• ই-পেপার

যুক্তরাজ্যে বজ্রপাতের আঘাতে একাধিক বাড়িতে ভয়াবহ আগুন

জর্জিয়ার পার্লামেন্টে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে হাতাহাতি

অনলাইন ডেস্ক
জর্জিয়ার পার্লামেন্টে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে হাতাহাতি
ছবি : সংগৃহীত

জর্জিয়ার সংসদে তুমুল হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার ( ২৬ জুন) বসন্তকালীন অধিবেশনের শেষ বৈঠকে ক্ষমতাসীন জর্জিয়ান ড্রিম পার্টি ও বিরোধী দল ফর জর্জিয়ার সংসদ সদস্যদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজে তার বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করছিলেন।

নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী জর্জি গাখারিয়ার নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল ‘ফর জর্জিয়া’-এর সংসদ সদস্য জর্জি শারাশিদজে প্রশ্নোত্তর পর্বে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সাম্প্রতিক জর্জিয়া সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তার এই মন্তব্যের পর সংসদ কক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

পরে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং কয়েক মিনিট ধরে ধাক্কাধাক্কি ও বাকবিতণ্ডা চলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সংসদের নিরাপত্তা কর্মীরা বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্যকে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করে দেন।

ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, প্রথমে দুই এমপির মধ্যে মারামারি শুরু হয়। জানা গেছে, তারা হলেন জর্জিয়ান ড্রিমের ইরাকলি খেলাদজে এবং ফর জর্জিয়ার গিগা পারুলাভা। এরপর এতে আরো পুরুষ ও নারী আইনপ্রণেতারা জড়িয়ে পড়েন।

হাতাহাতি-মারামারি যখন চলছিল, তখন কোবাখিডজে এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের দূর থেকে নিজেদের চেয়ারে বসে তা পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়।

প্রশ্নোত্তর পর্বের সময় পোডিয়াম থেকে দেওয়া বক্তব্যে ফর জর্জিয়ার জর্জি শারাশিডজে আলিয়েভের এপ্রিল সফর এবং জর্জিয়ান ড্রিমের প্রতিষ্ঠাতা ও অনারারি চেয়ারম্যান বিদজিনা ইভানিশভিলির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন। 

প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য জর্জি শারাশিদজে প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের জর্জিয়া সফরের সময় প্রকাশিত ছবিগুলোতেই সরকারের ভেতরে কোবাখিদজের প্রকৃত অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

শারাশিদজের ভাষায়, ‘প্রেসিডেন্ট আলিয়েভ যখন জর্জিয়ায় ছিলেন, তখন পুরো দেশ সেই ছবিগুলো দেখেছে। সেখানে আপনি এক পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যা এই সরকারের মধ্যে আপনার প্রকৃত ভূমিকা ও অবস্থানকে তুলে ধরে।’ তার এই মন্তব্যের পর সংসদ কক্ষে হট্টগোল শুরু হয়। তিনি আরো বলেন, ‘জর্জিয়ায় অনেক প্রধানমন্ত্রী এসেছেন, কিন্তু এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখা যায়নি।’

এরপর তিনি ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের নির্লজ্জতা ও অভদ্রতা অন্য কোথাও নিয়ে যান।’ শারাশিদজের বক্তব্যের পর ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। এতে সংসদ কক্ষের পরিবেশ দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

একপর্যায়ে শারাশিদজে মঞ্চ থেকে নামার সময় ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। কয়েক মিনিট ধরে উভয় পক্ষের সদস্যদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষ চলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সংসদের নিরাপত্তা কর্মীরা হস্তক্ষেপ করেন। এ সময় সরাসরি সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সংঘর্ষে জড়িতদের মধ্যে ক্ষমতাসীন জর্জিয়ান ড্রিম দলের কয়েকজন সংসদ সদস্যও ছিলেন। তাদের মধ্যে লাশা তালাখাদজেকে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তিনি ভারোত্তোলনে তিনবারের অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া সংসদের আইনি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান আর্চিল গোরদুলাদজেকেও সংঘর্ষে জড়িত থাকতে দেখা যায়।

হাতাহাতির ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সংসদ ভবনে জরুরি চিকিৎসা সেবা দলকে ডাকা হয়। পরে চিকিৎসাকর্মীদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

