দেশে হামের প্রকোপ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ৯১৫ জন। নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১১৭ জনের। নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৪৭ জন। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে দেশে ৫২২টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৯১ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা ৬১৩।
তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৭৭ হাজার ৭৯১ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে ৬৩ হাজার ১৩৪ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। তবে আশার খবর হলো, চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ৫৮ হাজার ৯৬৪টি শিশু হাসপাতাল ছেড়েছে। একই সময়ে ৯ হাজার ৬২০টি শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস কিছুটা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা গড়ে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ জনের মধ্যে ছিল। বর্তমানে তা এক হাজার ১০০-এর কাছাকাছি নেমে এসেছে। ঈদের আগে ও পরে সংক্রমণের হার কিছুটা কমেছে, যা ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে।
তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি পরিচালিত টিকাদান কর্মসূচির পূর্ণ প্রভাব দেখতে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ টিকা নেওয়ার পর শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সাধারণত দুই থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে।
প্রভাত চন্দ্র বলেন, টিকা গ্রহণের পরও কেউ হামে আক্রান্ত হতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা ও জটিলতা অনেকটাই কমে যায়। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে জুনের মাঝামাঝি থেকে পরিস্থিতির আরো উন্নতি হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, সংক্রমণ কমার লক্ষণ দেখা গেলেও পরিস্থিতিকে এখনই স্বাভাবিক বলা যাবে না। টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর না দিলে হামের বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আশাবাদের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবু জামিল ফয়সাল। তিনি বলেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে এখনই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। মে মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে আসা রোগী কিংবা ভর্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। ফলে বাস্তব পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর মতে, টিকাদান কর্মসূচিতে প্রয়োজনীয় মাইক্রো-প্ল্যানিংয়ের ঘাটতি ছিল। অনেক এলাকায় কাঙ্ক্ষিত টিকা কভারেজ নিশ্চিত করা যায়নি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জনসচেতনতা ও প্রচারের অভাবে অনেক অভিভাবক সময়মতো শিশুদের টিকা দিতে পারেননি।