• ই-পেপার

নেইমারকে নিয়েও ফেভারিট নয় ব্রাজিল!

উক্তি

উক্তি

চল্লিশ বছর আগে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই সঙ্গে দুটি দায়িত্ব পালন করেছেন। আজকের তথ্য-প্রযুক্তির যুগে দুটি দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করা একেবারেই অসম্ভব নয়।

ড. খলিলুর রহমান

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সদ্যোবিজয়ী সভাপতি

৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বাড়ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বাড়ছে না

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণার এক দিনের মাথায় প্রান্তিক গ্রাহক ও স্বল্প বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য নির্ধারিত মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফলে লাইফলাইন গ্রাহকদের (৫০ ইউনিট পর্যন্ত) বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট চার টাকা ৬৩ পয়সা এবং ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য আগের নির্ধারিত পাঁচ টাকা ২৬ পয়সা হারই বহাল থাকছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার সংশোধন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিইআরসি। এর আগে বুধবার ঘোষিত নতুন ট্যারিফে লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম চার টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ টাকা ৩২ পয়সা এবং ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে পাঁচ টাকা ২৬ পয়সা থেকে ছয় টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

গতকাল সকালে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) বিইআরসির কাছে এই মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের আবেদন জানায়। বিপিডিবির আবেদনে বলা হয়, নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না বাড়াতে বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে। সে বিবেচনায় লাইফলাইন ও স্বল্প ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য আগের মূল্যহার বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, লাইফলাইন সুবিধা মূলত হতদরিদ্র, নিম্ন আয়ের এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য চালু করা হয়েছে। সাধারণত একটি ৩০ ওয়াটের বাতি ও একটি ফ্যান প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ব্যবহার করলে গ্রাহকরা এই শ্রেণির আওতায় থাকেন। তবে একাধিক ফ্যান ব্যবহার বা দীর্ঘ সময় ফ্যান চালালে লাইফলাইনের সীমা অতিক্রম হয়ে যায়। তখন গ্রাহকদের উচ্চতর ধাপের বিল পরিশোধ করতে হয়। বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য পৃথক ছয়টি ধাপ রয়েছে, যেখানে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের মূল্য তুলনামূলক বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর স্বার্থ বিবেচনায় সরকারের এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। এতে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ কমবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশে লাইফলাইন গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৮৬ লাখ। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় রয়েছে ৮৭ শতাংশ গ্রাহক। এ ছাড়া বিপিডিবির ৪.৫ শতাংশ, নেসকোর ৪ শতাংশ এবং ওজোপাডিকোর ৩ শতাংশ গ্রাহক লাইফলাইন সুবিধা পাচ্ছেন। রাজধানী ঢাকার দুই বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকোতে এ ধরনের গ্রাহকের হার যথাক্রমে ১ শতাংশ ও দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারগুলোই মূলত এ সুবিধার প্রধান উপভোক্তা।

এদিকে বুধবার পাইকারি ও খুচরাউভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। নতুন ঘোষণায় পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯.৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩.৯৬ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। সংশোধিত মূল্যহার চলতি জুন মাস থেকেই কার্যকর হবে।

পালংখালী সীমান্তে বিজিবি-আরএসও গোলাগুলি

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
পালংখালী সীমান্তে বিজিবি-আরএসও গোলাগুলি

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী নাফ নদী সীমান্তে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) সদস্যদের সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আরএসওর অস্ত্র ও ইয়াবার চালান বহন করা নৌকা প্রতিরোধে বিজিবি এগিয়ে গেলে গোলাগুলির এই ঘটনা ঘটে। গত বুধবার দুপুরের দিকে বিজিবি উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বাহারপাড়া পোস্ট থেকে প্রায় ২০০ মিটার দক্ষিণ-পূর্বে নদীর তীরে এ ঘটনা ঘটে। 

