• ই-পেপার

বিশ্বকাপের মাঝেই সুখবর দিলেন রোনালদো

এমসিসির সম্মাননা : আজীবন সদস্যপদ পেলেন তামিম

ক্রীড়া ডেস্ক
এমসিসির সম্মাননা : আজীবন সদস্যপদ পেলেন তামিম

মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) সম্মানসূচক আজীবন সদস্য পদ পেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়কের সঙ্গে আরো চারজনকে এই স্বীকৃতি দিয়েছে এমসিসি। তারা হলেন নিউজিল্যান্ডের দুই নারী ক্রিকেটার সুজি বেটস ও সোফি ডিভাইন, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক নারী ক্রিকেটার মেল জোন্স ও ভারতের সাবেক ক্রিকেটার চেতেশ্বর পূজারা।

রবিবার (২৮ জুন) এক বিবৃতিতে এমসিসি জানায়, পাঁচজন ক্লাবের দেওয়া আজীবন সম্মানসূচক সদস্যপদ পাচ্ছেন। তামিমকে বাংলাদেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে ধরা হয়। তামিমের আগে এমসিসির সদস্যপদ পেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। তামিম বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে ৫ হাজারের বেশি রান করেছেন, যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে সেঞ্চুরি করে তিনি জায়গা করে নেন ঐতিহ্যবাহী অনার্স বোর্ডেও।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ২৪৩ ম্যাচে তামিমের সংগ্রহ ৮ হাজারের বেশি রান, যা বাংলাদেশের হয়ে এই সংস্করণে সর্বোচ্চ। ২০১১ সালে তিনি উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমানাকের বর্ষসেরা ক্রিকেটার এবং উইজডেনের বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটারের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।

তামিমের সঙ্গে আজীবন সদস্যপদ পাওয়া সুজি বেটস ও সোফি ডিভাইন চলতি আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের স্বীকৃতি হিসেবে দুজনকেই আজীবন সম্মানসূচক সদস্য করেছে এমসিসি।

কানাডা-দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়েই শুরু বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব

ক্রীড়া ডেস্ক
কানাডা-দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়েই শুরু বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব
ছবি : রয়টার্স

গ্রুপ পর্বের রোমাঞ্চ আর সব হিসাব-নিকাশ শেষে কানাডা-দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়েই শুরু হল বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব। আজ সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মাঠে নেমেছে এই দুই দল। 

হারলেই বিদায়-এমন সমীকরণে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর টিকিট কাটতে লড়াই করছে দুই দল।

এর আগে মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছিল কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০০৭ সালে ডারবানে অনুষ্ঠিত সেই প্রীতি ম্যাচে কানাডাকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল আফ্রিকান পরাশক্তিরা।

সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়া, বিশ্বকাপ-স্বপ্ন শেষ ভারতের মেয়েদের

ক্রীড়া ডেস্ক
সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়া, বিশ্বকাপ-স্বপ্ন শেষ ভারতের মেয়েদের
সংগৃহীত ছবি

২০ ওভারে ১৭০ রান কম হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে গ্রুপ পর্যায়ে যাত্রার সমাপ্তি ঘটল। আর এতেই বিশ্বকাপ-স্বপ্ন ভঙ্গ হলো ভারতের মেয়েদের। ৬ উইকেটে কার্যত অনায়াসে ম্যাচ জিতে নিল শেন ওয়ার্নের দেশের প্রমীলা বাহিনী। ফলে গ্রুপ শীর্ষে থেকে সেমিফাইনালে উঠল তারা। অন্যদিকে ‘এ’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ চারে উঠল দক্ষিণ আফ্রিকা।

এদিন টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতের অধিনায়ক হারমনপ্রীত কৌর। নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারত সংগ্রহ করে ১৭০ রানের স্কোর। দলের পক্ষে অধিনায়ক গড়েন ২৭ বলে ৫৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। এ ছাড়া স্মৃতি মান্ধানা (৩৮) এবং শেফালি ভার্মা (৩৪) ভালো শুরু করলেও বড় সংগ্রহ গড়তে তা যথেষ্ট ছিল না।

১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরুতেই কিছুটা চাপে পড়লেও এলিস পেরি এবং অ্যাশলে গার্ডনারের ব্যাটে জয়ের পথ খুঁজে পায়। পেরি ৩৮ বলে ৫৬ রান করে। আর গার্ডনার ২৯ বলে ৫৩ রান করে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন। অস্ট্রেলিয়া ১৯ ওভারেই ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রান তুলে ম্যাচ শেষ করে দেয়।

এই পরাজয়ের ফলে ভারতের সেমিফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। অন্যদিকে, এই জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে অস্ট্রেলিয়া। আর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা।

