• ই-পেপার

মেসির শহরে জাদুর অপেক্ষায়

স্পেনের সামনে অস্ট্রিয়া

বন্ধুত্ব ভুলে আজ শত্রু রোনালদো-মদরিচ

মাজহারুল ইসলাম
বন্ধুত্ব ভুলে আজ শত্রু রোনালদো-মদরিচ
আজ একে-অপরের বিপক্ষে লড়বেন রোনালদো-মদরিচ। ছবি : এক্স থেকে

ক্লাব ফুটবলে তারা ছিলেন সতীর্থ। রিয়াল মাদ্রিদের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছেন মাঠে।

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে দুজনে একসঙ্গে কাটিয়েছেন ছয়-ছয়টি বসন্ত। সময়ের পরিক্রমায় প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে আজ দুজনের পথ দুদিকে বেঁকে গেছে। ইউরোপের পাট চুকিয়ে একজন পাড়ি জমিয়েছেন সৌদি আরবে। অন্যজনও ঠিকানা বদলে মাদ্রিদ ছেড়ে বসত গড়েছেন ইতালির এসি মিলানে।

এক সময়ের এই দুই বন্ধু-সতীর্থ আজ টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে মাঠে নামছেন পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে। বিশ্বকাপের মহা এই দ্বৈরথে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের প্রতিপক্ষ লুকা মডরিচের ক্রোয়েশিয়া।

বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চল্লিশ পেরিয়েও মাঠ দাপিয়ে বেড়ানো রোনালদো-মডরিচ মডরিচ কানাডার মাটিতে মুখোমুখি হওয়ার ঘণ্টাচারেক আগে নিজেদের ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবেন হালের সেনসেশন লামিন ইয়ামালও। ক্যালিফোর্নিয়ার সোফাই স্টেডিয়ামে শেষ বত্রিশের অল ইউরোপিয়ান লড়াইয়ে ইয়ামালের স্পেনের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া।

ভরপুর আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে নক আউটের মিশনে নামছে স্পেন। টুর্নামেন্ট শুরুর আবহে ফেভারিটদের তালিকার ওপরের দিকেই রাখা হয়েছিল স্পেনকে। কিন্তু কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে ‘লা রোজা’দের শুরুটা প্রত্যাশিত ছিল না। তবে পরের ম্যাচগুলোতে দারুণভাবে জ্বলে ওঠে স্পেনের আক্রমণভাগ। যার মধ্যমণি ছিলেন তরুণ তুর্কি ইয়ামাল।

সৌদি আরবের বিপক্ষে বড় জয়ে একটি গোল করার পাশাপাশি অ্যাসিস্টও ছিল বার্সেলোনা সেনসেশনের। উরুগুয়ের বিপক্ষে গোলের নিশানা খুঁজে না পেলেও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে কোচ লা ফুয়েন্তের তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারেন ইয়ামালই।

আক্রমণভাগের পাশাপাশি স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণপ্রাচীরও গড়ে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য! বিশ্বকাপে নিজের দুর্গ দারুণভাবে সামলাচ্ছেন তাদের রক্ষণের সেনানীরা। শতভাগ ক্লিনশিট নিয়ে স্প্যানিয়ার্ডরা মুখোমুখি হচ্ছে অস্ট্রিয়ার। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলা কোনো দলই পারেনি তাদের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে প্রথমার্ধে কোনো শট নিতে। নিজেদের সর্বশেষ পাঁচটি বিশ্বকাপ ম্যাচের কোনোটিতেই তারা ছয়টির বেশি শট হজম করেনি। ২০২২ সালের আর্জেন্টিনার পর এই কৃতিত্ব শুধু স্পেনেরই। ক্যালিফোর্নিয়ার ম্যাচেও এগিয়ে থেকে মাঠে নামবে স্প্যানিয়ার্ডরা। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়েও লা রোজাদের দিকে পাল্লা ভারী। তবে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আর্জেন্টিনার গ্রুপ থেকে নক আউটে ওঠা অস্ট্রিয়াকেও খেলা শুরুর আগেই একেবারে বাতিলের খাতায় রাখা হয়তো ঠিক হবে না। বিশ্বকাপে দুই দলের খেলা একমাত্র ম্যাচটিতে কিন্তু জিতেছিল অস্ট্রিয়াই।

অবশ্য সেটা সুদূর অতীতের ঘটনা। অসম্ভব না হলেও ১৯৭৮ সালের সোনালি অতীত ক্যালিফোর্নিয়ার সোফাই স্টেডিয়ামে ফিরিয়ে আনা অস্ট্রিয়ার জন্য খুব কঠিন। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে (টাইব্রেকারের হার ছাড়া) টানা ৩৪ ম্যাচে অপরাজিত স্পেন। অস্ট্রিয়াকে হারাতে পারলে শেষ ষোলোর টিকিট কাটার পাশাপাশি ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালে গড়া নিজেদের সর্বোচ্চ টানা ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডও স্পর্শ করবে ‘লা রোজা’রা। শেষ বত্রিশের এই দ্বৈরথে চোট নিয়ে খানিকটা দুর্ভাবনা আছে লা ফুয়েন্তের। অস্ট্রিয়া বাধা পেরোতে পারলে শেষ ষোলোয় স্পেন প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবে পর্তুগাল অথবা ক্রোয়েশিয়াকে।

