• ই-পেপার

দালিয়ান থেকে বেইজিং যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার : মির্জা ফখরুল
ছবি: কালের কণ্ঠ

দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু, নৃ-গোষ্ঠী ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর কল্যাণ এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সম-অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার এবং এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এবং বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারায় সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি উল্লেখ করেন, একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিকে সংখ্যালঘু ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে চিত্রিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। সরকারের দায়িত্ব হলো সব ধর্মাবলম্বী নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা। আমরা সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে চাই।’

বৈঠকে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পুণ্যতীর্থ চন্দ্রনাথ ধামে আগত ভক্তদের নানা সমস্যার কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তারা জানান, প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ চন্দ্রনাথ ধামে পূজা-অর্চনা ও তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে আসেন। কিন্তু পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও যোগাযোগ সুবিধার অভাবে তাদের নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানের উন্নয়ন কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, পর্যটন, স্থানীয় অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই জনগণের চাহিদা ও বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় সরকার এসব স্থানের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।’

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাইসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সার বিতরণ সহজ করতে জাতীয় সমন্বয়-পরামর্শক কমিটি

বাসস
সার বিতরণ সহজ করতে জাতীয় সমন্বয়-পরামর্শক কমিটি

দেশের সার সরবরাহ, বিতরণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর করতে একটি ‘জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটি’ গঠন করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটি বিষয়ক অধিশাখা থেকে সোমবার (২২ জুন) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কৃষি খাতে সার ব্যবস্থাপনার চাহিদা, উৎপাদন, আমদানি, মূল্য পরিস্থিতি ও বিতরণ ব্যবস্থার সার্বিক তদারকি এবং নীতিগত সুপারিশ প্রণয়নই হবে এ কমিটির মূল দায়িত্ব।

কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। সদস্য হিসেবে আছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা।

এছাড়া কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন অর্থ বিভাগ, শিল্প মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবরা।

সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি), বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটি দেশের সার চাহিদা, উৎপাদন, আমদানি ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে সরকারকে সুপারিশ দেবে। পাশাপাশি কৃষকের কাছে সময়মতো সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে বিতরণ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং করা হবে। এছাড়া সার ডিলার নিয়োগ পদ্ধতি পর্যালোচনা করে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সুপারিশ প্রদান করবে কমিটি।

ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার সরবরাহ ও বিতরণ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ও কমিটির পর্যালোচনার আওতায় থাকবে। প্রয়োজনে কমিটি সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে এবং নিয়মিত বা প্রয়োজন অনুযায়ী সভা করতে পারবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখা কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।

প্রজ্ঞাপনে আরো জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর জারি করা পূর্ববর্তী প্রজ্ঞাপনটি বাতিল হিসেবে গণ্য হবে এবং নতুন কমিটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অভিজ্ঞতা নেই, তবু বিদ্যুৎ-জ্বালানি বোর্ডে বাড়তি দায়িত্বে ৮ আমলা

অনলাইন ডেস্ক
অভিজ্ঞতা নেই, তবু বিদ্যুৎ-জ্বালানি বোর্ডে বাড়তি দায়িত্বে ৮ আমলা

সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগে ৩৭টি কম্পানি রয়েছে। এসব কম্পানিতে বোর্ড সদস্য রয়েছেন ৩০৬ জন। এ ছাড়া বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যান ও পরিচালকের ১৬৭টি পদেই রয়েছেন আমলারা। তাদের মধ্যে একই ব্যক্তি রয়েছেন একাধিক বোর্ডে। শুধু তাই নয়, বর্তমান আমলাদের পাশাপাশি অনেক প্রভাবশালী সাবেক আমলাও কোনো কোনো বোর্ডে জায়গা নিয়েছেন। বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হচ্ছে, অভিজ্ঞতা না থাকলেও এক সেক্টরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কিভাবে নিয়ন্ত্রণ রেখেছেন অন্য সেক্টরেও। সেই সঙ্গে তাদের কাজ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। 