মার্কিন হামলার কড়া নিন্দা, সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ ইরানের

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন হামলার কড়া নিন্দা, সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ ইরানের
সংগৃহীত ছবি

সমঝোতা স্মারক সইয়ের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে আবারও একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী দফার বৈঠক হওয়ার কয়েক দিন আগে এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার জবাব হিসেবে তারা ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই জাহাজে হামলার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করেন। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে সিরিক শহরের একটি জেটির পাশে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। পাশাপাশি কেশম দ্বীপেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তারা ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব দিতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। হামলার কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন সেনাবাহিনী অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করে। এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, সহিংসতার জবাব সহিংসতার মাধ্যমেই দেওয়া হবে। ইরানে হামলার পর তিনি এই মন্তব্য করেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর একই দিনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি কাঠামোগত চুক্তির পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহর মতো রাষ্ট্রের বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিরস্ত্র হওয়ার পর ধাপে ধাপে লেবানন থেকে সেনা সরিয়ে নেবে ইসরায়েল।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনায় হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারা লঙ্ঘন করেছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার জবাবে তারা ওই অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সংস্থাটি আরো দাবি করেছে, সমঝোতা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ইরানের হাতে রয়েছে। বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালি। ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি অভিযোগ করেন, আলোচনা চলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে প্রমাণ করেছে যে তারা কূটনীতি ও যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আন্তরিক নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও আলোচনার মধ্যেই ইরানে হামলা চালিয়েছে। এদিকে হরমোজগান প্রদেশের বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পরও সিরিক বন্দরে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংগঠন ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিল (এনআইএসি) এই সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির মতে, দুই দেশ যখন কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরেছে, তখন মতপার্থক্য সমাধানে সামরিক হামলার পরিবর্তে আলোচনার পথই অনুসরণ করা উচিত।
 
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন একটি কাঠামোগত চুক্তিতে সই করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসানের পথ তৈরি হবে। তবে ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহ চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির দাবি, এই চুক্তি শুধু ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করবে। লেবাননের রাজধানী বৈরুতেও চুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চুক্তিতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। এদিকে লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার রাতে সীমান্তবর্তী মারকাবা শহরের কাছে ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে বোমা হামলা চালিয়েছে।

হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, এই হামলা দুই দেশের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তার ভাষায়, এটি ছিল একটি ‘বোকামিপূর্ণ’ পদক্ষেপ। ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, এই পথে চলাচলকারী সব জাহাজকে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং নিরাপদ পথ ব্যবহার করতে হবে। এদিকে জাতিসংঘ হরমুজ প্রণালিকে সব সময় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের বলেন, যেকোনো চুক্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সব পক্ষেরই মেনে চলা জরুরি। এতে উত্তেজনা কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও স্বাভাবিক থাকবে। এদিকে তেহরান থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক রেসুল সারদার আতাস জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বিশেষ যোগাযোগব্যবস্থা চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এমন কোনো ব্যবস্থা বর্তমানে নেই। ভবিষ্যতেও এটি চালুর পরিকল্পনা নেই বলেও তারা জানিয়েছে।

আতাস আরো বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় নিজেদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করে। তার মতে, এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা তেহরানের জন্য শুধু নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করার অন্যতম প্রধান উপায়ও। তাই হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাকে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।
 

মেলোনি-ট্রাম্প দ্বন্দ্ব, সমাধানের পথ কঠিন

অনলাইন ডেস্ক
মেলোনি-ট্রাম্প দ্বন্দ্ব, সমাধানের পথ কঠিন
ছবি : রয়টার্স

ইতালির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি মিম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে এমন সব কাজ করতে দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণত কোনো ‘সম্পর্ক’ ভেঙে যাওয়ার পর মানুষ করে থাকে।

একটি ভুয়া ছবিতে তাকে নতুন চুলের স্টাইল করতে দেখা যায়। অন্য ছবিগুলোতে তিনি একা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, ম্যারাথনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং একটি ডেটিং অ্যাপে প্রোফাইল খুলছেন। ছবিগুলোর কোনোটিই বাস্তব নয়। তবে এগুলো জনপ্রিয় হয়েছে, কারণ এগুলো মেলোনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিরোধকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরেছে।

