• ই-পেপার

বিনিয়োগ টানতে রোড শো যুক্তরাষ্ট্র-সিঙ্গাপুরে

ইকোনমিস্টের মূল্যায়ন

ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহর

প্রতিবছরের মতো এবারও বৈশ্বিক বাসযোগ্যতা সূচক প্রকাশ করেছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। বিশ্বের ১৭৩টি শহরের ওপর পরিচালিত এই জরিপে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরগুলোর একটি হিসেবে স্থান পেয়েছে ঢাকা। গত বছরের মতো এবারও তালিকায় বাংলাদেশের রাজধানীর অবস্থান ১৭১তম।

ইআইইউর গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬-এ দেখা গেছে, ঢাকার মোট স্কোর ৪২। ঢাকার নিচে রয়েছে শুধু ত্রিপোলি ও দামেস্ক। তালিকায় ত্রিপোলির অবস্থান ১৭২তম এবং দামেস্ক রয়েছে সর্বশেষ ১৭৩তম স্থানে। মূলত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগকে সহায়তা এবং প্রবাসী কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণে এই সূচক প্রকাশ করে ইআইইউ। ইআইইউ শহরগুলোর বাসযোগ্যতা মূল্যায়নে পাঁচটি সূচক বিবেচনায় নিয়েছে স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক বছর ধরেই বাসযোগ্যতার সূচকে ধারাবাহিকভাবে তলানির দিকে রয়েছে ঢাকা।

এবার বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের স্বীকৃতি পেয়েছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন। টানা দ্বিতীয়বারের মতো শীর্ষস্থান ধরে রাখা শহরটির মোট স্কোর ৯৮। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা, তৃতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। উত্তর আমেরিকার একমাত্র শহর হিসেবে কানাডার ভ্যাংকুভার নবম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বের বৃহৎ মহানগরগুলোর মধ্যে জাপানের টোকিও একমাত্র শহর, যা শীর্ষ দশে রয়েছে। ইআইইউর মতে, যানজট, জনঘনত্ব ও অপরাধপ্রবণতার মতো কারণে বড় শহরগুলোর বাসযোগ্যতার স্কোর সাধারণত কমে যায়।

২০১৩ সাল থেকে বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরের অবস্থান ধরে রেখেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। শহরটির স্কোর ৩১.৬। এর ঠিক ওপরে, ১৭২তম অবস্থানে রয়েছে লিবিয়ার ত্রিপোলি। ৪১.৭ স্কোর নিয়ে ১৭১তম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। আর পাকিস্তানের করাচি রয়েছে ১৭০তম স্থানে।

সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি শহরের র‌্যাংকিংয়ে। ইরানি ড্রোন হামলার পর ওমানের রাজধানী মাস্কাট ১৪ ধাপ পিছিয়ে ১২৩তম স্থানে নেমে গেছে। একইভাবে কাতারের দোহা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এবং আবুধাবির অবস্থানও কয়েক ধাপ নিচে নেমেছে। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, এ বছর এশিয়ার শহরগুলোর সামগ্রিক অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে চীন ও জাপানের বিভিন্ন শহরের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কারণে এশিয়ার গড় স্কোর ০.৩ পয়েন্ট বেড়েছে। বর্তমানে এশিয়ার ৫৮টি শহরের গড় স্কোর দাঁড়িয়েছে ৭৩.৯, যা পূর্ব ইউরোপের গড় স্কোরের চেয়েও বেশি। তবে ঢাকার মতো সবচেয়ে অনুন্নত শহরগুলোর ধারাবাহিক কম স্কোর এশিয়ার সামগ্রিক গড়কে নিচের দিকে টেনে ধরেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি বিনিয়োগের কারণে চীনের শহরগুলো স্বাস্থ্যসেবা খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। দেশটি এমন একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, যাতে প্রতিটি নাগরিক ১৫ মিনিট হাঁটার দূরত্বের মধ্যেই চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন। তবে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা, পরিবেশগত সমস্যা এবং গণতান্ত্রিক ঘাটতির কারণে চীনের শহরগুলোর সামগ্রিক বাসযোগ্যতার র‌্যাংকিং প্রত্যাশিত হারে উন্নতি করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় পাঁচ শহর হলো ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন, ভিয়েনা, মেলবোর্ন, সিডনি ও জুরিখ। এই তালিকায় ইউরোপের শহরগুলোর আধিপত্যের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স প্রতিফলিত হয়েছে।