এ সংক্রান্ত নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অর্ধেক শেয়ার রয়েছে এ কম্পানিতে। তাকে খোঁজে পাওয়া গেল গ্যাস ট্রান্সমিশন কম্পানির (জিটিসিএল) বোর্ডেও। তিনি এ কম্পানির পরিচালক। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি করেছেন কৃষি সচিব ড. রফিকুল ইসলাম মোহাম্মেদ। তিনি উপসচিব থাকালে বগুড়ার ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) ছিলেন। বর্তমানে অবসরকালীর ছুটি কাটানোর কথা থাকলেও সরকার ছুটি বাতিল করে তাকে কৃষি সচিব হিসেবে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি আবার নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কম্পানির (নেসকো) চেয়ারম্যানও। অর্থনীতিতে পিএইচডি করা কৃষি সচিব কিভাবে নেসকোর চেয়ারম্যান হলেন কিংবা কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যনির্বাহীর দায়িত্ব পালনের ফাঁকে তিনি নেসকোর কর্মকাণ্ড কিভাবে পরিচালনা করেন, তা নিয়ে মিলছে না অনেক প্রশ্নের উত্তর। 

শুধু কানিজ মওলা ও রফিকুল ইসলাম মোহাম্মেদই নন, তাদের মতো বেশ কয়েকজন আমলা দখলে রেখেছেন একাধিক বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের চেয়ারে বসা নাসিমুল গণি দেশের একমাত্র তেল পরিশোধন কম্পানি ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির (ইআরএল) চেয়ারম্যান। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকও বিআর পাওয়ার জোন নামের বিদ্যুৎ উৎপাদন কম্পানির চেয়ারম্যান। জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের কাঁধে রয়েছে চারটি কম্পানির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব। 

নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, সাইফুল ইসলাম দেশের সবচেয়ে বড় তিতাস গ্যাস বিতরণ কম্পানির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সঙ্গে তিনি নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল), বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কম্পানি (বিসিপিসিএল) এবং বাংলাদেশ চায়না রিনিউয়েবল এনার্জি কম্পানিরও (বিসিআরইসিএল) চেয়ারম্যান।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম পিডিবির বাইরে কতগুলো কম্পানির পরিচালক তা হয়তো তিনি নিজেও মনে করতে পারবেন না। তিনি শুধু বিদ্যুতের নয়, কোনো কোনো জ্বালানি কম্পানিরও বোর্ড মেম্বার। তিনি পাওয়ার গ্রিড কম্পানি (পিজিসিবি), আশুগঞ্জ পাওয়ার, এনডব্লিউপিজিসিএল, বিসিপিসিএল, কোল পাওয়ার জেনারেশন (সিপিজিসিএল), বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ কম্পানি (বিআইএফপিসিএল), তিতাস, বাখরাবাদ গ্যাস কম্পানিরও পরিচালক। সর্বোচ্চ আটটি কম্পানির পরিচালকের দায়িত্ব পালন করা রেজাউল করিমকেও একজন সুপারম্যান বলা যায়।

বিদ্যুৎ সচিব ফারজানা মমতাজকে জনপ্রশাসনে সংযুক্ত করা হলেও তিনি এখনো রয়েছেন পিজিসিবি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, এলপিজিএল, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কম্পানির বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদে।

কম যান না পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানও। আব্দুল মান্নান জ্বালানি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব থাকার সময় থেকেই বিভিন্ন বোর্ডে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। যদিও পিডিবির চেয়ারম্যানের মতো তিনি বিদ্যুৎ কম্পানির কোনো বোর্ডে নেই। এরপরও তিনি বাপেক্স, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস বিতরণ কম্পানি (পিজিসিএল), জিটিসিএল, বাখরাবাদ এবং কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কম্পানির বোর্ডে রয়েছেন।

