• ই-পেপার

বসুন্ধরা শুভসংঘ পটিয়া শাখার উদ্যোগে ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্যোগ

বসুন্ধরার সহায়তায় সুদিনের স্বপ্ন : প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেলেন ৩০ নারী

শিবপুর থেকে জাকারিয়া জামান
বসুন্ধরার সহায়তায় সুদিনের স্বপ্ন : প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেলেন ৩০ নারী

সামনে নতুন সেলাই মেশিন নিয়ে বসে আছেন, পাশেই রাখা আছে একটি নিমগাছের চারা। সব মিলিয়ে যেন আজ তাদের উচ্ছ্বাস বাঁধনহারা। গত তিন মাস সেলাইয়ের নানা কাজ শিখেছেন, আজ পূর্ণতা পাওয়ার দিন। বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছেন একটি নতুন স্বপ্ন, সেলাই মেশিন। এই সেলাই মেশিনেই নতুন সুন্দর আগামীর স্বপ্ন বুনবেন দরিদ্র অসচ্ছল নারীরা।

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের দরিদ্র পরিবারের ৩০ জন নারীর স্বপ্ন পূরণের সারথি হয়েছে দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ। শনিবার (২০ জুন) দেশসেরা সামাজিক সংগঠন বসুন্ধরা শুভসংঘের উপজেলা শাখার আয়োজনে শিবপুর উপজেলা অডিটরিয়ামে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়েছে।

বসুন্ধরা শুভসংঘের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান মনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ইমদাদুল হক মিলন। আলোচক ছিলেন নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াছমিন, শিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হারিস রিকাবদার, শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া প্রমুখ।

স্বামী হারানোর পর তিন সন্তানকে নিয়ে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা জুলেখা আক্তার। সংসারে উপার্জনক্ষম আর কেউ না থাকায় সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া, পড়াশোনার খরচ চালানো—সব কিছুই হয়ে ওঠে তার জন্য কঠিন সংগ্রাম। তবে সেই সংগ্রামে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে একটি সেলাই মেশিন। বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে তিন মাসের বিনা মূল্যের প্রশিক্ষণ শেষে হাতে পাওয়া এই মেশিনে কাজ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন জুলেখা।

জুলেখার মতো শিবপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৩০ জন অসচ্ছল নারীকে প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সেলাই মেশিন, প্রশিক্ষণের সনদ, ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা এবং বই তুলে দেওয়া হয়।

সেলাই মেশিন পেয়ে উচ্ছ্বসিত সানজিদা আক্তার বলেন, ‘আমি নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়ে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা সেলাইকাজে দক্ষ হয়েছি। এখন মেশিন হাতে পাওয়ার পর কাজ করে নিজেরা স্বাবলম্বী হতে পারব। পরিবারের হালও ধরতে পারব। বসুন্ধরা গ্রুপ ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, তাদের সুসাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।’

বসুন্ধরা শুভসংঘের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান মনির বলেন, অসচ্ছল নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেলাই মেশিনগুলো তাদের আয়মুখী কাজে যুক্ত হতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় উপকারভোগীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় কয়েক বছর ধরে গ্রামীণ দরিদ্র নারীদের টেকসই উন্নয়নে কাজ করছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। এর ধারাবাহিকতায় শিবপুরের নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেন। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের সার্বিক নির্দেশনায় দেশজুড়ে মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। নারীরা স্বাবলম্বী হলে পরিবার ও সমাজ দুটোই এগিয়ে যায়। তাই দীর্ঘদিন ধরে অসচ্ছল নারীদের দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি সেলাই মেশিন উপহার দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষার অংশ হিসেবে তাদের মধ্যে দুটি করে গাছের চারাও বিতরণ করা হয়েছে।’

সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী বলেন, ‘অসচ্ছল নারীদের কর্মমুখী করে তোলার এই উদ্যোগ মানবতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সেলাই মেশিনের মাধ্যমে নারীরা নিজেরা আয় করতে পারবেন এবং পরিবারের দায়িত্বে ভূমিকা রাখতে পারবেন।’ তিনি শিবপুরে ভবিষ্যতেও বসুন্ধরা গ্রুপের এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

