• ই-পেপার

‘ককরোচরা আসছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান যাচ্ছেন’—দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভ

সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউক্রেনের হামলা, ‘নজিরবিহীন’ বলল রুশ কর্তৃপক্ষ

অনলাইন ডেস্ক
সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউক্রেনের হামলা, ‘নজিরবিহীন’ বলল রুশ কর্তৃপক্ষ

যুদ্ধবিরতির আহ্বানের মাঝে ইউক্রেন আবারও বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়ায়। ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে কয়েক শ ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। ইউক্রেনের চালানো এই হামলাকে ‘নজিরবিহীন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেন্ট পিটার্সবার্গ ও তার আশপাশে ইউক্রেন একটি ‘নজিরবিহীন হামলা’ চালিয়েছে। যখন শহরটিতে রাশিয়ার বার্ষিক অর্থনৈতিক ফোরামের শেষ দিন চলছিল। যা শহরটিতে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে। 

গভর্নর আলেক্সান্দর দ্রোজদেঙ্কো বলেছেন, পার্শ্ববর্তী লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া ১৪০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। 

অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সেন্ট পিটার্সবার্গ বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রুশ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, রাশিয়ার হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার অস্ত্রাগার ও একটি নৌঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

যুদ্ধ শেষ করার জন্য সরাসরি আলোচনার আহ্বানকারী ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করার কোনো অর্থ নেই বলে ভ্লাদিমির পুতিনের এমন মন্তব্যের পরই এই হামলার ঘটনা ঘটল। তবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয় কোনো কিছু জানা যায়নি।

গত শনিবার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক্স দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ‘চলমান যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে।’ তবে তিনি রাশিয়ার নেতার বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাওয়ার’ অভিযোগ করেছেন তিনি।

মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে হরমুজ বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে হরমুজ বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের
সংগৃহীত ছবি

কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরানের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, নতুন এই উত্তেজনার মধ্যে আগ্রাসনের জবাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস রপ্তানি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছে দেশটি।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে-  হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল নিয়ে উত্তেজনার জেরে কেশম দ্বীপ ও সিরিক অঞ্চলে তাদের যোগাযোগ অবকাঠামোতে মার্কিন ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

এর জবাবে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ইউনিট কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে জানানো হয়। 

বিবৃতিতে আইআরজিসি আরো বলে, স্থানীয় সময় শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কয়েকটি ট্যাংকার অনুমতি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করে। সতর্ক করার পর একটি ট্যাংকারে আঘাত হানা হয় এবং বাকি জাহাজগুলো ফিরে যায়।

এর কিছু সময় পরই ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের দুটি টেলিযোগাযোগ স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এর প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতি হলে আইআরজিসি সতর্ক করে জানায়, এ ধরনের আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তার জবাব আরো কঠোর হবে।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তারা বলে, এর পরিণতির দায় মার্কিন-ইসরায়েলি জোটকেই বহন করতে হবে।

৫ বছরের মেয়েকে হত্যার পর মা পলাতক, পরকীয়া প্রেমিক গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
৫ বছরের মেয়েকে হত্যার পর মা পলাতক, পরকীয়া প্রেমিক গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

ভারতের বেঙ্গালুরুতে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা ও পরকীয়া প্রেমিকের বিরুদ্ধে। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, গত ২৪ মার্চ মৃত্যু হয় শিশু ভেন্নিলার। পরে শিশুটির বাবা প্রবীণ পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং তার প্রেমিক মোহন ভেন্নিলার মৃত্যুর জন্য দায়ী।

ঘটনার প্রায় তিন মাস পর শিশুটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

পুলিশ জানায়, বেঙ্গালুরুর দাভানাগেরের বাসিন্দা প্রবীণ ২০০৭ সালে প্রিয়াঙ্কাকে বিয়ে করেন। তাদের ১৭ ও ৫ বছর বয়সী দুই মেয়ে রয়েছে। কয়েক বছর আগে প্রিয়াঙ্কা তার কলেজের বন্ধু মোহনের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ শুরু করেন। পরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তারা একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন।

তাদের ওই সম্পর্ক নিয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে প্রিয়াঙ্কা বারবার বিবাহবিচ্ছেদের দাবি তুলেছিলেন। পরে তিনি ছোট মেয়ে ভেন্নিলাকে নিয়ে মোহনের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। পরে শিশুটিকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ এ ঘটনায় মোহনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে প্রিয়াঙ্কা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

তদন্তকারী ও পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হরমুজ বন্ধে যেভাবে সর্বোচ্চ লাভবান হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজ বন্ধে যেভাবে সর্বোচ্চ লাভবান হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় যেখানে পুরো বিশ্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সেখানে এর ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলো এক ধরনের প্রতিযোগিতাহীন সুবিধা পেয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যে তারা উচ্চমূল্যের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার সুযোগ অর্জন করেছে।

শুধু তাই নয়, ওয়াশিংটন নিজের স্বার্থে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল প্রতিষ্ঠান রসনেফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইগর সেচিন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, শনিবার সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে (এসপিআইইএফ) বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সেচিন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের পদক্ষেপ মূলত ইরানকে লক্ষ্য করে নেওয়া হলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুরো বিশ্বের ওপর।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে তেহরান। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। পাশাপাশি সারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের পরিবহনেও এটি একটি প্রধান রুট।

সেচিন বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের নিয়মকানুন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে পুনর্গঠনের একটি প্রচেষ্টা। এই পদক্ষেপের কৌশলগত ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।

তিনি বলেন, এতে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিল মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা প্রতিযোগিতাহীন সুবিধা পেয়েছে এবং উচ্চমূল্যের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার সুযোগ অর্জন করেছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সেচিন সতর্ক করে বলেন, হরমুজের পর মালাক্কা, বাব এল-মান্দেব ও জিব্রাল্টার প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথগুলোও ভবিষ্যতে বিঘ্নের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

কমছে ওপেক সক্ষমতা

বক্তব্যে সেচিন ওপেক প্লাস জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জোট ত্যাগ এবং এর আগে কাতারসহ কয়েকটি দেশের বেরিয়ে যাওয়ার ফলে ওপেক প্লাসের কার্যকারিতা ও সম্ভাবনা কমে গেছে।

তিনি বলেন, গত এক দশকে জোটভুক্ত দেশগুলোর মোট উৎপাদন ৫৮ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে কমে ৩৭ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে।

সেচিনের দাবি, ২০১৬ সালে ওপেক প্লাস চুক্তি স্বাক্ষরের পর অধিকাংশ সদস্য দেশ উৎপাদন বাড়ালেও রাশিয়ার তেল উৎপাদন দৈনিক ১৫ লাখ ব্যারেল কমেছে।

তার ভাষায়, এটি প্রায় ১৫ শতাংশ হ্রাস, যা পূরণ করতে অন্তত ১০ ট্রিলিয়ন রুবল বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। আমরা আশা করি, জোটভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বিনিয়োগ সহযোগিতাও আরো সম্প্রসারিত হবে।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতার মধ্যে সেচিনের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।