• ই-পেপার

যুক্তরাজ্য সফরে হ্যারি-মেগান, থাকবেন রাজপরিবারের সরকারি বাসভবনে

'প্রধান গো ব্যাক' স্লোগানে ভারতজুড়ে আন্দোলনে নামছে সিজেপি

অনলাইন ডেস্ক
'প্রধান গো ব্যাক' স্লোগানে ভারতজুড়ে আন্দোলনে নামছে সিজেপি
সংগৃহীত ছবি

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে শুক্রবার এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, কৃষক এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনকে ২৮ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিজিৎ দীপকে জানান, শিক্ষাব্যবস্থার নানা অনিয়ম এবং নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই আন্দোলন শুরু হচ্ছে। তবে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি আরো জানান, সমাজকর্মী ও পরিবেশ আন্দোলনের নেতা সোনম ওয়াংচুক রোববার থেকে যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া 'প্রধান গো ব্যাক' কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। একই দিন তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করবেন। অভিজিৎ দীপকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দ্রুত পদত্যাগ করানো উচিত। তা না হলে এই ঘটনার দায় প্রধানমন্ত্রীকেও নিতে হবে। তার ভাষায়, কোনো ব্যবস্থা না নিলে মোদিকে একজন অযোগ্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখা হবে।

ডিজিটাল ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করা সিজেপি গত ২০ জুন থেকে যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। দলটির দাবি, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়মের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। দীপকে বলেন, আন্দোলন শুরুর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ধর্মেন্দ্র প্রধান এখনো কোনো দায়িত্ব স্বীকার করেননি। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের কেউ জবাবদিহি করছেন না। তার দাবি, এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এই পরিস্থিতিতে একজন শিক্ষক ও বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিত সোনম ওয়াংচুককে অনশনে বসতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের সমালোচনা করে দীপকে বলেন, শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর নৈতিক দায় শিক্ষামন্ত্রীর। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী বলা হলেও প্রকৃত দায় সরকারের। তিনি বলেন, 'প্রধান গো ব্যাক' কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের কাছে জবাবদিহি চাওয়া হবে। পাশাপাশি সারা দেশে এই দাবিকে ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।  অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কৃষক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবাইকে একসঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষার দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো ভুলের পরও সরকারের একজন মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করছেন না। তার মতে, জবাবদিহি ছাড়া গণতন্ত্র কার্যকর হতে পারে না। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর দায় থেকেও তিনি মুক্ত থাকতে পারবেন না। আত্মহত্যা করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানান সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা। 

কংগ্রেসের ঘোষিত আন্দোলন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দীপকে বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সব দলেরই শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাঁড়ানো উচিত। ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলে আন্দোলন শেষ হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনই সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব নয়। আর শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করলেও জনরোষ পুরোপুরি কমবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থলে বিক্ষোভকারী ও স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর হামলার অভিযোগও করেন অভিজিৎ দীপকে। তার দাবি, অভিযোগ করার পরও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার নিয়ে আসা মানুষদেরও হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি এক স্বেচ্ছাসেবকের শ্বশুরবাড়িতেও লোকজন গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার মামলা করার দাবি জানান দীপকে।

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাসও পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এক স্বেচ্ছাসেবক মাথায় গুরুতর আঘাত পেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ যথাযথ ধারায় মামলা করেনি। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিভাবকদের উদ্দেশে অভিজিৎ দীপকে বলেন, সন্তানদের আন্দোলনে অংশ নিতে বাধা দেওয়া উচিত নয়। তার মতে, এই আন্দোলন তাদের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত।

মূল্যসীমা মানলে রাশিয়ার তেল বিক্রি নয়, নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ালেন পুতিন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
মূল্যসীমা মানলে রাশিয়ার তেল বিক্রি নয়, নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ালেন পুতিন

