• ই-পেপার

বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করুন

প্যারাসিটামল নিয়ে চাই সতর্কতা

প্যারাসিটামল নিয়ে চাই সতর্কতা

সামান্য মাথা ব্যথা বা একটু জ্বর জ্বর ভাব? কোনো চিন্তা না করেই আমরা পকেট থেকে বের করে খেয়ে নিচ্ছি একটি প্যারাসিটামল। মুড়ি-মুড়কির মতো ওষুধ কেনার এই সহজলভ্যতা আমাদের সাময়িক আরাম দিলেও অজান্তেই ঠেলে দিচ্ছে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে।

প্যারাসিটামল সেবনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু সতর্কতা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যারা নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণ করে বা যাদের লিভারে আগে থেকেই সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য প্যারাসিটামল অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রতিবার ওষুধ সেবনের মাঝে অন্তত চার থেকে ছয় ঘণ্টার ব্যবধান রাখা বাঞ্ছনীয়। এই নিয়মের ব্যতিক্রম হলে এবং মাত্রাতিরিক্ত প্যারাসিটামল গ্রহণ করলে লিভার ও কিডনি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বাংলাদেশে ওষুধ (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৮২ অনুযায়ী, প্রেসক্রিপশন ছাড়া নির্দিষ্ট ওষুধ বিক্রি নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে এই আইন কার্যত উপেক্ষিত। সাধারণ মানুষের এই অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ কেনার প্রবণতা বন্ধে এবং ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

সোমনা আক্তার

শিক্ষার্থী, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ

সড়কে বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ করুন

সড়কে বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ করুন

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন বহু মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। দেখা গেছে, এসব দুর্ঘটনার পেছনে অন্যতম কারণ বেপরোয়া গতি। হাইওয়েতে বাস ছুটছে ১২০-১৩০ কিমি বেগে, আর শহরের ৩০ কিমি জোনে মোটরসাইকেল চলছে ৭০ কিমি বেগে। এই গতির নেশায় চালক মুহূর্তেই হারাচ্ছে নিয়ন্ত্রণ, আর তার খেসারত দিতে হচ্ছে নিরীহ পথচারী, রিকশাচালক আর স্কুলগামী শিশুদের। এমনকি চালক নিজেকেও। স্কুল-কলেজ, হাসপাতালের সামনেও গাড়ির গতি কমছে না। গতি নিয়ন্ত্রণের আইনও রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর প্রয়োগ চোখে পড়ে না। স্পিড গান, সিসি ক্যামেরা, স্বয়ংক্রিয় জরিমানার কথা আমরা কাগজে-কলমেই শুনি। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ, জনস্বার্থে এখনই সব সড়কে ডিজিটাল স্পিড মনিটরিং বাধ্যতামূলক করুন। ওভারস্পিডিং করলে কঠোর জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের নিয়ম চালু করুন। একই সঙ্গে স্কুল, হাসপাতাল ও বাজার এলাকায় স্পিডব্রেকার ও সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড বসান এবং চালকদের মানসিক স্বাস্থ্য ও গতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করুন।

মুহাম্মদ শাফায়াত হুসাইন

শিক্ষার্থী, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ, কুষ্টিয়া

অবিলম্বে সড়কের সংস্কার চাই

অবিলম্বে সড়কের সংস্কার চাই

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার হাতেম আলী সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে করুণ দশায় থাকলেও সংস্কার হচ্ছে না। পৌর শহরের এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করে। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন গৌরীপুর পাইলট বালিকা, আরকে স্কুল, ইসলামাবাদ সিনিয়র মাদরাসা, পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহিলা ডিগ্রি কলেজ ও অগ্রদূত হাই স্কুলের শিক্ষার্থীসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও মহল্লার বাসিন্দারা চলাচল করে। কিন্তু সহজ রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে পুকুরের ময়লা পানি আসে এই সড়কে। এ সময় বাসাবাড়ির শৌচাগারের ময়লাও সড়কে চলে আসে। এদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ ভাঙা ইটের টুকরা ও মাটি দিয়ে সড়কটির মেরাতম করলেও তা সাময়িক। এতে স্থায়ী কোনো সমাধান হয় না। এলাকার বহুল ব্যবহৃত এই সড়কটির দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। কোনো জোড়াতালি দিয়ে কাজ করলে হবে না, এখানে টেকসই ও পরিকল্পিত সংস্কারমূলক কাজ করতে হবে। এ জন্য গৌরীপুর পৌর কর্তৃপক্ষ ও উপজেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মো. হারুন মিয়া

গৌরীপুর, ময়মনসিংহ

শব্দদূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

শব্দদূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

বর্তমান সময়ে শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহর থেকে গ্রামসবখানেই এর প্রকোপ বাড়ছে। আধুনিকতার নামে সবজি বিক্রেতা, ফেরিওয়ালা, এমনকি ভিক্ষুক পর্যন্ত উচ্চ শব্দে রেকর্ড বাজিয়ে চলছে। অলিগলিতে প্রতিনিয়ত চলছে শব্দ সন্ত্রাস। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, মাথা ব্যথা, অনিদ্রা, মনোযোগের অভাব ও মানসিক চাপ বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ ও অন্তঃসত্ত্বা নারী। সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০২৫ কার্যকর হয়েছে। সেখানে রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মাইক-লাউডস্পিকার নিষিদ্ধ এবং অনুষ্ঠানে অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বিধিমালা মানা হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত আবেদন, শব্দদূষণের ভয়াবহতা বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুন। স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির ও হাটবাজারে জনসচেতনতার জন্য ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০২৫-এর কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

আল ইমরান

শিক্ষার্থী, আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