প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতিসহ বহুমাত্রিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতিও হয়েছে। মালয়েশিয়ায় সফর শেষ করে সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী চীনে পৌঁছান। গতকাল মঙ্গলবার তিনি চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘সামার ডাভোস’ সম্মেলনে যোগ দেন এবং ‘পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জলবায়ু নেতৃত্ব’ শীর্ষক অধিবেশনে ভাষণ দেন। এ ছাড়া তিনি সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সোমবার মালয়েশিয়ার রাজধানী পুত্রজায়ার পারদানা পুত্রা কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরপর দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক নিয়ে এবং নানা ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতিবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতাসংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দলিল দুটি বিনিময় করেন। এ ছাড়া ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বিষয়ে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) বৈঠকের আয়োজন এবং নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রকাশিত বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার যৌথ ঘোষণায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজন খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী আজ বুধবার দালিয়ান থেকে চীনের রাজধানী বেইজিং পৌঁছানোর পর বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে যোগ দেবেন। প্রায় এক শ চীনা বিনিয়োগকারী ও ব্যাবসায়িক নেতার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠেয় এই ফোরামে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনার নানা দিক তুলে ধরা হবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১০টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও বিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ধারাবাহিক উদ্যোগ অর্থনৈতিক কূটনীতি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমাদের প্রত্যাশাও তাই। ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সহযোগিতায় বাংলাদেশের উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হোক। বাংলাদেশ এগিয়ে যাক সমৃদ্ধির পথে।

