রাজধানীর আদাবরে স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. আবুল বাশার বাদশা মিয়া হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের একাধিক সক্রিয় গ্রুপের তথ্য পাচ্ছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এসব গ্রুপ মাদক কারবার, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডেও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর কালের কণ্ঠকে বলেন, বিএনপি নেতা বাদশা মিয়া হত্যাকাণ্ডে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জড়িত। তিনি বলেন, এলাকায় কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ। গতকাল বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শায়েব, আরমান ও নয়নকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বুধবার আদাবর থানার নবোদয় হাউজিং এলাকায় ধারালো অস্ত্রের হামলায় গুরুতর আহত হন স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. আবুল বাশার বাদশা মিয়া (৪৫)। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তদন্তে জানা গেছে, ব্রাজিলের ফুটবল ম্যাচে জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে ওই ঘটনার জেরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় একটি বৈঠক বসে। বৈঠক শেষে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বাদশা মিয়াসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্রের হামলার শিকার হন। আহত সাদ্দাম বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর-আদাবর জোনের এডিসি জুয়েল রানা বলেন, ঘটনার পর সাদ্দাম আদাবর থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। তবে তদন্তে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।
র্যাব ও পুলিশ সূত্র জানায়, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন একটি হালনাগাদ তালিকা করেছে। সেই তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে দেশে কিশোর গ্যাংয়ের ৩৩৯টি গ্রুপ সক্রিয়।
তিনজনকে ছুরিকাঘাত : গত শুক্রবার রাতে মহাখালী ওয়্যারলেস গেটের শিশু মেলা স্কুলের সামনে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের তিনজন ছুরিকাহত হন। আহতরা হলেন সুমন মিয়া, তাঁর স্ত্রী সোনিয়া ও সোনিয়ার ভাই রাসেল। বনানী থানার এসআই মো. জানে আলম বলেন, এ ঘটনায়ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।