• ই-পেপার

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল

যুদ্ধের ছায়ায় বিশ্বকাপ, ইরানের সামনে কঠিন পরীক্ষা

বিবিসি
যুদ্ধের ছায়ায় বিশ্বকাপ, ইরানের সামনে কঠিন পরীক্ষা
ছবি : রয়টার্স

২০২৫ সালের ২৫ মার্চ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার পরও কেউ কল্পনা করেনি যে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে এত প্রতিকূলতার মুখে পড়বে ইরান। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই যুদ্ধ, কূটনৈতিক সংকট, ভিসা জটিলতা এবং রাজনৈতিক বিতর্কে ঘেরা হয়ে পড়েছে ‘টিম মেল্লি’।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজিত বিশ্বকাপের ঠিক আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরো তিক্ত হয়ে ওঠে। সামরিক সংঘাতের জেরে দুই দেশের উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়েও তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।

সবচেয়ে বড় বাধা ছিল যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা। শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড় এবং প্রয়োজনীয় সাপোর্ট স্টাফদের ভিসা দেওয়া হলেও ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ভিসা পাননি। এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের অভিযোগ, খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করছে ওয়াশিংটন।

শুধু তাই নয়, ভিসার শর্ত অনুযায়ী ইরান দলকে ম্যাচের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে ম্যাচ শেষে একই দিনে দেশ ছাড়তে হবে। ফলে দলটি তাদের পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা ক্যাম্প বাতিল করে ফিফার অনুমোদন নিয়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় ঘাঁটি গেড়েছে।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের অভিযান। এরপর একই শহরে বেলজিয়াম এবং সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে তারা।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ইতিহাস চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বৈরী। ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল এবং তার পরবর্তী জিম্মি সংকটের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

ফুটবল প্রায়শই দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের অন্যতম সুযোগ করে দিয়েছে।

১৯৯৮ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে ইরান। ম্যাচ শুরুর আগে মার্কিন খেলোয়াড়দের ফুল উপহার দিয়েছিলেন ইরানি ফুটবলাররা। সেই দৃশ্য আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজনৈতিক উত্তেজনা, যুদ্ধাবস্থা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে সম্ভাব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচ শুধু ফুটবল নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিরও বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

দেশের ভেতরেও ইরান জাতীয় দলকে ঘিরে আগের মতো ঐক্য নেই। ২০২২ সালের বিক্ষোভ ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর জাতীয় দলকে ঘিরে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। একাংশ এখনো দলটিকে জাতীয় গৌরবের প্রতীক হিসেবে দেখে, অন্যদিকে সমালোচকরা মনে করেন দলটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অতিরিক্তভাবে জড়িত।

তবু ফুটবল ইরানের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। কোটি কোটি সমর্থক বিশ্বকাপে তাদের দলের দিকে তাকিয়ে থাকবে। সাতবার বিশ্বকাপে খেলেও কখনো গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি ইরান। ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে এবার সেই ইতিহাস বদলানোর স্বপ্ন দেখছে তারা।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, মাঠের ফুটবল কি সব আলোচনাকে ছাপিয়ে যেতে পারবে? যুদ্ধ, কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা, ভিসা সংকট এবং রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে দাঁড়িয়ে ইরান সম্ভবত বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া দলগুলোর একটি।

ফ্রেঞ্চ ওপেন

গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে শেষ হাসি জভেরেভের

ক্রীড়া ডেস্ক
গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে শেষ হাসি জভেরেভের
সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘ অপেক্ষা, খুব কাছে গিয়েও বারবার স্বপ্নভঙ্গের বেদনা- সব হতাশা এবার দূর হলো লালচে মাটির কোর্টে। ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা উঁচিয়ে ধরলেন আলেক্সান্ডার জভেরেভ। রবিবার ফ্রেঞ্চ ওপেনের পুরুষ এককের ফাইনালে ইতালির ফ্লাভিও কোবোল্লিকে পাঁচ সেটের লড়াইয়ে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন এই জার্মান তারকা। ৪১ বারের চেষ্টায় ২৯ বছর বয়সে প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জিতলেন জভেরেভ।

