নীল তলোয়ার

তাদের ডাকনামের মধ্যে একটি ডাকাবুকো ব্যাপার আছে। ব্লু সামুরাই বা নীল তলোয়ার নাম শুনলেই প্রতিপক্ষকে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলতে জানা এক দলের ছবিই আঁকতে চাইবেন সবাই। তবে নামে বিধ্বংসী শোনালেও জাপান সে রকম নয়। বরং শক্তি আর কৌশলের সঙ্গে শৃঙ্খলার মিশেলে ফুটবল মাঠে সৃষ্টিশীলতার গল্পই লিখতে জানে তারা। হ্যাঁ, তাদের ফুটবল খেলার ধরন ব্রাজিলের মতো ছন্দোময় নয়। আবেগময় নয় আর্জেন্টিনার মতো। কিংবা ফ্রান্সের মতো নয় তারকাখচিতও। কিন্তু ৯০ মিনিট শেষে স্কোরলাইন যখন দেখায় যে কোনো ফুটবল পরাশক্তি মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়ছে, তখন বোঝা যায় এই তলোয়ার কখনো শব্দ করে না, শুধু নিঃশব্দে ইতিহাস লিখে যায়। যেমনটি লিখেছিল কাতার বিশ্বকাপেও। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে নীরবে শাণ দেওয়া সেই তলোয়ারের ধারও জানান দিয়েছিল জাপান।

চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত শুরু করেছে জাপান। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে তিনবারের রানার্স আপ নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে তারা সতর্কবার্তা দিয়েছে যে এবারের জাপানকেও ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। তিউনিশিয়ার বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ৪-০ গোলের জয়ে আছে তাদের দারুণ ছন্দে থাকার ঘোষণাও। স্বপ্ন আর বাস্তবতা যদি এক সুতায় গাঁথা হয়, তাহলে ব্লু সামুরাইদের উত্থান স্বপ্নভঙ্গের কারণ হতে পারে বড় কোনো দলেরও।

জাপানের ফুটবলে কোনো সুপারস্টার নেই। শৃঙ্খলাই তাদের শক্তি। ছোটবেলা থেকেই খেলোয়াড়দের শেখানো হয়, দল আগে, আমি পরে। জাপান ফুটবলের সংস্কৃতিটাই এমন যেন রক্ষণে সবাই প্রহরী, আক্রমণে সবাই সৈনিক। যে ফুটবলে অহংকারের জায়গা কম, আছে শুধুই দায়িত্ববোধ। মাঠে তারা যতটা সংগঠিত, মাঠের বাইরেও ঠিক ততটাই। কাতার বিশ্বকাপে ম্যাচ শেষে নিজেদের ড্রেসিংরুম পরিষ্কার করা কিংবা গ্যালারি পরিষ্কার করা জাপানি সমর্থকদের পৃথিবী মনে রাখবে অনেক দিন। বর্তমানে জাপানের জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বড় অংশই ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলেন। ফলে বিশ্বকাপে তাঁরা আর বড় দলের নাম দেখে ভয়ও পান না। কারণ নিয়মিত বড় দলের তারকাদের পক্ষে-বিপক্ষেই মাঠে নেমে থাকেন তাঁরা। এই অভিজ্ঞতাই জাপানকে চলতি আসরে এনে দিতে পারে বড় সাফল্য। শেষ চার বিশ্বকাপের তিনটিতেই শেষ ষোলোতে থামতে হয়েছে জাপানকে। তবে চলতি বিশ্বকাপে দারুণ শুরু করা হাজিমে মোরিয়াসুর দল এবার শেষ ষোলো পেরিয়ে যেতে চায় শেষ আট বা শেষ চারে। আসরের প্রথম দুই ম্যাচে জাপান কম ভুল করে পরিস্থিতি বুঝে খেলার চেষ্টা করেছে। দেখে মনে হয়েছে, ফুটবল যেন দাবার বোর্ডের এক নিখুঁত চাল। কখন প্রেস করবে, কখন ধীরে খেলবে, কখন কাউন্টার করবেসবকিছুই পরিকল্পিত। প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ নিতে তারা যেন দক্ষ শিকারি। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টিভি পর্দায় দেখতে পাওয়া হোয়াইট বোর্ডে জাপান ম্যানেজারের সেই আঁকিবুঁকি আর ম্যাচের ফল তাদের নিঁখুত পরিকল্পনাই তুলে ধরে। একই ধারাবাহিকতায় তিউনিশিয়ার বিপক্ষেও এসেছে বড় জয়, যা শুধু জয় নয়, যেন শৃঙ্খলা, পরিকল্পনা ও ধৈর্যেরও জয়। কে বলতে পারে, এই তিনে মিলে এবার নিঃশব্দে নতুন কোনো ইতিহাস লিখবে না নীল তলোয়ার?

