ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে শুক্রবার এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, কৃষক এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনকে ২৮ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিজিৎ দীপকে জানান, শিক্ষাব্যবস্থার নানা অনিয়ম এবং নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই আন্দোলন শুরু হচ্ছে। তবে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি আরো জানান, সমাজকর্মী ও পরিবেশ আন্দোলনের নেতা সোনম ওয়াংচুক রোববার থেকে যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া 'প্রধান গো ব্যাক' কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। একই দিন তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করবেন। অভিজিৎ দীপকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দ্রুত পদত্যাগ করানো উচিত। তা না হলে এই ঘটনার দায় প্রধানমন্ত্রীকেও নিতে হবে। তার ভাষায়, কোনো ব্যবস্থা না নিলে মোদিকে একজন অযোগ্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখা হবে।
ডিজিটাল ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করা সিজেপি গত ২০ জুন থেকে যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। দলটির দাবি, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়মের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। দীপকে বলেন, আন্দোলন শুরুর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ধর্মেন্দ্র প্রধান এখনো কোনো দায়িত্ব স্বীকার করেননি। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের কেউ জবাবদিহি করছেন না। তার দাবি, এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এই পরিস্থিতিতে একজন শিক্ষক ও বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিত সোনম ওয়াংচুককে অনশনে বসতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের সমালোচনা করে দীপকে বলেন, শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর নৈতিক দায় শিক্ষামন্ত্রীর। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী বলা হলেও প্রকৃত দায় সরকারের। তিনি বলেন, 'প্রধান গো ব্যাক' কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের কাছে জবাবদিহি চাওয়া হবে। পাশাপাশি সারা দেশে এই দাবিকে ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কৃষক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবাইকে একসঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষার দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো ভুলের পরও সরকারের একজন মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করছেন না। তার মতে, জবাবদিহি ছাড়া গণতন্ত্র কার্যকর হতে পারে না। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর দায় থেকেও তিনি মুক্ত থাকতে পারবেন না। আত্মহত্যা করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানান সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা।
কংগ্রেসের ঘোষিত আন্দোলন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দীপকে বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সব দলেরই শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাঁড়ানো উচিত। ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলে আন্দোলন শেষ হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনই সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব নয়। আর শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করলেও জনরোষ পুরোপুরি কমবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থলে বিক্ষোভকারী ও স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর হামলার অভিযোগও করেন অভিজিৎ দীপকে। তার দাবি, অভিযোগ করার পরও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার নিয়ে আসা মানুষদেরও হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি এক স্বেচ্ছাসেবকের শ্বশুরবাড়িতেও লোকজন গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার মামলা করার দাবি জানান দীপকে।
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাসও পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এক স্বেচ্ছাসেবক মাথায় গুরুতর আঘাত পেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ যথাযথ ধারায় মামলা করেনি। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিভাবকদের উদ্দেশে অভিজিৎ দীপকে বলেন, সন্তানদের আন্দোলনে অংশ নিতে বাধা দেওয়া উচিত নয়। তার মতে, এই আন্দোলন তাদের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত।