গ্রুপ পর্বটা প্রত্যাশিত কাটেনি পর্তুগালের। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর জোড়া গোলে উজবেকদের সহজে হারালেও কঙ্গো আর কলম্বিয়ার সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করায় গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা হয়ে নক আউটে উঠেছে পর্তুগিজরা। নিজেদের গ্রুপে সেরা হতে পারেনি ক্রোয়াটরাও। ইংল্যান্ডের কাছে বড় হারে দুঃস্বপ্নের শুরুর পর ঘানা ও পানামাকে হারিয়ে ছয় পয়েন্ট অর্জন করে গ্রুপ রানার্স আপ হয়ে নক আউটে জায়গা করে নেন মডরিচরা।

কানাডার টরন্টোর বিএমও স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় হাই ভোল্টেজ এই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারেন মাঝমাঠের খেলোয়াড়রা। দুই দলের রণভাণ্ডারেই আছেন দারুণ কিছু সৃষ্টিশীল ফুটবলার। ক্রোয়াটরা চাইবে আইকনিক অধিনায়ক মডরিচ এবং মাতেও কোভাচিচের ওপর ভর করে ম্যাচের গতি কমিয়ে দিতে এবং বল দখলে রেখে খেলা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে। কিন্তু রোনালদো-গনসালো রামোস-ভিতিনিয়া-জোয়াও নেভেসদের নিয়ে গড়া পর্তুগিজ আক্রমণভাগকে ঠিকমতো সামলাতে না পারলে এখানেই থেমে যেতে পারে ক্রোয়াটদের বিশ্বকাপ যাত্রা।

‘শুধু মেসির সঙ্গেই কেইনের পারফরম্যান্সের তুলনা হতে পারে’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘শুধু মেসির সঙ্গেই কেইনের পারফরম্যান্সের তুলনা হতে পারে’
মেসির সঙ্গে কেইনের তুলনা টানলেন গর্ডন (ইনসেটে)। ছবি : রয়টার্স

হারের শঙ্কা জেঁকে বসছিল ইংল্যান্ডকে। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ৭৪ মিনিট পর্যন্ত যে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল তারা। আটলান্টায় শেষ পর্যন্ত শঙ্কাটা সত্যি হতে দেননি হ্যারি কেইন। ১১ মিনিটের মধ্যে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে রোমাঞ্চকর জয় এনে দিয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার।

কেইন নায়ক হলে পার্শ্বনায়ক অ্যান্থনি গর্ডন। বদলি নেমে সতীর্থর দুই গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড। রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর অধিনায়কের প্রশংসা করতেও কৃপণতা দেখাননি গর্ডন। ২৫ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের মতে, শুধু লিওনেল মেসির সঙ্গেই কেইনের পারফরম্যান্সের তুলনা হতে পারে।

কেইনের প্রশংসায় গর্ডন বলেছেন, ‘তার সঙ্গে থাকতে পারাটা দারুণ ব্যাপার। বিশ্ব ফুটবলের চূড়ায় থাকা একজনকে কাছ থেকে দেখাটা অন্যরকম এক ব্যাপার। সে এমন এক মৌসুম কাটাচ্ছে যা শুধু মেসি করে দেখিয়েছে। সর্বকালের সেরা ফুটবলার মেসি বলে কথা। এতে বোঝা যায় কতটা উঁচুমাপের ফুটবল খেলছেন কেইন।’

৮৬ মিনিটে গর্ডনের পাস থেকে কেইনের দ্বিতীয় গোলটি ছিল দেখার মতো। বক্সের মাঝ থেকে একটু ডান দিকে সরে গিয়ে জোরাল শট নেন কেইন। তা শুধু চেয়ে চেয়ে জালে জড়াতে দেখলেন কঙ্গোর গোলরক্ষক। এই গোল নিয়ে গর্ডন বলেছেন, ‘শটটা নেওয়ার সময়ই আমি জানতাম এটা গোল হতে যাচ্ছে। তাই আগেভাগেই উদযাপন শুরু করে দেই আমি। যে কেউ একটা ভালো গোল করতে পারে। বলকে পোস্টের একেবারে কোনায় পাঠাতে পারে কিন্তু সে যেভাবে দিনের পর দিন এটা করছে সেটাই হলো আসল। সত্যিই সে অসাধারণ খেলা উপহার দিচ্ছে।’

লাল কার্ডে পোয়াবারো, মিলিয়ন ডলারের ফ্রি পিৎজা

অনলাইন ডেস্ক
লাল কার্ডে পোয়াবারো, মিলিয়ন ডলারের ফ্রি পিৎজা
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল সমর্থকদের পোয়াবারো। দল জেতায় মিলিয়ন ডলারের ফ্রি পিৎজা খাওয়ার সুযোগ পায় তারা। তাই স্বাভাবিকভাবে আনন্দ দ্বিগুণ। তবে জয়ের সঙ্গে ফ্রি পিৎজার কোনো সম্পর্ক নেই। বরং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান লাল কার্ড দেখেই তাদের সামনে এক মিলিয়ন ডলারের ফ্রি পিৎজা খাওয়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। এ যেন কারো সর্বনাশ, কারো পৌষ মাস। 

