• ই-পেপার

পথশিশুদের পুনর্বাসনে মহাপরিকল্পনা সরকারের

  • ৪২০ কোটি টাকার প্রকল্পে ৫ লাখের বেশি শিশু উপকৃত হওয়ার আশা
  • আবাসন, শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনে পাঁচ বছরের কর্মসূচি

মাতিয়েস কুনিয়াকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ব্রাজিল

মাতিয়েস কুনিয়াকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ব্রাজিল
ম্যাচের শুরুতে বক্সের মধ্যে মাতিয়েস কুনিয়াকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। কিন্তু স্পট কিকে ব্রুনো গিমারেসের শট ঝাঁপিয়ে ফেরান নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড। ছবি : রয়টার্স

উক্তি

উক্তি

প্রযুক্তি যেমন মানুষের জন্য আশীর্বাদ, তেমনি এর সঙ্গে নতুন ধরনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

রাখাইনে হামলা চলছেই, সীমান্তে সতর্ক বিজিবি

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
রাখাইনে হামলা চলছেই, সীমান্তে সতর্ক বিজিবি

মায়ানমারের রাখাইন (আরাকান) রাজ্যে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে এই হামলা চলছে। তবে হামলার ঘটনা ঘটছে রাখাইন রাজ্যের পূর্ব ও উত্তরাংশে। তা নাফ নদ থেকে পূর্বে ২০০ কিলোমিটার দূরে। এ কারণে দুই দিন ধরে টেকনাফ সীমান্তে বিস্ফোরণের শব্দ তেমন শোনা যায়নি। এর আগের তিন দিন হামলার ঘটনা ঘটেছিল নাফ নদ তীরবর্তী এলাকায়। এ জন্য টেকনাফ সীমান্তে ঘরবাড়িতে কম্পন সৃষ্টি হয়েছিল। তবে নাফ নদ তীরবর্তী বন্দর শহর মংডুসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহর এলাকায় আবারও হামলার শঙ্কায় লোকজন নিরাপদ এলাকায় সরে যাচ্ছে।

এদিকে রাখাইনে সংঘাত পরিস্থিতিতে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার লোকজন নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কায় রয়েছেন। তবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং মাদকের চালান পাচার রোধে মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে ২৭১ কিলোমিটারজুড়ে বিজিবির কঠোর অবস্থান রয়েছে। বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। কক্সবাজারের বিজিবির সেক্টর কমান্ডার মো. মহিউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাখাইনের চলমান সংঘাতজনিত পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং মাদক পাচার রোধে মায়ানমার-বাংলাদেশের ২৭১ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানোর সরকারি উদ্যোগে স্থানীয়রাও সন্তুষ্ট।

কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গত শনিবার টেকনাফ উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ সভায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়ে সরকারি কঠোর মনোভাবের বিষয়টি জেনে আমার ইউনিয়নের লোকজন বেশ সন্তুষ্ট। কেননা ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা ঢলের পর থেকে আমরা রোহিঙ্গাদের নিয়ে সীমাহীন কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। আবারও যদি রোহিঙ্গা ঢলের সৃষ্টি হয় তাহলে এলাকাবাসীকেই পরবাসী হতে হবে। এ জন্য সরকারি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে এলাকার লোকজনও একাকার হয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার-৪ উখিয়া-টেকনাফ সংসদীয় আসনের এমপি শাহজাহান চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, মায়ানমার থেকে আর কোনো রোহিঙ্গা আমার সংসদীয় এলাকায় অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। গত শনিবার টেকনাফে সরকারের প্রশাসনসহ সব বিভাগের প্রতিনিধি এবং জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা অনুুপ্রবেশ ছাড়াও উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে মাদকের চালান পাচার, অপহরণপূর্বক মুক্তিপণ আদায় এবং মানবপাচারের ঘটনাও রোধ করা হবে কঠোরভাবে।

এদিকে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় রাখাইনে অবস্থানরত একজন রোহিঙ্গা কালের কণ্ঠকে জানান, নাফ নদের ওপারে রাখাইনে দুই দিন ধরে ভারি বর্ষণ হচ্ছে। প্রবল বর্ষণেও জান্তার বিমান হামলা থেমে নেই। আরাকান আর্মিও জান্তার হামলার জবাব দিচ্ছে। সীমান্ত এলাকার লোকজন মনে করেছিলেন, ভারি বর্ষণজনিত কারণে দুই পক্ষের সংঘাত কিছুটা কমবে। কিন্তু সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। নাফ নদের ওপারের রাখাইন থেকে প্রাপ্ত নানা সূত্র মতে জান্তা বাহিনীর হামলার পর থেকে রাখাইনের রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি-আরসা হামলে পড়ছে আরাকান আর্মির ওপর। সব মিলে আরাকান আর্মি এখন দ্বিমুখী হামলার মুখে পড়েছে। বিদ্রোহী আরাকান আর্মির বেশির ভাগ সদস্য দ্বিমুখী হামলার মুখে পড়ে পেছনে সরে রাখাইন পল্লীগুলোয় আশ্রয় নিচ্ছে। আবার অনেকেই উত্তর আরাকানের পার্বত্য বান্দরবান এলাকার সীমান্তঘেঁষা অরণ্যে আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে।