টানা দুই বছর ধরে তালিকার শীর্ষে আছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন। শহরটি স্থিতিশীলতা, শিক্ষা ও অবকাঠামোয় ১০০ তে ১০০ পেয়েছে। পাশাপাশি, সংস্কৃতি ও পরিবেশ স্কোরেও ওপরের দিকেই ছিল এই শহরটির অবস্থান। তালিকার তলানিতে থাকা শহরগুলো হলো তেহরান, হারারে, কিয়েভ, পোর্ট মোর্সবি, লাগোস, আলজিয়ার্স, করাচি, ঢাকা, ত্রিপোলি ও দামেস্ক। প্রতিবেদনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভও বাসযোগ্যতার সূচকে ঢাকার চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে রয়েছে। সূত্র : রয়টার্স

ডিজিটাল জালিয়াতিতে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

পাবলিক পরীক্ষা আইনের সংশোধনী বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিজিটাল জালিয়াতিতে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি, ডেটা বেইসে অননুমোদিত প্রবেশ, সংঘবদ্ধভাবে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধ এবং নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। সংশোধিত আইনটি ১৯৮০ সালের দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্টকে যুগোপযোগী করেছে।

প্রায় ৪৫ বছর আগে প্রণীত ওই আইনে নকল, প্রশ্ন ফাঁস, জাল সনদসহ বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধের ব্যবস্থা ছিল। তবে বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবেলায় নতুন বিধান যুক্ত করে আইনটি সংশোধন করা হয়েছে।

সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, পরীক্ষার ডেটা বেইসে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন, পরীক্ষার রেকর্ডে কারসাজি বা যেকোনো ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এ ছাড়া আইনে অর্গানাইজড এক্সামিনেশন ক্রাইম নামে নতুন অপরাধ যুক্ত করা হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের অসদুপায় অবলম্বনে সহায়তার উদ্দেশ্যে লিখিত বা মৌখিক চুক্তি করা, প্রস্তাব দেওয়া কিংবা সংঘবদ্ধভাবে নকল বা প্রতারণার সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সংশোধিত আইনে পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্র বা হলে প্রবেশ করাকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি নির্দেশনা ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করলেও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে।

আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তরপত্রে বেশি বা কম নম্বর দেওয়ার অভিযোগে পরীক্ষকদের বিরুদ্ধেও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। তবে শাস্তির আগে তৃতীয় একজন পরীক্ষকের মাধ্যমে নম্বরের অসংগতি নিশ্চিত করতে হবে।

পরীক্ষাসংক্রান্ত কাজে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও সেবাদাতা সংস্থার দায়ও নির্ধারণ করা হয়েছে সংশোধিত আইনে। কোনো প্রতিষ্ঠান পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধে সহায়তা করলে বা যোগসাজশে জড়িত হলে অর্থদণ্ড, লাইসেন্স স্থগিত, কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি কিংবা কালো তালিকাভুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

নতুন আইনে তথ্যদাতা বা হুইসল ব্লোয়ারদের সুরক্ষার বিধানও রাখা হয়েছে। অপরাধের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে হয়রানি বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এই সুরক্ষা লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আইনে বলা হয়েছে, কোনো শিশু এ আইনের অধীনে অপরাধে জড়িত হলে তার বিচার শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পরিচালিত হবে। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এসব অপরাধকে আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মহানগর এলাকায় মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এবং মহানগরের বাইরে জ্যেষ্ঠ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এসব মামলার বিচার করবেন। বিচার কার্যক্রম ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধের প্রবণতাও বেড়েছে। তাই পাবলিক পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

সংশোধিত আইনে সাইবার অপরাধের মাধ্যমে পরীক্ষার ডেটা বেইসে অননুমোদিত প্রবেশ ও ডিজিটাল ম্যানিপুলেশনকে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা, ডিজিটাল জালিয়াতিতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান এবং সংঘবদ্ধ পরীক্ষা জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ডলারের দর বেড়ে ১২৩.৭৫ টাকা

