• ই-পেপার

মেঠো বাংলার সাধককবি আব্দুল হালিম

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব-১১৭০

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

মুমিনরা বলে, একটি সুরা অবতীর্ণ হয় না কেন? অতঃপর যদি দ্ব্যর্থহীন কোনো সুরা অবতীর্ণ হয় এবং তাতে যুদ্ধের কোনো নির্দেশ থাকে, তুমি দেখবে, যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তারা মৃত্যুভয়ে বিহ্বল মানুষের মতো তোমার দিকে তাকাচ্ছে। শোচনীয় পরিণাম তাদের। আনুগত্য ও ন্যায়সংগত বাক্য তাদের জন্য উত্তম ছিল। সুতরাং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে, যদি তারা আল্লাহর প্রতি প্রদত্ত অঙ্গীকার পূরণ করত, তবে তাদের জন্য তা অবশ্যই মঙ্গলজনক হতো। (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ২০-২১)

আয়াতগুলোতে যুদ্ধের ব্যাপারে মুনাফিকদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

 

১. মদিনায় হিজরত করার পর মুমিন ও মুনাফিক সবাই যুদ্ধের অনুমতি ও বিধান কামনা করত। কিন্তু অনুমতি আসার পর মুমিনরা খুশি হলেও মুনাফিকরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।

২. মুনাফিকরা যুদ্ধ ভয় পেত। কারণ তারা জানত, যুদ্ধের ময়দানে মারা গেলে অন্তরের গোপন কুফরির কারণে তারা পরকালীন প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবে।

৩. কাতাদা (রহ.) বলেছেন, প্রত্যেক এমন সুরা যাতে যুদ্ধের আলোচনা আছে তা মুহকাম (সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন)।

৪. মুনাফিকরা পবিত্র কোরআনের যুদ্ধসংক্রান্ত আয়াতগুলোকে সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করত। জীবনের মায়া ও মৃত্যুর ভয়ে তারা তা অপছন্দ করত।

৫. নেক আমলের আকাঙ্ক্ষা সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর বৈশিষ্ট্য, বিশেষত আল্লাহর পথে যুদ্ধ করা।

  (তাফসিরে কুরতুবি : ১৯/২৬৯)

মনীষীর কথা

মনীষীর কথা

তোমরা আল্লাহর ভালোবাসা ও দাসত্বে অবিচল থাকো। ডানে-বাঁয়ে ভ্রুক্ষেপ কোরো না।

ইবনে তাইমিয়া (রহ.)

প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

প্রশ্ন-উত্তর

বাজারের প্রচলিত মেহেদি লাগানোর বিধান

প্রশ্ন : বর্তমান বাজারে যে ধরনের মেহেদি পাওয়া যায়, তা হাতে লাগানোর কিছুদিন পর দেখা যায় যে মেহেদির রঙের সঙ্গে হাতে একটি পাতলা পর্দা বা আবরণের মতো স্তর তৈরি হয়, যা পরে উঠে আসে। আমার জানার বিষয় হলো, এ ধরনের মেহেদি ব্যবহার করা শরিয়তসম্মত কিনা? যদি মেহেদি হাতে কোনো আবরণ বা পর্দা সৃষ্টি করে, তাহলে তা থাকা অবস্থায় অজু ও ফরজ গোসল শুদ্ধ হবে কি? এ অবস্থায় আদায়কৃত নামাজ ও অন্যান্য ইবাদতের হুকুম কী? কোরআন-সুন্নাহ ও ফিকহের আলোকে বিষয়টি জানালে উপকৃত হবো।

জুবায়ের আহমাদ, কেরানীগঞ্জ

উত্তর : বাজারে প্রচলিত কিছু টিউব মেহেদি ব্যবহারের কিছুদিন পর রঙের সঙ্গে পাতলা যে আবরণ উঠতে দেখা যায় তা মূলত শরীরের চামড়ার অংশ। মেহেদিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন কেমিক্যালের কারণে চামড়ার পর্দা উঠে যায়। এটা মেহেদির কোনো আবরণ নয়, যা শরীরে পানি পৌঁছাতে বাধা তৈরি করে। অতএব, এ ধরনের মেহেদির রং অজু-গোসলের জন্য প্রতিবন্ধক নয়। (গুনিয়াতুল মুতামাল্লা : ৪৯, আদ্দুররুল মুখতার : ১/২৮৮, রাদ্দুল মুহতার : ১/২৮৮, আফ কে মাসায়েল আওর উনকা হল : ২/৪৩)

আইসিটি উন্নয়নে মুসলিম বিশ্বে এগিয়ে সৌদি আরব

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আইসিটি উন্নয়নে মুসলিম বিশ্বে এগিয়ে সৌদি আরব

ডিজিটাল রূপান্তর ও তথ্য-প্রযুক্তি উন্নয়নে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে সৌদি আরব। আইটিইউ প্রকাশিত ২০২৬ সালের আইসিটি উন্নয়নসূচক বিশ্বের ১৫৯টি দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে দেশটি।

আইটিইউর এই সূচকে বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল অগ্রগতি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (আইসিটি) ব্যবহার এবং সেবার মান মূল্যায়ন করা হয়। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংযোগ ও কার্যকর সংযোগএ দুটি প্রধান সূচককে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি যোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি কমিশন (সিআইটিসি) জানিয়েছে, এই অসাধারণ অর্জন দেশের প্রযুক্তি খাতের ধারাবাহিক আধুনিকায়ন, দূরদর্শী নেতৃত্বের নীতিগত সহায়তা এবং শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামোরই বাস্তব প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে সৌদি আরবের নেতৃত্বের অবস্থানকে আরো সুসংহত করেছে।

সিআইটিসির মতে, উন্নত নিয়ন্ত্রক কাঠামো, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো ও ডিজিটাল অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে নেওয়া কার্যকর উদ্যোগগুলো সৌদি আরবকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে।

সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সৌদি আরবের যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বাজারের আকার বেড়ে ১৯৯ বিলিয়ন সৌদি রিয়ালে পৌঁছেছে। গত পাঁচ বছরে এই খাতের চক্রবৃদ্ধি বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ শতাংশ, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা (মেনা) অঞ্চলের সবচেয়ে বড় এবং দ্রুত বর্ধনশীল প্রযুক্তি বাজার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করেছে দেশটি।

ডিজিটাল সংযোগের ক্ষেত্রেও ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে সৌদি আরব। সিআইটিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ১০০ শতাংশ, একই সঙ্গে মোবাইল ফোনের মালিকানার হারও ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। এ ছাড়া ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের গড় গতি ১৫১ এমবিপিএস এবং মোবাইল ব্রডব্যান্ডের গড় গতি ২১৬ এমবিপিএস, যা বিশ্বের অন্যতম উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামোর পরিচয় বহন করে। সৌদি আরবের এই অর্জন দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল

রূপান্তর কর্মসূচি ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার কৌশলের সফল বাস্তবায়নের প্রতিফলন।