বছরের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বারবার মোড় বদলের পর শেষ হাসি হাসলেন জভেরেভ। সোয়া চার ঘণ্টার একটু বেশি সময় স্থায়ী ম্যাচে তার জয় ৬-১, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৭ (৫-৭), ৬-১ গেমে।

এর আগে ২০২৪ সালের এই প্রতিযোগিতাসহ মোট তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে উঠে প্রতিবার হারের তেতো স্বাদ পান জভেরেভ। চতুর্থবারে স্বপ্নের ট্রফিতে চুমু আঁকলেন তিনি।

এটিপি র‍্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বর খেলোয়াড় কার্লোস আলকারাস চোট পেয়ে টুর্নামেন্টে খেলতে না পারায় এবং শীর্ষ বাছাই ইয়ানিক সিনার আগেভাগে ছিটকে পড়ায়, জভেরেভের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়। সেই সঙ্গে দশম বাছাই এবং ‘অনেকটাই অচেনা’ ফ্লাভিও কোবোল্লি ফাইনালে ওঠায় অনেকেই জভেরেভকে আরো এগিয়ে রাখেন।

ম্যাচের শুরুটা সেকমই হয়, আগে কখনও কোনো মেজরে সেমি-ফাইনালে না ওঠা প্রতিপক্ষকে দাঁড়াতেই দেননি জভেরেভ। তবে এরপরই দৃশপটে পরিবর্তন আসে। পরের সেটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান ২৪ বছর বয়সী ইতালিয়ান। তৃতীয় সেটে আবার এগিয়ে যান জভেরেভ।

চতুর্থ সেট নানা নাটকীয়তার পর গড়ায় টাইব্রেকারে। অসাধারণ দৃঢ়তায় সেটটি জিতে লড়াই জারি রাখেন কবোল্লি। পঞ্চম সেটে অবশ্য তাকে আর কোনো সুযোগ দেননি জভেরেভ। ম্যাচ পয়েন্ট নিশ্চিত হতেই কোর্টে শুয়ে পড়েন তিনি, পারেননি আবেগ ধরে রাখতে, অবশ্য আবেগকে বাঁধ দেওয়ার খুব একটা চেষ্টাও করেননি ২৯ বছর বয়সী তারকা।

তিন দশকের মধ্যে দেশের প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের কীর্তি গড়লেন জভেরেভ। তার আগে সবশেষ জার্মান মেজর জয়ী ছিলেন গ্রেট বরিস বেকার, ১৯৯৬ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছিলেন তিনি।

এতদিন গ্র্যান্ড স্ল্যামে অপূর্ণতা থাকলেও বড় শিরোপা জয়ের স্বাদ অবশ্য আগে পেয়েছেন জভেরেভ। ২০২০ টোকিও অলিম্পিকসের এককে সোনার পদক জয়ী এই তারকা ২০১৮ ও ২০২১ সালের এটিপি ট্যুর ফাইনালসেও চ্যাম্পিয়ন হন।

‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ তকমা মুছে ফেলতে চান তামিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক
‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ তকমা মুছে ফেলতে চান তামিম
বিসিবির নব-নির্বাচিত সভাপতি তামিম ইকবাল। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর তামিম ইকবালকে সভাপতি করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি)। সেই কমিটির বেশির ভাগ সদস্যই ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের সন্তান ও নিকটাত্মীয়। যে কারণে অনেকে ‘বাবার দোয়া’ ক্রিকেট বোর্ড বলে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সমালোচনাও করেছে। তবে এসবে পাত্তা দিচ্ছেন না তামিম।