বালোগান লাল কার্ড দেখায় মার্কিন পিৎজা জায়ান্ট ডমিনোজ এক মিলিয়ন ডলার মূল্যের ৬০ হাজার মিডিয়াম পিৎজা বিলি করবে। তবে এটি করতে তাদের কেউ বাধ্য করছে না। পূর্বঘোষিত বিশ্বকাপ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে ডমিনোজ এ পিৎজা বিলি করবে।

গত মে মাসে ডমিনোজ ঘোষণা করেছিল, বিশ্বকাপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলে তারা বিনা মূল্যে ৬০ হাজার মিডিয়াম ইমার্জেন্সি পিৎজা বিলি করবে। লাল কার্ডে কষ্ট পাওয়া দর্শকদের বেদনা কিছুটা উপশম করতেই ডমিনোজ এ ঘোষণা দিয়েছিল। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে তেমন কোনো বেদনার উপলক্ষ তৈরি হয়নি। রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে এসে প্রথম লাল কার্ড দেখলেন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো খেলোয়াড়। তবে এ কার্ডে দলের কোনো ক্ষতি হয়নি। বৃহস্পতিবার ভোরে সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ায় বসনিয়া হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২৪ বছর পর নকআউট পর্বে প্রথম জয় পেলো স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র।

লাল কার্ড দেখে দলকে বিপদে ফেললেও জয়ের নায়কও বালোগানই। দলের প্রথম গোলটি করেছেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপে এটি তার তৃতীয় গোল। ৬১ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার আগে খেলেছেনও দুর্দান্ত। তবে মাঠে থাকা ১০ জন বালোগানের অভাব বুঝতে দেননি। বালোগান লাল কার্ড দেখার পরও আরেকটি গোল পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে বালোগান লাল কার্ড দেখার পর যারা ভেবেছেন, পিৎজা খাবেন, তারা পাবেন না। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ১০ জুন রাত ১২টার মধ্যে যারা ডমিনোজ পিৎজার ওয়েবসাইটে রিওয়ার্ডস প্রোগ্রামে নিবন্ধন করেছেন, তারাই শুধু চাহিদার ভিত্তিতে ফ্রি পিৎজা পাবেন। এ সুযোগ থাকবে আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত।
কালের কণ্ঠ ডেস্ক

বাবা মারা গেছেন, বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর জানতে পারলেন কঙ্গোর কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
বাবা মারা গেছেন, বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর জানতে পারলেন কঙ্গোর কোচ
বাবাকে হারিয়েছেন কঙ্গোর কোচ সেবাস্তিয়ান। ছবি : রয়টার্স

ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পরাজয় দেখেছে ডিআর কঙ্গো। সেই শোক তখনো কাটিয়ে ওঠেননি দলটির কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে। এমন সময়ই জীবনের সবচেয়ে কঠিন দুঃসংবাদটা শুনলেন তিনি।

চিরদিনের জন্য বাবাকে হারিয়েছেন সেবাস্তিয়ান। আটলান্টায় ম্যাচ শেষ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে বাবার মৃত্যুর সংবাদ শোনেন কঙ্গোর কোচ। দুঃসংবাদটা যখন শুনলেন তখন সংবাদ সম্মেলনে ব্যস্ত ছিলেন তিনি।

শেষ প্রশ্ন শেষে যখন সংবাদ সম্মেলনকক্ষ ছাড়বেন ঠিক তখনি কঙ্গোর মিডিয়া অফিসার বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, আমাদের প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রের বাবা প্রয়াত হয়েছেন। আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’ তাতে স্বাভাবিকভাবেই পিনপতন নীরবতা নেমে এসেছিল কক্ষটিতে। 

এর আগে গতকাল ৭৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল কঙ্গো। শুরুতে গোলটি করেছিলেন কঙ্গোর ফরোয়ার্ড ব্রায়ান চিপেঙ্গা। তবে শেষ মুহূর্তে হ্যারি কেইন ম্যাজিকে জিতে যায় ইংল্যান্ড। ৭৫ মিনিটে সমতায় ফেরানোর পর ৮৬ মিনিটে অবিশ্বাস্য এক শটে জয় নিশ্চিত করেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। তাতে ইংলিশরা পরের রাউন্ডে গেলেও থেমে যায় কঙ্গোর বিশ্বকাপ যাত্রা।

তবে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সেবাস্তিয়ান গর্বিত। তিনি বলেছেন, ‘হতাশার চেয়ে বেশি গর্বিত। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া সত্যিই হতাশার। তবে টুর্নামেন্টে আমরা ৫ গোল করেছি। আমাদের চেয়ে অনেক ওপরের র‍্যাঙ্কিংয়ের দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলে ভালো ফল এনেছি।’