একটি সেলাই মেশিন শুধু কাপড় সেলাইয়ের যন্ত্র নয়—জুলেখা কিংবা সানজিদাদের কাছে এটি নতুন জীবনের সম্ভাবনা। সেলাই মেশিনের চাকা ঘুরলেই হয়তো ঘুরে দাঁড়াবে তাদের সংসার, বদলে যাবে সন্তানদের ভবিষ্যৎ, এমনই আশা প্রকাশ করেন অতিথিরা।

গাইবান্ধায় বসুন্ধরা শুভসংঘের ফল উৎসবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আনন্দ

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
গাইবান্ধায় বসুন্ধরা শুভসংঘের ফল উৎসবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আনন্দ
ছবি : কালের কণ্ঠ

আম, জাম, কাঁঠাল, কলা, আনারস, পেয়ারা, লটকনসহ নানা মৌসুমি ফলের স্বাদে আনন্দে মেতে উঠেছে গাইবান্ধার সুবিধাবঞ্চিত পরিবার ও শিশুরা। বসুন্ধরা শুভসংঘ গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ ফল উৎসব শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর পাশাপাশি মৌসুমি ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতেও ভূমিকা রাখে।

শনিবার দুপুরে গাইবান্ধা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (এটিআই) চত্বরে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে সুবিধাবঞ্চিত নারী, পুরুষ ও শিশুদের হাতে বিভিন্ন মৌসুমি ফল তুলে দেওয়া হয়। ফল হাতে পেয়ে শিশুদের উচ্ছ্বাস আর হাসিতে পুরো আয়োজনস্থল মুখর হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রিকতু প্রসাদ এবং নাট্যকর্মী ও বাচিকশিল্পী শিরিন আক্তার।

বাচিকশিল্পী শিরিন আক্তার বলেন, “প্রকৃতি আমাদের জন্য যে মৌসুমি ফলের ভাণ্ডার উন্মুক্ত করে দিয়েছে, তা শুধু সুস্বাদুই নয়, শরীরের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। এমন আয়োজন শিশুদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন করে।”

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক রিকতু প্রসাদ বলেন, “মানবিক সমাজ গঠনে শিশুদের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বসুন্ধরা শুভসংঘ যে ভালোবাসা নিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদেরও এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসা উচিত।”

এর আগে আয়োজনে বক্তব্য দেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সাবেক জেলা সভাপতি হুমায়ূন আহমেদ বিপ্লব, জেলা সভাপতি আহসান আজিম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক আহসানিয়া তাসনিম স্নিগ্ধা, সদর উপজেলা সভাপতি সামিউল বাসির এবং দৈনিক কালের কণ্ঠের গাইবান্ধা প্রতিনিধি অমিতাভ দাশ হিমুন।

হুমায়ূন আহমেদ বিপ্লব বলেন, “বসুন্ধরা শুভসংঘ সবসময় সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে। প্রতিবছর শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়। ফল উৎসবের মাধ্যমে শিশুদের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার গ্রহণে উৎসাহিত করাই আমাদের উদ্দেশ্য।”

বক্তারা বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পুষ্টিকর খাদ্যের বিকল্প নেই। তাই সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে শিশুদের পুষ্টি ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হবে।

ফল উৎসবকে কেন্দ্র করে বসুন্ধরা শুভসংঘের বিপুলসংখ্যক সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনটি অংশগ্রহণকারী শিশু ও তাদের পরিবারের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।

বসুন্ধরা শুভসংঘের বন্ধুদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আশিদুল ইসলাম, জিহাদ আকন্দ, তৌহিদুল ইসলাম, সুমাইয়া আক্তার, ইভা আক্তার, লিজা সরকার, মো. সাকিব মিয়া, মো. আতিকুর রহমান, মো. মিল্লাত, এ. জে. আশিকুর রহমান শাওন, অনিক চন্দ্র শীল, আরাফাত রহমান আরিফসহ অন্যরা।

লালমনিরহাটে বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের গাছের চারা বিতরণ

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
লালমনিরহাটে বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের গাছের চারা বিতরণ
ছবি : কালের কণ্ঠ

