• ই-পেপার

ভেনেজুয়েলায় পরপর শক্তিশালী ভূমিকম্প, ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা

স্কুলে বন্দুক হামলার জেরে ফিলিপাইনে গেমিং অ্যাপ নিষিদ্ধ

অনলাইন ডেস্ক
স্কুলে বন্দুক হামলার জেরে ফিলিপাইনে গেমিং অ্যাপ নিষিদ্ধ

ফিলিপাইনের একটি স্কুলে দুই কিশোরের ভয়াবহ বন্দুক হামলায় তিন শিক্ষার্থী নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছে। এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে এক সন্দেহভাজনের ওপর অনলাইন গেমের প্রভাব পাওয়ার পর, দেশে ‘গোরবক্স’ নামের একটি জনপ্রিয় গেমিং অ্যাপ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে ফিলিপাইন সরকার। সোমবার (২২ জুন) ম্যানিলার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত তাকলোবান শহরের সান হোসে ন্যাশনাল হাই স্কুলে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, ১৫ ও ১৪ বছর বয়সী দুই কিশোর নিজেদের স্কুলের বাথরুমে হামলার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে। তারা হ্যান্ডগান নিয়ে একটি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে সহপাঠীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত কিশোররা দাবি করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে বুলিং বা উৎপীড়নের শিকার হচ্ছিল। ১৪ বছর বয়সী কিশোরটি তার খালার ৯ মিমি পিস্তল ব্যবহার করেছিল, যিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তা (তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে)। অন্য কিশোরটি তার দাদার নিরাপত্তা সংস্থার নামে নিবন্ধিত পিস্তল ব্যবহার করেছিল।

তদন্তে জানা গেছে, ১৪ বছর বয়সী কিশোরটি ‘গোরবক্স’ গেমের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিল। এটি এমন একটি হিংসাত্মক ফার্স্ট-পার্সন শুটার গেম, যেখানে খেলোয়াড়রা বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ে নৃশংস লড়াইয়ে মেতে ওঠে। দেশটির সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার আন্ডার সেক্রেটারি আবয় পারাইসো বলেন, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনায় অনলাইন গেমের প্রভাবকে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।’

ফিলিপাইনের আইন অনুযায়ী, ১৪ বছর বয়সী কিশোরটির বয়স অনুসারে তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ আনা সম্ভব নয়। তবে ১৫ বছর বয়সী কিশোরটির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার পর ফিলিপাইনের সিনেটর ও শিক্ষাবিদেরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সিনেটর রিসা হন্টিভেরোস বলেছেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের মগজধোলাই ও উগ্রপন্থী করে তোলার আখড়ায় পরিণত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী সনি আঙ্গারা বলেছেন, ‘আমরা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া নিয়মিত স্কুল শুটিংয়ের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ফিলিপাইনে দেখতে চাই না।’

ইরানে যুদ্ধ চালাতে কংগ্রেসে আরো অর্থ চাইলেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
ইরানে যুদ্ধ চালাতে কংগ্রেসে আরো অর্থ চাইলেন ট্রাম্প
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের খরচ মেটাতে কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ৮৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার চেয়েছে। বুধবার হোয়াইট হাউস এই অর্থায়নের প্রস্তাব প্রকাশ করে এবং তা কংগ্রেসে পাঠায়। তবে প্রস্তাবটি প্রকাশের পরপরই রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট- উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ, অর্থাৎ ৬৭ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার, সামরিক খাতে ব্যয় করা হবে। এর আগে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেট ছিল প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার। আর আগামী অর্থবছরের জন্য ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার সামরিক বাজেট চেয়েছে। প্রশাসনের দাবি, নতুন এই অর্থ মূলত ইরান যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজন। এই অর্থ দিয়ে সেনা সদস্যদের ব্যয়, যুদ্ধের প্রস্তুতি বজায় রাখা, ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত পুনর্গঠন এবং বিভিন্ন গোপন সামরিক কর্মসূচির খরচ মেটানো হবে। প্রস্তাবে আরো ২১ বিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে নতুন গোলাবারুদ কেনা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করা এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য।

এদিকে যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ আরো বেড়েছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট একটি যুদ্ধক্ষমতা-সংক্রান্ত প্রস্তাব পাস করেছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে একই ধরনের একটি প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদেও পাস হয়েছিল। দুই কক্ষেই ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন সদস্য প্রায় সব ডেমোক্র্যাট সদস্যের সঙ্গে একযোগে ভোট দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটিকে যুদ্ধনীতি নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এক ধরনের ভর্ৎসনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।  বুধবার কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলে মধ্যাহ্নভোজের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডির তর্কও হয়। পরে তা উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয়। ক্যাসিডি ছিলেন সেই রিপাবলিকান সদস্যদের একজন, যিনি ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান বন্ধের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই কংগ্রেসের সদস্যরা ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, যুদ্ধের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আইনপ্রণেতাদের যথেষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের সদস্যরাই বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধের জন্য সেনা মোতায়েনের চূড়ান্ত ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন সেই সাংবিধানিক ক্ষমতাকে উপেক্ষা করছেন।

আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা অনেকটাই নির্ধারিত হবে। বর্তমানে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই কম। ফলে বিতর্কিত এই যুদ্ধের অর্থায়ন নিয়ে ভোট দেওয়া তাদের জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। জনমত জরিপে ইরান যুদ্ধের প্রতি সমর্থন খুবই কম। ফলে অনেক রিপাবলিকান সদস্য নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের চাপের মুখে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডেমোক্র্যাট নেতারা অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। অথচ সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার পরিবর্তে ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ ব্যয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলের নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, 'আমাদের উচিত আমেরিকান জনগণের খরচ কমানো। ট্রাম্পের জন্য আরেকটি খালি চেক লিখে দেওয়া নয়।'  সিনেটের বরাদ্দ কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্যাটি মারে বলেছেন, তিনি প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখবেন যাতে সেনা সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা যায়। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই বিপর্যয়কর এবং ইচ্ছাকৃতভাবে শুরু করা যুদ্ধের জন্য এত বড় অঙ্কের অর্থ বিনা প্রশ্নে অনুমোদন দিতে চান না। 