ভারতকে ১ রানে হারিয়ে আয়ারল্যান্ডের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়

ক্রীড়া ডেস্ক
ভারতকে ১ রানে হারিয়ে আয়ারল্যান্ডের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়

প্রথম ম্যাচে হারের ধাক্কা। সিরিজ হার এড়ানোর লড়াইয়ে রান তাড়ায় প্রথম ওভারে দুই ওপেনারের শূন্য রানে বিদায়, পাওয়ার প্লেতে নেই চার উইকেট। ভীষণ বাজে শুরুর পর তিলাক ভার্মার ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল ভারত। শেষ ওভারে জমে উঠল নাটক, কিন্তু ভারতের শেষ রক্ষা হলো না। টানা দুইবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ীদের ফের হারিয়ে আরেকটি স্মরণীয় সাফল্য পেল আয়ারল্যান্ড।

বেলফাস্টে রবিবার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে শেষ ওভারের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে আয়ারল্যান্ডের জয় ১ রানে। দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০তে জিতল আইরিশরা।

আর এই হারের ফলে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভারতের টানা ১৬টি সিরিজ বা টুর্নামেন্টে অপরাজিত থাকার রেকর্ডের অবসান ঘটল। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে সিরিজ হারার পর এই প্রথম কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজে হেরেছে তারা।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আয়ারল্যান্ডের শুরুটা ছিল আক্রমণাত্মক। আর্শদীপ সিংয়ের প্রথম ওভারেই দুটি ছক্কা হাঁকান রস অ্যাডেয়ার। তবে ভারতের পেসাররা দ্রুতই বাউন্সের সুবিধা নিয়ে ম্যাচে ফেরে। টিম টেক্টর ও অ্যাডায়ার দ্রুত বিদায় নিলে পাওয়ারপ্লেতে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪৪/২। অভিষেক হওয়া ভারতীয় বোলার প্রিন্স যাদব নিজের প্রথম শিকার বানান আইরিশ অধিনায়ক লরকান টাকারকে।

৫৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যখন আয়ারল্যান্ড ধুঁকছিল, তখন হাল ধরেন হ্যারি টেক্টর ও বেজ্জামান ক্যালিৎজ। চতুর্থ উইকেটে এই দুজনের ৬৫ রানের জুটি ভারতকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। ক্যালিৎজ ৩৭ এবং টেক্টর ৫৩ রান করেন। শেষদিকে প্রিন্স যাদবের দুর্দান্ত ডেথ ওভার বোলিংয়ের কল্যাণে আয়ারল্যান্ড ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৪ রানের বেশি করতে পারেনি। ভারতের পক্ষে প্রিন্স ২২ রানে ৩টি ও শিবম দুবে ২৫ রানে ২টি উইকেট নেন।

১৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। প্রথম ওভারেই জোড়া আঘাত হানেন জয় মুন্দ্রা। ওপেনার সাঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা—দুজনেই কোনো রান না করে সাজঘরে ফেরেন। শ্রেয়াস আইয়ারও মাত্র ৪ রান করে মুন্দ্রার বলে বোল্ড হলে স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে ভারত। এরপর ঈশান কিষাণ রান আউটের শিকার হলে ৩৫ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে যায় সফরকারীরা।

পঞ্চম উইকেটে তিলক বর্মা ও অক্ষর প্যাটেল ৩৯ রান যোগ করে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। বৃষ্টির কারণে খেলা কিছুক্ষণ বন্ধ থাকলেও ভারতের লক্ষ্য অপরিবর্তিত থাকে। অক্ষর ও শিবম দুবে দ্রুত বিদায় নিলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিলক বর্মা। ৪৭ বলে ৫৫ রান করা তিলক যখন ম্যাথু হল্যান্ডের শিকার হয়ে ফিরছেন, ভারতের হার তখন সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল।

কিন্তু শেষ দিকে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন হর্ষিত রানা। শেষ ওভারে ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২১ রান। হ্যারি টেক্টরের করা সেই নাটকীয় ওভারে ছিল ওয়াইড, নো-বল আর বাউন্ডারির ছড়াছড়ি। সমীকরণ যখন ২ বলে ৮ রান, তখন ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে আউট হন হর্ষিত রানা। শেষ বলে জয়ের জন্য ভারতের দরকার ছিল ৭ রান, স্ট্রাইকে থাকা প্রিন্স যাদব ছক্কা হাঁকালেও তা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। ১৫২ রানেই থামে ভারতের ইনিংস। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে ম্যাথু হল্যান্ড ২৬ রানে এবং জয় মুন্দ্রা ৩২ রানে ৩টি করে উইকেট নেন। ১ রানের এ জয়ে ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন রূপকথা লেখল আইরিশরা।