গত দুই দশকের অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে বাংলাদেশের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরকে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান বিবেচনা করা হয়।
ববি হাজ্জাজ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

গত দুই দশকের অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে বাংলাদেশের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরকে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান বিবেচনা করা হয়।
ববি হাজ্জাজ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

সুইডেন-তিউনিশিয়া (সকাল ৮টা)
স্পেন-কেপ ভার্দে (রাত ১০টা)
বেলজিয়াম-মিসর (রাত ১টা)
উরুগুয়ে-সৌদি আরব (কাল ভোর ৪টা)
ইরান-নিউজিল্যান্ড (কাল সকাল ৭টা)

নেদারল্যান্ডসের মেয়েদের বিপক্ষে জয়টা হিসাবের মধ্যেই ছিল বাংলাদেশের। তবে গতকাল বার্মিংহামে বাংলাদেশকে ছেড়ে কথা বলেনি ডাচরাও। আগে ব্যাটিং করে নেদারল্যান্ডসের ইনিংস থামে ৮ উইকেটে ১৩৯ রানে। লক্ষ্য তাড়ায় ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের ঝোড়ো ফিফটির পরও ম্যাচ জিততে শেষ ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় বাংলাদেশকে। পঞ্চম উইকেটে শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তারের অবিচ্ছিন্ন ৫৬ রানের জুটিতে নিজেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান ৬ উইকেটের জয় দিয়েই শুরু করেছে বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে এটি চতুর্থ জয় বাংলাদেশের। ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম। দারুণ মুহূর্তটি দল ও নিজের জন্য রাঙান জুয়াইরিয়া। আক্রমণাত্মক ব্যাটার হিসেবেই পরিচিত ২০ বছর বয়সী এই ওপেনার। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচেই ব্যাট হাতে নিজের সেই রূপ দেখিয়েছেন তিনি। তাঁর ব্যাটেই পাওয়ার প্লেতে দারুণ শুরু পায় বাংলাদেশ। তাঁকে সঙ্গ দেন আরেক ওপেনার দিলারা আক্তার। দুজনের ৭.৫ ওভার স্থায়ী জুটিতে বাংলাদেশ পেয়ে যায় ৬৭ রান। ফিফটি পূর্ণ করেই আউট হন জুয়াইরিয়া। ফেরার আগে ৩৩ বলে ৫০ রান আসে তাঁর ব্যাট থেকে। তাঁর ইনিংসটি সাজানো ছিল ৭ চার ও ২ ছক্কায়। জুয়াইরিয়ার আউটের পর ১৮ রানের মধ্যে আরো ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। শুরুটা হয় নিগার সুলতানাকে দিয়ে। জুয়াইরিয়ার আউটের পরের বলেই শূন্য রানে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
নিগারের পথ অনুসরণ করতে সময় নেননি দিলারা (২৬) এবং সোবহানা মোস্তারিও (০)। বিশেষ করে ফর্মে থাকা সোবহানার রান আউট বড় ধাক্কা ছিল বাংলাদেশের জন্য। এখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন অভিজ্ঞ শারমিন। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন স্বর্ণা। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে পাঁচ বল হাতে রেখে ম্যাচ শেষ করে বাংলাদেশ। শারমিন ৩২ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন। স্বর্ণার ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ১৮ রান। বোলিংয়ে ম্যাচটি জমিয়ে তোলার সুযোগ তৈরি করার আগে ব্যাটিংয়ে নেদারল্যান্ডসের প্রাণভোমরা ছিলেন অধিনায়ক ব্যাবেট ডি লিড। তাঁর রান আউটেই গতি হারায় ডাচদের ইনিংস। ৪৫ বলে ৫ চারে ৫০ রান করেন ডি লিড। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নেদারল্যান্ডসের অন্য ব্যাটাররা খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি। পেসার মারুফা আক্তার সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন। তবু ছোট ছোট কয়েকটি ইনিংসের সৌজন্যে ১৪০ রানের লক্ষ্য পেয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। যদিও সেটি জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।