মো. জয়নাল আবেদীন
ডলারের দর বেড়ে ১২৩.৭৫ টাকা

দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর আবারও বেড়েছে মার্কিন ডলারের দাম। ফলে আমদানিকারকদের প্রতি ডলারে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রেমিট্যান্সপ্রবাহ কমে যাওয়া, সরকারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ও বড় অঙ্কের আমদানি বিল নিষ্পত্তির চাপ বেড়েছে। এই তিন কারণে ডলারের দর আবার বাড়তে শুরু করেছে। তবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করছেন তাঁরা। হঠাৎ করে যাতে দর বেশি না বাড়ে, সে বিষয়ে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গতকাল মঙ্গলবার আন্ত ব্যাংক বাজারে প্রতি মার্কিন ডলার সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। এর আগে ২৫ জুন এই দর ছিল ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ডলারের দাম যে হারে বেড়েছে তা ১ শতাংশেরও কম। এতে বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। তবে আমদানি ব্যয় কিছুটা বাড়বে। অন্যদিকে রপ্তানিকারকরা লাভবান হবেন, কারণ তাঁরা প্রতি ডলারের বিপরীতে বেশি টাকা পাবেন। তিনি বলেন, বাজেটে ডলারের দর কিছুটা অবমূল্যায়নের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, যা ভবিষ্যতে ১২৬ টাকা পর্যন্ত যেতে পারে।

ব্যাংকগুলোর লেনদেন তথ্য অনুযায়ী, সিটি ব্যাংক প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭০ পয়সায় কিনে ১২৩ টাকা ৭০ পয়সায় বিক্রি করেছে, যা ২৫ জুন ছিল যথাক্রমে ১২২ টাকা ৪০ পয়সা ও ১২৩ টাকা ৪০ পয়সা। একই হার ছিল ইস্টার্ন ব্যাংকের ক্ষেত্রেও। অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংক প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৫৫ পয়সায় কিনে ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সায় বিক্রি করেছে, যা আগের হার থেকে কিছুটা বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডলারের ওজনভিত্তিক গড় বিনিময় হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৫৯ পয়সা, যা ২৫ জুন ছিল ১২৩ টাকা ১১ পয়সা।

ব্যাংকাররা জানান, গত মাসে তিনটি কারণে ডলারের বাজারে চাপ তৈরি হয়। প্রথমত, সরকারের বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও অন্যান্য দায় পরিশোধে বড় অঙ্কের ডলার দরকার হয়। দ্বিতীয়ত, প্রত্যাশার তুলনায় প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার কম রেমিট্যান্স আসায় সরবরাহ কমে যায়। তৃতীয়ত, একই সময়ে পেট্রোবাংলার বড় অঙ্কের আমদানি ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তি করতে হয়। ফলে ডলারের দর ১২২ টাকা ৭০-৮০ পয়সা থেকে বেড়ে প্রায় ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সায় পৌঁছে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮১ কোটি ডলার, যা মে মাসের তুলনায় ১৮.৩১ শতাংশ কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মে পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৬.৪১ বিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজারে ডলারের ভারসাম্য রক্ষার জন্য এই সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান জানান, জুন মাস শেষে সরকারি আমদানির এলসি নিষ্পত্তি ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের কারণে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়। তবে এই মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা কম। কারণ রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়লে বাজারে ডলারের সরবরাহও বাড়বে।

চলতি জুলাই মাসের শুরুতেই রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। প্রথম ছয় দিনে দেশে ৬৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬২.৮০ শতাংশ বেশি।

এদিকে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মাধ্যমে আমদানি বিল পরিশোধের পর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে। ১.৫ বিলিয়ন ডলার আকুর বিল শোধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬.১৭ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের দিন ছিল ৩৭.৮৪ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ৩১.৭২ বিলিয়ন ডলার ও নিট রিজার্ভ ২৭.৯২ বিলিয়ন ডলার।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. তৌফিকুল ইসলাম খানের মতে, ডলারের দর সব সময় স্থির থাকে না, কিছুটা ওঠানামা করা স্বাভাবিক। জুন শেষে পেমেন্টের চাপ তৈরি হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যা বাজারে কিছুটা চাপ সৃষ্টি করেছে। মাত্র এক টাকা বৃদ্ধি তেমন বড় কোনো বিষয় নয়। ডলারের দাম কিছুটা ওঠানামা করবেই। তবে ডলার আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ানো গেলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে।

 

