বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দক্ষ জনশক্তির নৈতিক, নিয়মিত এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পরিচালিত ‘সাপোর্টিং এ ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ উইথ বাংলাদেশ’ প্রকল্পটি সফলতার সাথে দ্বিতীয় বছর পূর্ণ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কারিগরি সহায়তায় ৩ মিলিয়ন ইউরো বাজেটের এই প্রকল্পটি ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকল্পের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে এর সামগ্রিক অগ্রগতি ও সফলতার বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকল্পটি সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হচ্ছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মাধ্যমে এটি মাঠপর্যায়ে সফলভাবে কার্যকর হচ্ছে। এ ছাড়া জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বোয়েসেল এই প্রকল্পে সহযোগী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত জুন ২০২৬-এর অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যে অনন্য কিছু মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী ৬৯৮ জন কর্মী আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ কর্তৃক চূড়ান্তভাবে যোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তারা মোট ৮টি প্রধান ট্রেডে ইউরোপের বাজারে, বিশেষ করে ইতালিতে প্রেরণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। কর্মীদের ইতালির বিভিন্ন সেক্টরে কাজের জন্য প্রেরণের লক্ষ্যে ইতালীয় দূতাবাসের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং অনেকেই বর্তমানে ইন্টারভিউর জন্য অপেক্ষমান আছেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের যাবতীয় তথ্য ইতালিসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের চাহিদা অনুসারে ‘ওভারসিস এম্প্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম’-এ কিভাবে কার্যকরভাবে সন্নিবেশিত করা যায়, তা নিয়ে আজ একটি উচ্চ পর্যায়ের পর্যালোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, টেকসই এবং ইথিক্যাল মাইগ্রেশন নিশ্চিত করতে ‘ওভারসিস এম্প্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম’-এর কার্যক্রম আরো উন্নত করতে হবে। প্ল্যাটফর্মটির কার্যকারিতা ও সহজলভ্যতা বাড়াতে এটিকে দ্রুত মোবাইলে ব্যবহার উপযোগী করার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন যে, যেহেতু কর্মীদের ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে, তাই ইতালির পাশাপাশি অন্যান্য ইউরোপীয় দেশেও তাদের পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই প্রকল্প দেশের দক্ষ কর্মীদের বৈধ উপায়ে ইউরোপে যাওয়ার ক্ষেত্রে দারুণভাবে উৎসাহিত করবে।
প্রকল্পের আগামী দিনগুলোর অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ইতালীয় ভাষা শিক্ষা ও ১০ দিনের প্রাক-বহির্গমন ওরিয়েন্টেশন (PDO) ম্যানুয়াল নিশ্চিত করা। একই সাথে আন্তর্জাতিক নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর সাথে সার্টিফাইড গ্র্যাজুয়েটদের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি 'এমপ্লয়ার-ম্যাচিং পাইপলাইন' তৈরি করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে আইএলও'র চিফ টেকনিক্যাল এডভাইজার লোটে কেইসার, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী, বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।