মায়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির দখল করা রাখাইন পুনর্দখলের উদ্দেশ্যে গত ১ জুলাই থেকে জান্তা সরকারের বাহিনী বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। জান্তা বাহিনী রাখাইনের বন্দর শহর মংডু, ভুতিদং, কুমিরখালী ও বলিবাজারে ব্যাপকভাবে হামলা চালিয়েছে। জান্তা বাহিনী এসব এলাকার আরাকান আর্মির ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে। হামলায় ব্যাপকভাবে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও প্রচুরসংখ্যক লোকজন হতাহত হন। বেশি ক্ষতি হয়েছে বলিবাজার এলাকায়। সেখানকার আরাকান আর্মির ঘাঁটিটি পুরোটাই ধ্বংস হয়েছে। এমনকি আরাকান আর্মির সদস্য ছাড়াও রোহিঙ্গা এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজনও হতাহতের শিকার হয়েছেন।

৩৩ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩৩ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর

বাংলাদেশ পুলিশের উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার ৩৩ কর্মকর্তাকে জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দিয়েছে সরকার। গতকাল রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নম্বর আইন)-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে এই কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত তালিকায় থাকা ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম ও ডিআইজি মো. সাইফুল ইসলাম গ্রেপ্তারের পর বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের অনেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে এসপি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নির্বাচনের পর তাঁদের পদোন্নতি দেয় তৎকালীন সরকার।

অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ডিআইজি মিরাজ উদ্দিন আহমেদ, শাহ মিজান শাফিউর রহমান, এস এম মোস্তাক আহমেদ খান, জিহাদুল কবির, মঈনুল হক, মো. ইলিয়াছ শরীফ ও শ্যামল কুমার নাথ। এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান, মো. শাহ আবিদ হোসেন, মো. জামিল হাসান, মো. মাহবুবুর রহমান ও মো. মনিরুজ্জামান। অতিরিক্ত ডিআইজির মধ্যে আছেন মো. বরকতউল্লাহ খান, টি এম মোজাহিদুল ইসলাম, মো. আনোয়ার হোসেন খান, মোহা. মনিরুজ্জামান, মো. মেহদুল করিম, মো. আলমগীর কবির, মো. রশীদুল হাসান ও সঞ্জয় কুমার কুণ্ডু। তা ছাড়া আছেন মো. নিজামুল হক মোল্লা, এস এম এমরান হোসেন, মো. সাইদুর রহমান খান, ড. শামসুন্নাহার, মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন, সাইফুল্লাহ আল মামুন, খান মুহাম্মদ রেজওয়ান, মো. সাজিদ হোসেন, শেখ রফিকুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আরেফ ও মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। অবসরে পাঠানো এই কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সব সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হবেন। জানা গেছে, অবসরে পাঠানো সব কর্মকর্তাই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ওএসডি ছিলেন। তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।  অবসরে পাঠানোদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে বিতর্কিত নির্বাচনে বিশেষ ভূমিকা রাখা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।  বিসিএস ২০তম ব্যাচের এসব কর্মকর্তা নির্বাচনের সময় পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদ ও কয়েকজন কয়েকটি জেলার এসপি ছিলেন। তাঁদের চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর তাঁদের অবসরে পাঠানো হলো।  অবসরে পাঠানোদের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে ঢাকা জেলার এসপির দায়িত্বে ছিলেন শাহ মিজান শাফিউর রহমান। মিরাজ উদ্দিন আহমেদ ছিলেন  নরসিংদীর এসপি।  গাজীপুরের এসপি ছিলেন শামসুন্নাহার।  মাশরুকুর রহমান খালেদ ছিলেন  কিশোরগঞ্জের, ইলিয়াছ শরীফ ছিলেন নোয়াখালীর এসপি। এ ছাড়া আনোয়ার হোসেন খান ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার, জাকির হোসেন খান ছিলেন ফরিদপুরের, শাহ আবিদ হোসেন ছিলেন ময়মনসিংহের এসপি। ঠাকুরগাঁওয়ের এসপি ছিলেন মনিরুজ্জামান, সুনামগঞ্জের এসপি ছিলেন বরকতুল্লাহ খান। চুয়াডাঙ্গার এসপি ছিলেন মাহবুবুর রহমান। যশোরের এসপি ছিলেন মঈনুল হক ও খান মুহাম্মদ রেজোয়ান ছিলেন মাগুরার, রশীদুল হাসান জয়পুরহাট, মো. মনিরুজ্জামান সিলেটের এসপি ছিলেন।  পাবনার এসপি ছিলেন শেখ রফিকুল ইসলাম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের এসপি ছিলেন টি এম মোজাহিদুল ইসলাম ও কুড়িগ্রাম জেলার এসপি ছিলেন মো. মেহেদুল করিম।