• ই-পেপার

বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনী-সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে নিহত ৩০

গ্রিনল্যান্ড দখলে ট্রাম্পের সঙ্গে ন্যাটোর টানাপোড়েন, হুঁশিয়ারি ডেনমার্কের

অনলাইন ডেস্ক
গ্রিনল্যান্ড দখলে ট্রাম্পের সঙ্গে ন্যাটোর টানাপোড়েন, হুঁশিয়ারি ডেনমার্কের
রয়টার্স ছবি

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে আবারও গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং ডেনমার্ক তার সার্বভৌম ভূখণ্ড রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তুরস্কের রাজধানী আংকারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ডেনমার্কের নয়, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত।’

তিনি আরো দাবি করেন, ‘ইউরোপের এ অবস্থানই ন্যাটোর সঙ্গে তার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’

মার্কিন সংবাদ সংস্থা দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের পাশে বসে ট্রাম্প আরো বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের জন্য একটি বড় বিষয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ডেনমার্কের জন্য নয়।’

তবে এর জবাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আমরা জানি। কিন্তু আমাদের অবস্থানও একইভাবে পরিষ্কার।’

গ্রিনল্যান্ড অবশ্যই বিক্রির জন্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র। সবাইকে আমাদের ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করতে হবে।’

ডেনমার্ক তার ভূখণ্ড রক্ষা করবে কি না—এ প্রশ্নের উত্তরে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ‘অবশ্যই আমরা ডেনমার্কের রাজ্যকে রক্ষা করব।’

তিনি ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতি (আর্টিকেল-৫) স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, কোনো মিত্র দেশের ওপর হামলা হলে সবাইকে একসঙ্গে প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে এবং গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য।

পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং সেটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং একটি ‘ভালো প্রক্রিয়া’ এগোচ্ছে।

এদিকে কূটনৈতিক সূত্রের মতে, চলমান এই আলোচনায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি, খনিজ সম্পদে বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আর্কটিক অঞ্চলে ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান তৎপরতার প্রেক্ষাপটে আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতিও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে ইউরোপীয় কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের প্রতিরক্ষার বিষয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সংশয় ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নীতি ‘আর্টিকেল-৫’ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক বাতিল করেছেন হেগসেথ

অনলাইন ডেস্ক
এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক বাতিল করেছেন হেগসেথ
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার (৮ জুন) তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার জন্য নির্ধারিত একটি বৈঠক বাতিল করেছেন। একজন ইসরায়েলি সূত্র রয়টার্সকে এই খবর জানিয়েছে। 

ওই বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। সূত্রটির মতে, তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি হলে তা ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র আরো জানায়, ইসরায়েল সফরের সময় হেগসেথের সঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সেখানে ইরান ইস্যু আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হওয়ার কথা ছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা এখন কার্যত শেষ হয়ে গেছে।

তিনি জানান, তেহরানের সঙ্গে আর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা রাখতে চান না। এদিকে ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি নিয়ে বাতিল হওয়া বৈঠক সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

ন্যাটোর সদস্য তুর্কি দীর্ঘদিন ধরে গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে আসছে। এ ছাড়া আঙ্কারা বারবার অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, তিনি তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিরোধী। এ বিষয়ে তিনি নিজের আপত্তির কথা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি হলে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তার দাবি, ‘তুরস্কের আক্রমণাত্মক ইচ্ছা রয়েছে।’

এদিকে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার ঘোষণা দেন, ২০১৯ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্কের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি ন্যাটো মিত্র তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির আগ্রহও প্রকাশ করেন। তবে এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এবং ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ তুর্কি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। তা সত্ত্বেও মার্কিন আইনের কারণে তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির বিষয়টি এখনো আটকে রয়েছে।

মার্কিন হামলায় আইআরজিসি সদস্য নিহত

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন হামলায় আইআরজিসি সদস্য নিহত
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন হামলায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার খবরে এ কথা জানানো হয়েছে। 

আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরনা জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দর শহর মাহশাহরে শত্রুপক্ষের একটি ড্রোন মোকাবেলার সময় মোহাম্মদ রেজা খাজিনি নামে ওই সদস্য স্প্লিন্টারের আঘাতে নিহত হন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত নতুন করে শুরু হওয়ার পর দক্ষিণ ইরানের বন্দর শহর বুশেহরে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের মেহর সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বুশেহর ও আশপাশের এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। বুশেহরে ইরানের একমাত্র বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত। শহরটি খার্গ দ্বীপের কাছেও অবস্থিত, যেখান দিয়ে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা হয়।

মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান
সংগৃহীত ছবি

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর প্রদেশে একটি শক্তিশালী মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এ দাবি করেছে বলে জানায় তুর্কি সংবাদ মাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার ভোরে দেশটির খোরমুজ এলাকার আকাশে আইআরজিসির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং সেটি ভূপাতিত হয়। 

আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সন্ত্রাসী মার্কিন বাহিনীর বিমান আগ্রাসনের’ জবাবে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট ড্রোনটিকে সফলভাবে গুলি করে নামিয়েছে।

তার দাবি, ভোরের ওই অভিযানের সময় ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল।  

এর আগে আইআরজিসি জানায়, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত ৮৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। ওই হামলার পরই দ্বিতীয় মার্কিন ড্রোনটি ভূপাতিত করার দাবি করা হয়।