যারা জি-৭ ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মূল্যসীমা মানবেন, তাদের কাছে জ্বালানি সরবরাহ না করার মেয়াদ আরো বাড়িয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল। পুতিন সেটা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। গত শুক্রবার প্রেসিডেন্টের এক নির্বাহী আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশে বলা হয়, কোনো বিদেশি কম্পানি বা ব্যক্তির সঙ্গে চুক্তিতে যদি মূল্যসীমা নির্ধারণের কোনো শর্ত থাকে, তবে তাদের কাছে রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহ করা নিষিদ্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা চূড়ান্ত ভোক্তা পর্যন্ত সরবরাহের সব কয়টি ধাপের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর জি৭ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার জ্বালানি কেনার ওপর মূল্যসীমা আরোপ করে। প্রথমে ক্রুড অয়েলের ব্যারেল প্রতি সর্বোচ্চ মূল্য ৬০ ডলার নির্ধারণ করা হলেও পরে তা কমিয়ে আনা হয় ৪৪ ডলার ১০ সেন্টে। বেঁধে দেওয়া এ দামের চেয়ে বেশি দামে কেউ রাশিয়ার তেল কিনলে তারা পশ্চিমা জাহাজ পরিবহন ও বীমা সুবিধা পাবেন না। জ্বালানি তেল বিক্রি থেকে রাশিয়ার আয় কমিয়ে তাদের চাপে ফেলার জন্যই পশ্চিমারা এ মূল্যসীমা আরোপ করেছিল। রাশিয়া হলো অন্যতম শীর্ষ জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ। আর শিপিং এবং বীমা সুবিধার বেশির ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে পশ্চিমা দেশগুলো। পশ্চিমারা ভেবেছিল, মূল্যসীমা বেঁধে দিলে রাশিয়া প্রবল চাপে পড়বে, তাদের আয় কমে যাবে এবং রাশিয়া পশ্চিমাদের কাছে নতি স্বীকার করবে। কিন্তু ঘটনা ঘটেছে উল্টো। রাশিয়া ব্যাপারটিকে নিয়েছে নিজেদের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে। তাদের তেলের দামের সীমা বেঁধে দেবে পশ্চিমারা, এটা মানতে পারেননি পুতিন। উল্টো তিনি যারা পশ্চিমাদের মূল্যসীমা মানবেন তাদের কাছে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেন। ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বেড়েছে। সর্বশেষ বাড়ল গত শুক্রবার। রাশিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে, প্রয়োজনে তারা তেল উৎপাদন কমিয়ে দেবে, তবুও পশ্চিমাদের বেঁধে দেওয়া মূল্যসীমা মানবে না।

মূল্যসীমা আরোপের মাধ্যমে রাশিয়াকে চাপে ফেলতে চাইলেও উল্টো চাপে পড়েছে পশ্চিমারা। তাদের এখন চড়া দামে দূর থেকে তেল কিনতে হচ্ছে। মূল্যসীমার পাল্টা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রাশিয়া পশ্চিমাদের উল্টো চাপে ফেলেছে। পশ্চিমারা জ্বালানি তেলের মূল্যসীমা বেঁধে দেওয়ায় শুরুতে রাশিয়ার অর্থনীতিও প্রবল চাপের মুখে পড়েছিল। তবে রাশিয়া দ্রুত কৌশল পাল্টে চাপ কমিয়ে নেয়। ইউরোপ থেকে তারা বাজার সরিয়ে এনেছে এশিয়ায়। চীন, ভারত এখন রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা। এখানে দুপক্ষেরই লাভ। রাশিয়া তার তেলের জন্য বড় বিকল্প বাজার পেয়ে গেছে। আবার চীন, ভারতও বাজারমূল্য থেকে কম দামে তেল কিনতে পারছে। তবে ছাড় দিয়েও রাশিয়া চীন-ভারতের কাছে যে দামে তেল বিক্রি করছে, তাও পশ্চিমাদের বেধে দেয়া মূল্যসীমার চেয়ে বেশি। ফলে রাশিয়া দ্রুত তাদের চাপ কমিয়ে ফেলতে পেরেছে। কিন্তু পশ্চিমাদের তেল কিনতে হচ্ছে চড়া দামেই।