সংসদ নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা যদি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করতাম, তাহলে ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারত বলে আশঙ্কা ছিল।’
গতকাল রবিবার রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে জামায়াতে ইসলামী সিলেট মহানগরের আয়োজনে ১১ দলীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটি আমাদের আশঙ্কা ছিল। এমন না-ও হতে পারত। তবে দেশপ্রেমিক মানুষের দায়িত্ব হচ্ছে সন্দেহজনক পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা। তখন সেই আশঙ্কার জায়গাটি খুবই তীব্র ছিল।’
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াতের আমির বলেন, “আমাদের অবস্থান ছিল গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে। ৬৮.৬ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে পড়েছে। নির্বাচনের সপ্তাহখানেক আগে গাছে, বাসে, লঞ্চে, ট্রেনে—সব জায়গায় একটাই আওয়াজ ছিল। তাহলে এত মানুষের ভোট কোথায় গেল?’
তিনি বলেন, নির্বাচনের পর সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছে এসে প্রশ্ন করেছেন, ‘এত ভোট দেওয়ার পরও সরকার গঠন করল অন্য দল, এটি কিভাবে হলো?’ তাঁর ভাষ্য, ‘মানুষের একটু ক্ষোভ আমাদের ওপর ছিল। এরপর আর মানুষের বুঝতে দেরি হয়নি। অল্পদিনের মধ্যেই মানুষ বুঝে গেছে, আমরা কেন মেনে নিয়েছি।’
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের আটক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেনজীরের গ্রেপ্তার বাংলাদেশের জন্য একটি অর্জন হলেও বিষয়টি নিয়ে অতি উৎসাহ দেখানোর সুযোগ নেই। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে কি না, তা সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সীমান্তের ওপার থেকে নানা উসকানিমূলক বক্তব্য আসছে। আমরা যদি প্রতিটি বক্তব্যের জবাব দিতে যাই, তাহলে প্রতিদিনই একবার করে যুদ্ধ বেধে যাবে।’ তিনি বলেন, এসব বক্তব্যের পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা দেশের মানুষের বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দুইবার স্বাধীন হলেও আমরা কি প্রকৃত স্বাধীনতার সুফল পেয়েছি? স্বাধীনতার সুফল ঘরে তোলার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর। দেশ পরিচালনা আমরাই করেছি। তাহলে অন্যকে দোষ না দিয়ে নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করা উচিত।’
সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা সংসদের ভেতরে চরমপন্থা কিংবা অধমপন্থা অবলম্বন করব না। আমাদের অবস্থান হবে মধ্যপন্থা ও যৌক্তিকতার পক্ষে। দেশ ও জাতির স্বার্থে যা প্রয়োজন, আমরা সেটাই করার চেষ্টা করব।’
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটি জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে। তাঁর দাবি, তারাই বলেছিল, নির্বাচনের আগে গণভোটের রায় যেদিকে যাবে সেটাই আমরা মানব। তাহলে এখন মানে না কেন? তারা এখন শপথ নেয় না কেন? তারা এখন প্রশ্ন তুলেছে সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। জিজ্ঞেস করেছিলাম, এটা প্রথম গণভোট নয়, স্বাধীনার আগে আরো তিনটি গণভোট হয়েছে। সেগুলোরও সাংবিধানিক ভিত্তি ছিল না। তখনো সংবিধানে গণভোটের কোনো ট্রাডিশন ছিল না। তখন যদি গণভোট হালাল হয়ে থাকে, এখন হারাম হয় কেন?’
বিএনপির আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘হঠাৎ করে বিএনপির জন্ম হয়নি। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত দলটি দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে। তারা কেন এ ধরনের আচরণ করছে, আমরা বুঝতে পারছি না। তবে আমরা আশা হারাইনি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মতান্ত্রিক ও টেকসই সমাজব্যবস্থা চাই। সংসদের ভেতরে সমস্যার সমাধান হোক, সেটাই আমাদের কাম্য। তবে সংসদে সমাধানের পথ সংকুচিত হয়ে গেলে রাজপথেও কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হবে। আমাদের অবস্থান সংসদেও, আবার ময়দানেও। আমরা গভীরভাবে আস্থাশীল, জনগণের এ রায় ব্যর্থ হবে না। এ রায় আমরা আদায় করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।’