অতিরিক্ত বাজেট প্রস্তাবে শুধু যুদ্ধ ব্যয় নয়, আরো কয়েকটি খাতের জন্য অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। আফ্রিকায় ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার জন্য প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮০০ মিলিয়ন ডলার আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার জন্য এবং ৫০০ মিলিয়ন ডলার বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা জোরদারের জন্য ব্যয় করা হবে। এই অর্থ রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যবহার করা হবে। হোয়াইট হাউস বলেছে, ইবোলা যাতে যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে না পড়ে এবং আমেরিকান নাগরিকদের যেন নিরাপদ রাখা যায়, সে জন্য এই অর্থ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সমালোচকেরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ইবোলা সংকট শুরুর আগেই ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির বাজেট এবং আফ্রিকার জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছিল।

নতুন বাজেট প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের সহায়তার জন্য ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাবেক গাড়ির যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডেলফির অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন বাড়াতে এক বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ডেলফি একসময় জেনারেল মোটরসের অংশ ছিল। ২০০৯ সালে জেনারেল মোটরসের দেউলিয়া পরিস্থিতি পুনর্গঠনের সময় অনেক কর্মীর পেনশন কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। হোয়াইট হাউস আরো ৫০০ মিলিয়ন ডলার চেয়েছে ওয়াশিংটন ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য। পাশাপাশি নিউইয়র্কের গুরুত্বপূর্ণ রেল কেন্দ্র পেন স্টেশন পুনর্নির্মাণে সহায়তার জন্য আরো এক বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তবে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই কম হওয়ায় এই বিশাল ব্যয় পরিকল্পনা অনুমোদন পেতে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনের প্রয়োজন হবে। ফলে যুদ্ধ ব্যয়সহ পুরো প্রস্তাবটি আগামী সপ্তাহগুলোতে কংগ্রেসে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।


 

শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা

অনলাইন ডেস্ক
শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা
ছবি : রয়টার্স

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর দুইটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে দেশটিতে চরম বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজ তাৎক্ষণিকভাবে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্ধারকাজ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার (২৫ জুন) ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের পশ্চিম এলাকায় এই ভয়াবহ ভূমিকম্প দুইটি অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার (১৭৬ মাইল) পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে, যার মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২। এর পরপরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার (১৮২ মাইল) পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ইউএসজিএস প্রাথমিকভাবে অনুমান করছে যে, এই জোড়া ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। সংস্থাটির মতে, নিহতের সংখ্যা সম্ভবত ১০ হাজার থেকে এক লাখের মধ্যে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজ জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর দুর্গত এলাকাগুলোতে দ্রুত উদ্ধারকারী দল পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং জনগণকে শান্ত থেকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, এর কম্পন সারা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং এমনকি সুদূর কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটা পর্যন্ত তীব্রভাবে অনুভূত হয়। 

জাপানে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প, নেই সুনামি সতর্কতা

অনলাইন ডেস্ক
জাপানে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প, নেই সুনামি সতর্কতা
ছবি: রয়টার্স

জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে বৃহস্পতিবার ৬ দশমিক ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। এছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবরও পাওয়া যায়নি।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ইওয়াতে প্রদেশের উপকূলের বাইরে সমুদ্র এলাকায়। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে এ ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠে সামান্য পরিবর্তন দেখা গেলেও সুনামির কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহের জন্য তোহোকু অঞ্চলে একটি জরুরি দল গঠন করেছে জাপান সরকার। একই সঙ্গে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলা ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। দেশটির প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি কাঁপন অনুভূত হয়েছে আওমোরি প্রদেশে। জাপানের ০ থেকে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প তীব্রতা সূচকে সেখানে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬-প্লাস। এই মাত্রার ভূমিকম্পে সাধারণ মানুষের দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে হামাগুড়ি ছাড়া চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে যায়।

ভূমিকম্পের পর দেশের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতেও নজরদারি চালানো হয়। বিদ্যুৎ কোম্পানি তোহোকু ইলেকট্রিক পাওয়ার জানিয়েছে, তাদের ওনাগাওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বর্তমানে বন্ধ থাকা হিগাশিদোরি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ারসহ অন্যান্য কোম্পানির পরিচালিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতেও কোনো ধরনের সমস্যা বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পের কারণে পরিবহন ব্যবস্থায়ও সাময়িক প্রভাব পড়েছে। ইস্ট জাপান রেলওয়ে জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি ট্রেনের চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে তোহোকু শিনকানসেন উচ্চগতির রেলসেবাও রয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিদর্শনের জন্য আওমোরি অঞ্চলের কয়েকটি এক্সপ্রেসওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি হলো জাপান। দেশটিতে প্রায়ই ছোট-বড় ভূমিকম্প আঘাত হানে। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ৬ বা তার বেশি মাত্রার যে ভূমিকম্পগুলো ঘটে, তার প্রায় ২০ শতাংশই জাপানে অনুভূত হয়।

এর আগে ২০১১ সালের মার্চ মাসে জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে ৯ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। এটি ছিল দেশটির ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। ওই ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট বিশাল সুনামিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে।

সেই দুর্যোগের ফলে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, যা বিশ্বের অন্যতম বড় পারমাণবিক সংকটে পরিণত হয়। ১৯৮৬ সালের চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর এটিকেই বিশ্বের সবচেয়ে গুরুতর পারমাণবিক সংকটগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।