সবুজে সুন্দর আগামী গড়ার প্রত্যয়ে লালমনিরহাটে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে বসুন্ধরা টিস্যু ও বসুন্ধরা শুভসংঘ।

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় দেশব্যাপী চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২০ জুন) লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের মকড়া বটগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঈদগাহ মাঠ প্রাঙ্গণে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

সকালে বিদ্যালয় ও ঈদগাহ মাঠ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে বনজ, ফলদ, ঔষধি ও ফুলের গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ লালমনিরহাট জেলা শাখার উপদেষ্টা এবং শেখ শফিউদ্দিন কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ মো. এন্তাজুর রহমান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ লালমনিরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. নাঈম রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য খায়রুল ইসলাম, পশু চিকিৎসক ডা. আশরাফুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক মাহাবুব রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক চান মিয়া, সদস্য আমির হামজা, নাহিদ আলম রাব্বি, সুমাইয়া আক্তার, রাকিব হাসান, তাসিন শাহরিয়ার রিয়াদ, রেবেকা খাতুন, দীপা রানী এবং সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সজিবসহ অন্যরা।

প্রধান অতিথি মো. এন্তাজুর রহমান বলেন, গাছ শুধু প্রকৃতির শোভা নয়, এটি মানুষের জীবন ও পরিবেশ রক্ষার অন্যতম মাধ্যম। নির্বিচারে গাছ নিধন ও বন উজাড়ের কারণে জলবায়ু আজ ভয়াবহ হুমকির মুখে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সবাইকে বনায়নে এগিয়ে আসতে হবে।

বসুন্ধরা শুভসংঘ লালমনিরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. নাঈম রহমান বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ সব সময় জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশ রক্ষা সবার দায়িত্ব। প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তা পরিচর্যা করলে সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত হলে কমবে ধর্ষণ ও নির্যাতন : শুভসংঘের আলোচনাসভায় রাবি অধ্যাপক

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত হলে কমবে ধর্ষণ ও নির্যাতন : শুভসংঘের আলোচনাসভায় রাবি অধ্যাপক
ছবি : কালের কণ্ঠ

বসুন্ধরা শুভসংঘ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ‘ধর্ষণ, বলাৎকার ও নারী-শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মমতাজ উদ্দিন একাডেমিক ভবনের ২০৬ নম্বর কক্ষে এ আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনাসভার শুরুতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন রাবি বসুন্ধরা শুভসংঘের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক আরিফ মাহমুদ এবং কার্যকরী সদস্য মিরা আক্তার।

আরিফ মাহমুদ বলেন, ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতন শুধু আইনি নয়, এটি একটি সামাজিক সমস্যা। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণসমাজকে আরো দায়িত্বশীল করে তুলতে হবে।

মিরা আক্তার বলেন, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে শুধু অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; সমাজে সম্মান, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। নারী ও শিশু নিরাপত্তায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সোচ্চার হতে হবে।

আলোচনাসভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (টিএসসিসি) পরিচালক ড. মুর্শিদা ফেরদৌস বিনতে হাবীব। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক এবং সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস।

প্রধান আলোচক ড. মুর্শিদা ফেরদৌস বিনতে হাবীব বলেন, নৈতিকতার অবক্ষয়, পারিবারিক শিক্ষার ঘাটতি, সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের অন্যতম কারণ। এসব অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সব স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।

বিশেষ আলোচক অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক বলেন, সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে তরুণদের একটি অংশ অপরাধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অপরাধকে সামাজিকভাবে ঘৃণিত হিসেবে প্রতিষ্ঠা, দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা জরুরি।

অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। তিনি সামাজিক প্রতিরোধের পাশাপাশি প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আরো কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর আরো সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। সচেতনতা বৃদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে নিরাপদ সমাজ গড়া সম্ভব।

সভায় বসুন্ধরা শুভসংঘ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাহবুব হাসান বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।

সাধারণ সম্পাদক আলফাজ উদ্দিন টনিকের সঞ্চালনায় সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভসংঘের সদস্যরা অংশ নেন। তারা বিষয়ভিত্তিক মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন এবং নারী ও শিশু নির্যাতনমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।