দুনিয়া মাতানো ফুটবল বিশ্বকাপ

খেলার দাপটে লুটিয়ে পড়ল ক্ষমতার দাপট

বোরহান জাবেদ
খেলার দাপটে লুটিয়ে পড়ল ক্ষমতার দাপট

ম্যাচের আগের পুরোটা সময় খেলা ছাপিয়ে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে হোয়াইট হাউস। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজিরবিহীন তদবিরে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার পর থেকেই ফুটবলবিশ্বে বইছিল সমালোচনার ঝড়। কিন্তু মাঠের ফুটবলে যে রাজনীতির মারপ্যাঁচ খাটে না, সিয়াটল স্টেডিয়ামে মার্কিনদের ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তা প্রমাণ করল বেলজিয়াম। শুধু মাঠেই নয়, বেলজিয়ানরা যেন এই ম্যাচ জিতল ট্রাম্পকে প্রতিটি মুহূর্তে কটাক্ষ করার এক সুপ্ত মিশন নিয়ে! গোলের পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই বিখ্যাত পাকানো মুষ্টির নাচ অনুকরণ থেকে শুরু করে ম্যাচ শেষে বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশনের অফিশিয়াল পেজে ট্রাম্পকে সরাসরি খোঁচা, (পারলে) এটা (ফল) বদলাও। লালকার্ডের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারলেও ম্যাচের ফল যে বদলানোর সুযোগ নেই, সেটাই হয়তো ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে ওই পোস্টে।

বালোগানের সিদ্ধান্ত নিয়ে এমনিতেই ক্ষোভে ফুঁসছিল বেলজিয়াম। বাইরের সেই ক্ষোভই যেন বিস্ফোরিত হলো মাঠের ভেতরে বেলজিয়ামের খেলায়। সেই আগুনে জ্বলেপুড়ে ছারখার হলো যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ স্বপ্ন। বালোগানকে নিয়ে মাঠে নেমেও শেষরক্ষা হয়নি। উল্টো দাপুটে জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছে বেলজিয়াম। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ২০১০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। বেলজিয়ামের দাপুটে জয়ের নায়ক আতালান্তা ফরোয়ার্ড চার্লস ডি কেটেলিয়ার। নিজে জোড়া গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরো একটি। তবে পর্দার আড়ালের নায়ক বালোগান মাঠের ৯০ মিনিট ছিলেন বড্ড বিবর্ণ। চেনা ছন্দের ধারেকাছেও ছিলেন না এই ফরোয়ার্ড।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় বেলজিয়াম। সাফল্য আসতেও সময় লাগেনি। ৯ মিনিটে নিকোলাস রাস্কিনের চমৎকার পাস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বেলজিয়ামকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ডি কেটেলিয়ার। তবে ২১ মিনিটে ধাক্কা খায় বেলজিয়াম। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার আমাদু ওনানাকে। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন হ্যান্স ভানাকেন। ওই সময়ই খেলার ধারার বিপরীতে উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম। বক্সের বাইরে থেকে মার্কিন তারকা মালিক টিলম্যানের নেওয়া একটি জোরালো ফ্রি কিক ভানাকেনের মাথায় লেগে সামান্য দিক পরিবর্তন করে বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এই উদযাপনের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র দুই মিনিট। লিয়েনড্রো ট্রোসার্ডের চমৎকার ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে বেলজিয়ামকে আবার এগিয়ে দেন সেই ডি কেটেলিয়ার।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে প্রাণ ফেরাতে জিয়োভান্নি রেইনাকে মাঠে নামান মার্কিন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। তবে ৫৭ মিনিটে দলটির গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজের এক মারাত্মক ভুলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় স্বাগতিকরা। বল ক্লিয়ার করতে ফ্রিজ বক্সের অনেকটা বাইরে চলে গেলে তাঁকে বাধা দেন ডি কেটেলিয়ার। সেখান থেকে বল পেয়ে প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে ফাঁকা পোস্টে শট নেন ভানাকেন। মার্কিন ডিফেন্ডার টিম রিম মরিয়া চেষ্টা করেও বলের জাল ছোঁয়া আটকাতে পারেননি। চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে দূরপাল্লার গোলটি এখন ভানাকেনের। ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে অল আউট আক্রমণে যায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ওয়েস্টন ম্যাককেনি কিংবা বালোগানের সব প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেন বেলজিয়ান ডিফেন্ডাররা। উল্টো ম্যাচের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন বদলি হিসেবে নামা অভিজ্ঞ রোমেলু লুকাকু। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে ভানাকেনের মাপা অ্যাসিস্ট থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে গোল উৎসব করেন এই তারকা স্ট্রাইকার। এই দাপুটে বেলজিয়ামকে গ্রুপ পর্ব আর সেরা বত্রিশে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। তেতে থাকা রেড ডেভিলরা নিজেদের ছায়া থেকে বেরিয়ে এলো শেষ ষোলোতে। ক্ষমতার দাপট কি তাহলে মাঠের ফুটবলের দাপটের কাছে লুটিয়ে পড়ল?