গোলাগুলির পর মায়ানমার থেকে আসা আরএসওর একটি নৌকায় অভিযান চালিয়ে একটি জি-থ্রি রাইফেল, ৫১৫ রাউন্ড গুলি এবং চার হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে বিজিবি। তবে অভিযানের সময় সশস্ত্র পাচারকারীরা নৌকা ফেলে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মায়ানমারে পালিয়ে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজিবি জানায়, গত বুধবার দুপুরের দিকে উখিয়ার পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ বাহারপাড়া সীমান্ত এলাকার নাফ নদীর শূন্যরেখাসংলগ্ন স্থানে মায়ানমার থেকে জেলের ছদ্মবেশে একটি নৌকায় করে কয়েকজন অস্ত্রধারী বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে এগিয়ে আসে। এলাকাটি ইয়াবা পাচারের জন্য পরিচিত হওয়ায় বিজিবি সদস্যরা তাদের বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ না করতে নির্দেশ দেন; কিন্তু তারা নির্দেশ অমান্য করে বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

এ সময় বিজিবির টহলদল নাফ নদীসংলগ্ন বেড়িবাঁধে অবস্থান নিয়ে সশস্ত্র দলের ওপর গুলি ছোড়ে। জবাবে চোরাকারবারিরাও কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এক পর্যায়ে তারা নৌকা ফেলে নাফ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে মায়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়।

পরে বিজিবি সদস্যরা নৌকাটি জব্দ করে তল্লাশি চালিয়ে একটি জি-থ্রি রাইফেল, তিনটি জি-থ্রি ম্যাগাজিন, তিনটি ফাইবার ম্যাগাজিন, ৫১৫ রাউন্ড গুলি, একটি মোবাইল ফোন, দুটি সিম কার্ড, চার হাজার পিস ইয়াবা, একটি অস্ত্র বহনের পাউচ, কিছু পোশাক, ২০ টাকা এবং ১২ প্যাকেট সিগারেট উদ্ধার করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী মায়ানমার থেকে ইয়াবার সঙ্গে বিদেশি অস্ত্রের চালানও পাচার করছে।

এ ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী জনসাধারণ ও জেলেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।

জামায়াত আমির

প্রবাসীদের ত্যাগে নতুন দিনের সূচনা অবশ্যম্ভাবী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রবাসীদের ত্যাগে নতুন দিনের সূচনা অবশ্যম্ভাবী
শফিকুর রহমান

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ত্যাগ, কষ্ট ও দেশের অর্থনীতিতে অবদানের কথা স্মরণ করে তাঁদের প্রতি সম্মান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, যে দেশের মানুষের আত্মত্যাগ এত গভীর, সেই দেশে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ও নতুন দিনের সূচনা অবশ্যম্ভাবী।

গতকাল বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, কিছু মানুষের জীবনের গল্প কোনো দিন কোনো উপন্যাসে লেখা হয় না। দেশের প্রবাসীরা এমনই একদল মানুষ, যাঁদের পাঠানো রক্ত পানি করা রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে, অথচ তাঁদের নিজেদের জীবন কাটে সীমাহীন ত্যাগের আড়ালে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রবাসজীবনে অসুস্থতা, একাকিত্ব ও প্রিয়জনদের থেকে দূরে থাকার কষ্ট অনেক সময় কাউকে জানানো যায় না। পরদেশের ছোট্ট একটি কক্ষে জ্বরে আক্রান্ত হলেও মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার মতো কেউ থাকে না। সেই কষ্ট আড়াল করেই দেশের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতে হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বছরের পর বছর উৎসব-অনুষ্ঠান এলেও অনেক প্রবাসীকে দূর থেকে ভিডিও কলে পরিবারের আনন্দ-উদযাপন দেখতে হয়। সন্তানের বেড়ে ওঠা কিংবা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো তাঁদের চোখের সামনে ঘটে না। এমনকি অনেকেই বাবা-মায়ের শেষ সময়ে পাশে থাকার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হন।

তিনি আরো বলেন, দিনরাত কঠোর পরিশ্রম ও নানা অবহেলা সহ্য করে প্রবাসীরা অন্যের দেশকে সমৃদ্ধ করেন; কিন্তু নিজেদের জন্য সামান্য স্বস্তিও অনেক সময় সঞ্চয় করতে পারেন না।

প্রবাসীদের নীরব ত্যাগের সহযাত্রী হয়ে সবাইকে হাতে হাত রেখে মমতা ও ঐক্যের মাধ্যমে বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহবান জানান তিনি।

পোস্টের শেষাংশে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।