এক যুগ আগের বেলো হরাইজন্তের ইতিহাস ফিরেছে হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে। সেবার অন্যতম শক্তিধর ও হট ফেভারিট ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা জার্মানরা চ্যাম্পিয়ন হয় শেষ পর্যন্ত। গত দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বেই ছিটকে পড়ে শিরোপা ক্ষুধায় যেন কাতর দলটি। সে জন্যই এবার ৭-১ গোলে নবাগত কুরাসাওকে উড়িয়ে নতুন করেই যেন শুরু করেছে জার্মানি। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কুরাসাও তাদের অভিষেকেই হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে এই মর্যাদার মঞ্চে লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জটা কত কঠিন। আর এমন শুরুর পর অন্য ফেভারিটদের জার্মানরা বার্তা দিয়েছে এবার বিশ্বকাপে ট্রফির অন্যতম দাবিদার তারাও।
ডাচ অধ্যুষিত মাত্র দেড় লাখের কিছু বেশি বেশি মানুষের দেশ কুরাসাও এবার বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েই গড়ে রেকর্ড। কারণ মর্যাদার এই আসরের ইতিহাসে এত কম জনসংখ্যা ও এত ক্ষুদ্র কোনো দেশ খেলার সুযোগ পায়নি আগে। সেই দলটি প্রথম ম্যাচেই জার্মানির মতো সফলতম এবং বড় দলের মুখোমুখি হয়ে শুরুতে বেশ ভালোই খেলেছে। দলের বেশির ভাগই ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলার কারণে তাদের ইউরোপিয়ান ফুটবলের সঙ্গেও পরিচিতিটা ভালোভাবেই আছে। সেটিই তাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে তৈরি করেছে বেশ লড়াকু মনোভাব। জার্মানির বিপক্ষে নিজেদের ঐতিহাসিক ম্যাচে তাই ২১ মিনিটেই একটি গোল আদায় করে নেয় তারা। হাইড্রেশন ব্রেকের ঠিক আগ মুহূর্তে লিভানো কোমেনেনসিয়া গোল করে ক্যারিবিয়ান দ্বীপ দেশটির ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নেন। অবশ্য এর আগেই জার্মানরা এগিয়ে যায় ফেলিক্স এনমেচার গোলে। মাত্র ছয় মিনিটের সময় তিনি ফ্লোরিয়ান ভির্টজের বাড়ানো বল থেকে লক্ষ্যভেদ করেন। লিড পেতেও দেরি হয়নি নিজেদের গুছিয়ে নেওয়া চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। ৩৮ মিনিটে নাথানিয়েল ব্রাউনের কাছ থেকে বল পেয়ে গোল করেন নিকো শ্লটারবেক (২-১)।
এরপর আক্রমণ ধারালো হতে থাকে জার্মানির। দুই দলের মধ্যে র্যাংকিংয়ের ব্যবধান ৭২, সেটিই মাঠে ফুটিয়ে তোলে শক্তিমত্তার পার্থক্য। একের পর এক আক্রমণে কোণঠাসা কুরাসাও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ভুল করে বসে। পেনাল্টি থেকে গোল করেন চৌকস ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ। প্রথমার্ধে ৩-১ গোলে এগিয়ে থাকার স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে যায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধেই কার্যকর মিডফিল্ডার জামাল মুসিয়ালা গোল করে ব্যবধান বাড়িয়েছেন জশুয়া কিমিখের কাছ থেকে বল পেয়ে। এত গোল হজম করার পর আর মাঠে খুঁজেই পাওয়া যায়নি বিপর্যস্ত কুরাসাওকে। ৬৮ মিনিটে তাই ব্যবধান বাড়িয়ে ৫-১ করেছেন ডিফেন্ডার নাথানিয়েল ব্রাউন। এই গোলের উৎস ছিলেন ডেনিজ উনদাভ। তিনিই ১০ মিনিট পর করেছেন পরের গোলটি। কিমিখের কাছ থেকে বল পেয়ে জালের দেখা পান এই স্ট্রাইকার। সেখানেই দুর্দশা কাটেনি কুরাসাওয়ের, ৮৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ৭-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেছেন হাভার্টজ। গত ১২ বছরে বিশ্বকাপে এটিই কোনো দলের দ্বিতীয় সর্বাধিক ব্যবধানের জয়। গত আসরে গ্রুপ পর্বে স্পেন ৭-০ গোলে কোস্টারিকাকে হারিয়েছিল।