আজ রবিবার (৭ জুন) সম্পন্ন হলো বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন। সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়ে পরিচালক হওয়ার পর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন তামিম ইকবাল। বোর্ডপ্রধান হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে এবার ‘বাবার দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ তকমা নিয়ে মুখ খুলেছেন তামিম। 
তিনি বলেছেন, ‘অনেকে অনেক ধরনের ট্যাগ দিচ্ছে। এটা তাদের ব্যক্তিগত অভিমত। দেখি, বাপের দোয়া থেকে ক্রিকেটের দোয়া করতে পারি কি না ভবিষ্যতে।’

তামিম আরো বলেন, ‘আমি কিংবা বোর্ড সদস্যরা বিতর্কিত হই, এমন কিছু আমি চাইব না। আমরা পূর্ণ সততা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করব। তবে আমি নিশ্চিত, আমাদের ভুল থাকবে। মানুষ হিসাবে ভুল হবেই। ওই ভুল কত দ্রুত শোধরাতে পারি, সেটাই মুখ্য।’

বিসিবি নির্বাচন উপলক্ষে সকাল থেকেই ব্যস্ত সময় কেটেছে তামিমের। স্বাভাবিকভাবেই তিনি খুব ক্লান্ত। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর কী কী করবেন, তা ধাপে ধাপে সবাইকে জানানো হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তামিম। 

নব-নির্বাচিত বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমার কী কী পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে আপনাদের জানাব। অ্যাডহক কমিটিতে থাকা অবস্থাতেই কিছু কিছু জিনিসের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আশা করি, সেগুলো দ্রুত শেষ করতে পারব। আমার পরিকল্পনা নিয়ে শুরু করতে চাইলে আলোচনা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে। তবে যা-ই করি, সব আপনারা জানতে পারবেন। আমি আপনাদের ক্রিকেটের এই ইকোসিস্টেমের বড় অংশ মনে করি।’

অ্যাশেজ বিপর্যয়ের পর কিইউদের হারিয়ে ঘুরে দাঁড়াল ইংল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
অ্যাশেজ বিপর্যয়ের পর কিইউদের হারিয়ে ঘুরে দাঁড়াল ইংল্যান্ড

লর্ডসে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে নিউজিল্যান্ডকে ১১৫ রানে হারিয়ে অ্যাশেজ বিপর্যয়ের পর ঘুরে দাঁড়াল ইংল্যান্ড দল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ১-৪ ব্যবধানে অ্যাশেজ হারের পর এটিই ছিল ইংলিশদের প্রথম টেস্ট ম্যাচ। তীব্র সমালোচনার মুখে থাকা লর্ডসে এই জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।

জয়ের জন্য ২৫৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা নিউজিল্যান্ড চতুর্থ দিনে ১৩৮ রানেই গুটিয়ে যায়। ইংল্যান্ডের পেস তারকা গাস অ্যাটকিনসন মাত্র ৩০ রান খরচ করে ৫টি উইকেট নিয়ে কিউইদের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন।

বৃষ্টিবিঘ্নিত টেস্ট ম্যাচটি মাত্র ১৬৬ ওভার স্থায়ী ছিল, যা টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সংক্ষিপ্ততম ম্যাচগুলোর একটি। ম্যাচের সবকটি উইকেটই নিয়েছেন পেস বোলাররা, কোনো স্পিনার একটি বলও করেননি। 

 দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরে ওলি রবিনসন  প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেটসহ ম্যাচে মোট ৭টি উইকেট তুলে নেন।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড 

ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস : ১৪০ অল-আউট (হ্যারি ব্রুক ৫৬; কাইল জেমিসন ৫-৬২)

নিউজিল্যান্ড ১ম ইনিংস : ১১৩ অল-আউট (ওলি রবিনসন ৫-৩৯)

ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস : ২২৬ অল-আউট (এমিলিও গে ৫৭; নাথান স্মিথ ৬-৭০)

নিউজিল্যান্ড ২য় ইনিংস : ১৩৮ অল-আউট (গাস অ্যাটকিনসন ৫-৩০)

ফলাফল:  ইংল্যান্ড ১১৫ রানে জয়ী।