টিভিতে

টিভিতে

অন্যান্য চ্যানেল

ক্রিকেট

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা

হাইলাইটস, সকাল ৯-৩০ মিনিট, স্টার স্পোর্টস ২

মেজর লিগ ক্রিকেট

টেক্সাস সুপার কিংস-এমআই নিউইয়র্ক

সরাসরি, সন্ধ্যা ৬-৩০ মিনিট, স্টার স্পোর্টস ২

 

কথামালা

কথামালা

আমি সব ম্যাচ দেখছি। আর্জেন্টিনা যেভাবে বিশ্বকাপ শুরু করেছে, তাতেই বোঝা যায়, সত্যি সত্যিই তারা শিরোপা ধরে রাখতে চায়।

নেদারল্যান্ডস ডিফেন্ডার

ভার্জিল ফন ডাইক

 

এই সিদ্ধান্তের আগে (হাইড্রেশন ব্রেক) ফুটবলের একটা নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ছিল। মানুষ ফুটবলের সেই পুরনো বৈশিষ্ট্যের প্রেমে পড়েই খেলাটাকে ভালোবেসেছিল।

উরুগুয়ে কোচ

মার্সেলো বিয়েলসা

 

এটা বিশ্বকাপে আমাদের দ্বিতীয় খেলা, অনেক চিন্তা কাজ করেছে। এমন এক ম্যাচে আমরা জিততে পেরেছি, সে জন্য আমি অনেক খুশি।

জাপান কোচ

হাজিমে মোরিয়াসু

 

প্রথম ম্যাচে আমরা ৭-১ ব্যবধানে হারার পরও দর্শকরা খেলোয়াড়দের স্বাগত জানিয়ে উচ্ছ্বাস করেছে। আজ সিংহের মতো লড়ে সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিয়েছে দল।

কুরাসাও কোচ

ডিক অ্যাডভোকাট

 

সমালোচনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে ক্রিস্তিয়ানোর যে সক্ষমতা রয়েছে, তা সম্পর্কে সবাই অবগত। মানুষজন যা-ই আলোচনা করুক না কেন, সমালোচনা সব সময়ই তার চারপাশের অংশ।

পর্তুগাল ডিফেন্ডার

দিয়েগো দালত

 

তারকা খেলোয়াড় ও তাদের দল নিয়ে এ রকম গুজব (কোচের সঙ্গে দ্বন্দ্ব) ছড়িয়েই থাকে। সালাহ এমন একজন ফুটবলার যে নিয়মের ভেতর থাকতে পছন্দ করে।

মিসর কোচ

হোসাম হাসান

৬৮ বছরের মধ্যে দ্রুততম ১০০ গোল

৬৮ বছরের মধ্যে দ্রুততম ১০০ গোল

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে মাত্র ৩৩ ম্যাচেই হয়ে গেছে ১০০ গোল। শততম গোলটি করেছেন নেদারল্যান্ডসের স্ট্রাইকার কোডি গাকপো। শনিবার রাতে সুইডেনের বিপক্ষে গোল করে এই বিশ্বকাপের শততম গোলদাতা হয়ে যান তিনি। এতে করে চলমান ২৩তম বিশ্বকাপে ম্যাচপ্রতি গোলের গড় দাঁড়িয়েছে ৩.০৯। গত ৬৮ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে এবারই হয়েছে দ্রুততম ১০০ গোল। সার্বিকভাবে এটি বৈশ্বিক আসরে দ্বিতীয় দ্রুততম ১০০ গোলের মাইলফলক। 

৬৮ বছরের মধ্যে দ্রুততম ১০০ গোলএত গোল হওয়ার কারণ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। দুটি কারণ এরই মধ্যে উঠে এসেছে। প্রথমত এবার বিশ্বকাপে সর্বাধিক ৪৮ দল অংশ নিচ্ছে। এতে বেশ কয়েকটি দলের মধ্যে শক্তিমত্তার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। দ্বিতীয়ত, এবার অ্যাডিডাসের যে ট্রাইওন্ডা বল ব্যবহার করা হচ্ছে, তার গতিপথ বুঝে উঠতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, এমন দাবিও করেছেন কয়েকজন গোলরক্ষক। সেনেগালের বিপক্ষে কিলিয়ান এমবাপ্পে তাঁর দ্বিতীয় গোলটি করেন ৩০ গজ দূর থেকে। এটিই চলতি আসরের সবচেয়ে দূর থেকে করা গোল। এ নিয়ে সেনেগালের গোলরক্ষক এডোয়ার্ড মেন্ডি বলের গতিপথ বুঝতে সমস্যার কথা বলেন। এই বিশ্বকাপে কয়েকটি ম্যাচে বেশি গোল দেখা গেছে। জার্মানি ৭-১ গোলে কুরাসাওকে, সুইডেন ৫-১ গোলে তিউনিশিয়াকে, কানাডা ৬-০ গোলে কাতারকে, নেদারল্যান্ডস ৫-১ গোলে সুইডেনকে হারিয়েছে। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপেও মাত্র ৩৩ ম্যাচেই ১০০ গোল হয়েছিল। তবে দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ডটি হয়েছিল তারও চার বছর আগে, ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে। মাত্র ২০ ম্যাচেই শতগোল দেখে ফেলেছিল আসরটি। ওই আসরে ২৬ ম্যাচে হয় ১৪০টি গোল, যার গড় ম্যাচপ্রতি ৫.৩৮। বিবিসি