কী হচ্ছে সর্বাধিক পাঁচ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের সঙ্গে! গত তিনটি বিশ্বকাপে তারা দেখেছিল হেক্সা মিশন সফল করার স্বপ্ন। তাদের সঙ্গে ছিলেন দুনিয়া-কাঁপানো সুপারস্টার নেইমার, যাঁর চেষ্টা ছিল দেশকে সাম্বা নৃত্যের ঢেউয়ে আন্দোলিত করার। এবার সেই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আছেন ঠিকই, তবে চোটের কারণে নিজের শতভাগ নিয়ে মাঠে নামতে পারবেন কি না সেই সংশয় থাকছেই। তাছাড়া এখন তিনি আগের মতো দলের অন্যতম নির্ভরতার প্রতিশব্দও নন। দল হিসেবেও এবারের বৈশ্বিক মঞ্চে অন্য হট ফেভারিট ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনাসহ আরো কয়েকটি দলের চেয়ে পিছিয়ে ব্রাজিল। সে কারণে অনেকে সন্দিহান ১৪ জুন নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে আদৌ নেইমাররা জিতে শুরু করতে পারবেন কি না! তবে আশ্বাস দিয়েছে রিও ডি জেনেইরোর হাঙর ‘রিতিনিয়া’, ভবিষ্যদ্বাণী করেছে—উত্তর আফ্রিকার অ্যাটলাস লায়ন্সের বিপক্ষে জয় দিয়েই শুভ সূচনা করবে ব্রাজিল।
আলোচিত হাঙরটির এমন বিশ্বাসের যথেষ্ট কারণও আছে, ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা বিমানে ওঠার আগেই উড়েছেন মারাকানায় প্রীতি ম্যাচে পানামাকে ৬-২ গোলে হারিয়ে। এরপর একেবারে গা ঝাড়া দিয়ে পরিশুদ্ধভাবে রওনা হয়েছেন, কারণ তাঁদের বহনকারী আকাশযানটিকে দেওয়া হয়েছে শুভকামনা ও সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়াটার স্যালুট’। গ্যালিয়াও বিমানবন্দর থেকে রওনার আগে জলকামানের পানিতে গোসল করানো বিমানটি নিউজার্সির নিওয়ার্ক বিমানবন্দরে নামার পরও পেয়েছে এই অভ্যর্থনা। এখন একেবারে নতুন করে শুরুর পালা ব্রাজিলের। ১৯৭০ সালে পেলের হাত ধরে মেক্সিকোয় আর ১৯৯৪ সালে রোনালদো নাজারিও-দুঙ্গার ছোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে শিরোপা জিতেছে তারা। তাই এ অঞ্চল তাদের জন্য পয়মন্তই বলা যায়, যদিও ১৯৮৬ সালে আরেকবার মেক্সিকান ভূমিতে সঙ্গী হয়েছে হতাশা। এই যুক্তরাষ্ট্রেই কি এবার ব্যর্থতার বেড়াজাল কেটে বেরিয়ে আসতে পারবেন নেইমাররা? ফেভারিটের আলোচনায় না থাকলেও দলের ৩৪ বছর বয়সী অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো এটিকে সুবিধাজনকই মনে করছেন, ‘হয়তো এবার আমরা এক ধাপ পিছিয়ে আছি, তবে আমরা পুরোপুরি সতর্ক ও প্রস্তুত আছি এবং এটি সব সময়ই একটি ইতিবাচক দিক। আমরা সবচেয়ে বড় ফেভারিট নই। অবশ্যই আমরা ভালো ফর্মে আছি, অভিজ্ঞ ও তরুণ প্রতিভার মিশ্রণে আমাদের একটি শক্তিশালী স্কোয়াডও রয়েছে।’
রিতিনিয়া অবশ্য নেইমারদের বাকি ম্যাচগুলো নিয়ে পরীক্ষা দেয়নি এখন পর্যন্ত। এ কারণে শিরোপা জয়ের বিষয়টি ধাপে ধাপেই জানা যাবে। সর্বশেষ শিরোপাটি ২০০২ সালে এশিয়ার মাটিতে হওয়া বিশ্বকাপে জিতেছে ব্রাজিল। এরপর গত ২৪ বছরে পাঁচটি বিশ্বকাপ পেরিয়েছে, একবারও ফাইনালেই পা রাখতে পারেনি সফলতম দলটি। এর মধ্যে তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল এবং একবার সেমিফাইনালে উঠতে পারা সেলেসাওদের শিরোপা খরা ঘোচার অপেক্ষায় থাকা কিংবদন্তি পেলেরও হয়েছে জীবনাবসান। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২২ বিশ্বকাপের সব আসরেই খেলা একমাত্র দল ব্রাজিল সফলতম। সবচেয়ে বেশি ১১৪ ম্যাচ খেলে সর্বাধিক ৭৬ জয়, সবচেয়ে বেশি ২৩৭ গোল দেওয়া, টানা ১১ ম্যাচ জেতার অনন্য রেকর্ডগুলো তাদের দখলে। এই পরিসংখ্যানের কারণেই সবচেয়ে বেশিবার (৫) বিশ্বচ্যাম্পিয়নও হয়েছে তারা।
এখন নিউজার্সির বাস্কিং রিজ এলাকায় অবস্থিত ‘দ্য রিজ’ হোটেলে অবস্থান করে মূল লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নেবেন কার্লো আনচেলোত্তির শিষ্যরা। এখান থেকে তাঁদের অনুশীলন ভেন্যু মরিসটাউনে নিউইয়র্ক রেড বুলসের মালিকানাধীন কলাম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং সেন্টার মাত্র ১৫ মিনিট দূরে। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ আসরে খেলা নেইমার তাঁর সেরা অবস্থানে নেই। বিশ্বকাপে ১৩ ম্যাচ খেলে আটটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করা এই তারকাই তবু দলের প্রাণ। তবে দলগতভাবেই এবার বিশ্ব জয়ের মিশনে ঐক্যবদ্ধ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, ইগর থিয়াগো, দানিলো, লুকাস পাকেতা ও আলিসন বেকারদের মতো আলোচিত তারকারা। ‘সি’ গ্রুপে ট্রফির দিকে তাদের মিশনের শুরু মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।