আর পশ্চিমা শিপিং পরিবহন ও বিমা সুবিধাকে ফাঁকি দিতে রাশিয়া শ্যাডো ফ্লিট বা ছদ্মবেশী জাহাজের বিশাল বহর সমূদ্রে নামায়। তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামে নিবন্ধিত এসব পুরোনো ট্যাংকারের বিমা সুবিধা দিচ্ছে রাশিয়া। শ্যাডো ফ্লিটের মাধ্যমে রাশিয়া কার্যত পশ্চিমাদের মূল্যসীমার অস্ত্র, জাহাজ পরিহন ও বিমা সুবিধার অস্ত্রকে অকার্যকর করে ফেলেছে। চীন ও ভারতের সাথে রাশিয়ার বেচাকেনা হয় ইউয়ান ও রুপিতে। ফলে অস্ত্র হিসেবে ডলারের ধারও অনেকটা কমিয়ে আনতে পেরেছে রাশিয়া। ফলে রাশিয়াকে দুর্বল করতে পশ্চিমাদের আরোপ করা জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ মূল্যসীমা উল্টো রাশিয়াকে আরো শক্তিশীলী ও কৌশলী করেছে। তারা বিকল্প বাজার খুঁজে পেয়েছে, ডলারের ধার কমছে আর পশ্চিমাদের জ্বালানি কেনার খরচ বাড়ছে।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ

ভেনিজুয়েলায় জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বেঁচে থাকা মানুষদের খুঁজে বের করার অভিযান এখনও চলছে। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দলও ভেনিজুয়েলায় পৌঁছেছে।

রাজধানী কারাকাসের একটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গেলে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকারের ধীরগতির ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার জানান, বুধবার সন্ধ্যায় মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দেশের উত্তরাঞ্চলের বহু ভবন ধসে পড়ে।

রাজধানী কারাকাসের কাছের উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শক্তিশালী ভূমিকম্পে সেখানে একের পর এক ভবন ধসে পড়েছে এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ভেনিজুয়েলার উত্তর উপকূলে শুক্রবার (২৬ জুন) ৪.৯ মাত্রার আরো একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ইউরোপীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা (ইএমএসসি) জানিয়েছে, সর্বশেষ ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল উত্তর ভেনিজুয়েলার মারাকাই শহর থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ভূমিকম্পের কম্পন মারাকাই ও রাজধানী কারাকাসেও অনুভূত হয়েছে।

এ পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৩৬০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ১৭২ জনের বেশি মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। ভেনিজুয়েলা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৫০ হাজারেরও বেশি।

শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় প্রবেশ সীমিত করা হবে। উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই সংগঠিত হচ্ছেন। তারা খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী সংগ্রহের পাশাপাশি জীবিতদের খোঁজে কাজ করছেন। অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়িকে অস্থায়ী অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করছেন।

সরকার এক্স (সাবেক টুইটার)সহ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ এখন নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারছেন।

 

 

কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ভেনেজুয়েলা

অনলাইন ডেস্ক
কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ভেনেজুয়েলা
ছবি : রয়টার্স

ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলে শুক্রবার (২৬ জুন) ৪.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর কয়েক দিন আগে, বুধবার সন্ধ্যায় দেশটিতে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা অন্তত ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া রাজধানী কারাকাসের বেশ কিছু এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইউরোপীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা (ইএমএসসি) জানিয়েছে, সর্বশেষ ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল উত্তর ভেনেজুয়েলার মারাকাই শহর থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ভূমিকম্পের কম্পন মারাকাই ও রাজধানী কারাকাসেও অনুভূত হয়েছে।

বুধবারের দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা এখনো চরম বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্প দুটির মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭.২ ও ৭.৫। ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ধারণা করছে, শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৩৬০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ১৭২ জনের বেশি মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। ভেনেজুয়েলা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৫০ হাজারেরও বেশি।

শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় প্রবেশ সীমিত করা হবে। উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই সংগঠিত হচ্ছেন। তারা খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী সংগ্রহের পাশাপাশি জীবিতদের খোঁজে কাজ করছেন।

অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়িকে অস্থায়ী অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করছেন। সরকার এক্স (সাবেক টুইটার)সহ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ এখন নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারছেন। ২০২৪ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর এসব প্ল্যাটফরমের ওপর নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল।

২৫ বছর বয়সী জেনিফার প্যালাসিওস জানান, উদ্ধারকাজের বেশির ভাগই স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এলাকার মানুষই ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অনেককে জীবিত উদ্ধার করেছে।’

জেনিফারের ছয় বছর বয়সী ছেলেসহ তার আরো পাঁচজন আত্মীয় এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। তিনি বলেন, ‘ধ্বংসাবশেষ সরাতে আমাদের জরুরি ভিত্তিতে ক্রেন দরকার। এখনো অনেক মানুষ আটকা পড়ে আছে।’