গত কয়েক মাসে দুই নেতার সম্পর্ক বেশ টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। রাজনৈতিক সমালোচনা, ব্যক্তিগত মন্তব্য এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কারণে একসময়ের ঘনিষ্ঠ এই রাজনৈতিক সম্পর্ক অনেকটাই শীতল হয়ে পড়েছে। অথচ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে বসা একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন মেলোনি।

এপ্রিল মাসে ইউরোপীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তেজনা কমাতে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি হিসেবে মেলোনিকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল।

ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ইতালীয় ডানপন্থী রাজনীতি থেকে উঠে আসা মেলোনি রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে মূলধারার বাইরে ছিলেন। পরে তিনি নিজেকে ইউরোপের ডানপন্থী রাজনীতির একজন মধ্যপন্থী ও গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মেলোনি ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল না। এটি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বোঝাপড়ার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো।

মেলোনির জন্য ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রভাব বাড়ানোর একটি বড় সুযোগ ছিল। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের কাতারে নিজের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে সক্ষম হন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত ও বিতর্কিত আচরণ সামলানো প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে। এর ফলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার রাজনৈতিক অবস্থান ও বিশ্বাসযোগ্যতা কিছুটা চাপে পড়ে।

দুই নেতার সম্পর্কের প্রথম বড় টানাপড়েন দেখা দেয় মার্চের শেষ দিকে। সে সময় ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংসদের অনুমোদন ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যগামী মার্কিন সামরিক বিমানকে সিসিলির সিগোনেলা ন্যাটো ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ইতালির সংবিধান এবং যুদ্ধবিরোধী জনমতের কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কয়েক সপ্তাহ পর দুই নেতার বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে। এপ্রিল মাসে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোপ লিও চতুর্দশের সমালোচনা করেন। যুদ্ধ নিয়ে পোপের অবস্থানের জবাবে তিনি তাকে অপরাধ দমনে দুর্বল বলে মন্তব্য করেন।

ক্যাথলিক সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইতালির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেলোনি ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি পোপের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন। মেলোনির এই অবস্থান ভালোভাবে নেননি ট্রাম্প।

ইতালীয় দৈনিক ‘কোরিয়েরে দেলা সেরা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি তার আচরণে বিস্মিত। আমি ভেবেছিলাম তিনি সাহসী, কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।’

ট্রাম্প আরো বলেন, ‘তিনি আর আগের মানুষ নেই। ইতালিও আর আগের দেশ নেই।’ তার এই মন্তব্য দুই নেতার মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব স্পষ্ট করে তুলেছে। তবে জুন মাসে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বলে মনে হয়।

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিকে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে আলোচনা করতে দেখা যায়। পরে ইতালীয় কর্মকর্তারা জানান, দুই নেতার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মেলোনিও বলেন, বৈঠকের পরিবেশ ছিল ইতিবাচক এবং সেখানে কোনো উত্তেজনা ছিল না।

এ কারণে ধারণা করা হচ্ছিল, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তৈরি হওয়া টানাপোড়েন ধীরে ধীরে কমে আসছে। কিন্তু সেই ধারণা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। সাংবাদিকরা খবর প্রকাশ করার আগেই নতুন বিতর্ক শুরু হয়।

কয়েক দিন পর ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল লা৭-কে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘তিনি আমার সঙ্গে ছবি তুলতে খুবই আগ্রহী ছিলেন। আমি ছবি তুলতে চাইনি, কিন্তু তার জন্য খারাপ লেগেছিল।’ এর জবাবে মেলোনি একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দেন।

তিনি বলেন, ‘আমি জানি না কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন। তবে তিনি যদি পশ্চিমা বিশ্বের শত্রুদের প্রতিও একই দৃঢ়তা দেখাতেন, তাহলে আরো ভালো হতো। আর একটি বিষয় তিনি মনে রাখবেন, আমি বা ইতালি কখনো কারো কাছে অনুরোধ বা ভিক্ষা করি না।’

চাঁদ ও মঙ্গলে মিশন এগিয়ে নিতে ৩৭ প্রতিষ্ঠান বেছে নিল নাসা

অনলাইন ডেস্ক
চাঁদ ও মঙ্গলে মিশন এগিয়ে নিতে ৩৭ প্রতিষ্ঠান বেছে নিল নাসা
সংগৃহীত ছবি

চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যকে সামনে রেখে ৩৭টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে বেছে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি সিয়াটল এলাকার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। নির্বাচিত এসব প্রতিষ্ঠান নাসার বিভিন্ন প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজে অংশ নেবে।

নাসা জানায়, তারা যে সহযোগিতা কর্মসূচির আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেছে নিয়েছে, সেখানে কম্পানিগুলো নাসার অংশীদার হিসেবে কাজ করার জন্য আবেদন করেছিল। এই প্রস্তাবগুলোর লক্ষ্য হলো মহাকাশে যাতায়াতের প্রযুক্তি উন্নয়ন, গ্রহের পৃষ্ঠে কাজ করার সক্ষমতা তৈরি এবং চাঁদের ওপর ভবিষ্যতের জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলা। নাসার গবেষণা ও প্রযুক্তি মিশন বিভাগের উন্নত গবেষণা ও প্রযুক্তি শাখার পরিচালক গ্রেগ স্টোভার এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চাঁদ, মঙ্গল ও এর বাইরের অভিযানে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করছে নাসা। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক খাতের সক্ষমতা ব্যবহার করলে দ্রুত নতুন প্রযুক্তি তৈরি করা সম্ভব হবে এবং বড় মহাকাশ মিশনগুলো এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে মহাকাশভিত্তিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।

নাসা জানিয়েছে, এই চুক্তিগুলোর আওতায় কোনো অর্থ লেনদেন হবে না। তবে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো নাসার বিশেষ গবেষণাগার, সফটওয়্যার, যন্ত্রপাতি এবং বিশেষজ্ঞদের সহায়তা ব্যবহার করতে পারবে। এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের প্রযুক্তি উন্নয়ন করতে পারবে, যা বাণিজ্যিক এবং সরকারি- দুই ক্ষেত্রেই ব্যবহারযোগ্য হবে। প্রতিটি চুক্তির মেয়াদ আলাদা হবে, সাধারণত ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে।

নির্বাচিত ৩৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিয়াটলের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হলো—

অ্যারোজেট রকেটডাইন
রেডমন্ডভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান মহাকাশযানের চালনা ব্যবস্থার জন্য থ্রাস্টার তৈরি করে।

ব্লু অরিজিন
জেফ বেজোস প্রতিষ্ঠিত কেন্টভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান নাসার আর্টেমিস চন্দ্র কর্মসূচির জন্য মানুষবাহী ও কার্গো চন্দ্রযান তৈরি করছে। পাশাপাশি চাঁদের সম্পদ ব্যবহার করে ভবিষ্যতের যন্ত্রাংশ তৈরির প্রযুক্তিও উন্নয়ন করছে।

স্টারক্লাউড
রেডমন্ডের এই প্রতিষ্ঠান মহাকাশে ডেটা সেন্টার তৈরি করার জন্য হাজার হাজার স্যাটেলাইট পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

স্টোক স্পেস
সাবেক ব্লু অরিজিন কর্মীদের তৈরি এই কেন্টভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুনর্ব্যবহারযোগ্য মাঝারি ক্ষমতার রকেট তৈরি করছে।

জেনো পাওয়ার সিস্টেমস
সিয়াটল ও ওয়াশিংটন ডিসিতে কার্যক্রম থাকা এই প্রতিষ্ঠান মহাকাশ এবং পৃথিবীতে ব্যবহারের জন্য নতুন ধরনের পারমাণবিক ব্যাটারি তৈরি করছে।

বাকি ৩২টি নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে অ্যাডভান্সড কুলিং টেকনোলজিস, অ্যাস্ট্রোবোটিক টেকনোলজি, অ্যাক্সিওম স্পেস, লকহিড মার্টিন, মেড ইন স্পেস, ম্যাক্স স্পেস, অরবিটাল কম্পোজিটস, টেলিডাইন এনার্জি সিস্টেমসসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান।

নাসা জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তারা সরকারি গবেষণা এবং বেসরকারি প্রযুক্তি খাতকে একসঙ্গে কাজ করাতে চায়, যাতে চাঁদ ও মঙ্গলে ভবিষ্যতের মানব মিশন আরো দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যায়।