বিদ্যুতের ১৫ কম্পানি
বিদ্যুৎ বিভাগে মোট ১৫টি কম্পানি রয়েছে। এসব কম্পানির চারটি যৌথ উদ্যোগে ভারত এবং চীনের রাষ্ট্রীয় কম্পানির সঙ্গে গঠন করা হয়েছে। এসব কম্পানিতে ১৩৬ জন বোর্ড সদস্যের ৫৮ জনই প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। সচিব থেকে সিনিয়র সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন প্রত্যেকটি বোর্ডে। পিজিসিবিতে ৪ জন, আশুগঞ্জে ৪ জন, ইজিসিবিতে ৪ জন, এনডব্লিউপিজিসিএলে ৬ জন, বি আর পাওয়ার জোনে ৫ জন, কোল পাওয়ারে ৫ জন, বিআইএফপিসিএলে ২ জন, ওয়েস্ট জোনে ৪ জন, ডেসকোতে ৬ জন, ডিপিডিসিতে ৭ জন, নেসকোতে ৬ জন, বিসিপিসিএলে একজন, বিসিআরইসিএলে ২ জন, আরপিসিএলে একজন এবং আরএনপিএলে একজন আমলা রয়েছেন।

পেট্রোবাংলার ১৪ কম্পানি 
পেট্রোবাংলার ১৪ কম্পানিতে ১০৮ বোর্ড সদস্যের ৭০ জনই আমলা। পেট্রোবাংলায় ২ জন, তিতাসে ৫ জন, পিজিসিএলে ৫ জন, সুন্দরবন গ্যাস বিতরণ কম্পানিতে ৬ জন, বাখরাবাদে ৪ জন, কর্ণফুলীতে ৭ জন, বাপেক্সে ৫ জন, বিজিএফসিএলে ৭ জন, সিলেট গ্যাস ফিল্ডে ৪ জন, জিটিসিএলে ৭ জন, জালালাবাদে ৬ জন, আরপিজিসিএলে ৫ জন, মধ্যপাড়া কঠিন শিলায় ৩ জন এবং বড়পুকুরিয়ায় ৪ জন।

বিপিসির ৮ কম্পানি 
বিপিসির আট কম্পানির বোর্ড সদস্য ৬২ জনের ৩৯ জনই আমলা। কেউ কেউ সাবেক আমলা। ইআরএলে ৫ জন, পদ্মা অয়েলে ৭ জন, মেঘনায় ৫ জন, যমুনাতে ৩ জন, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টে ৫ জন, এলপিজিএলে ৭ জন, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিকে ২ জন এবং পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কম্পানিতে ৫ জন আমলা রয়েছেন।

বোর্ডে মধু
কোনো কোনো বোর্ড মিটিংয়ে ৫০০ ডলার পর্যন্ত সম্মানী দেওয়া হয়। তবে বেশিরভাগ বোর্ডে সম্মানী ৬ থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে। মাসে কোনো বোর্ডে ৪টি পর্যন্ত মিটিং হয়। এ ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ, গাড়ির সুবিধাসহ বৈধভাবে বোর্ড মেম্বাররা অনেক সুবিধা পান। এ ছাড়া অনেকে কম্পানি থেকে নানা সুবিধা নিয়ে থাকেন। কম্পানির কেনাকাটা, প্রকল্প বাস্তবায়ন সব কাজেই বোর্ডের অনুমোদন নিতে হয়। সঙ্গত কারণে বোর্ড মেম্বারদের ক্ষমতা দেখানো বা আয়ের অনেক সুযোগ রয়েছে।

কম্পানি বাইরের মিটিং করতে হয় ঢাকায়
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের অনেকগুলো কম্পানির প্রধান কার্যালয় ঢাকার বাইরে। বোর্ড মিটিং করতে ঢাকায় আসতে হয় কর্মকর্তাদের। কারণ ঢাকাতেই থাকেন প্রভাবশালী আমলারা। ঢাকার বাইরের বোর্ড মেম্বারদেরও ঢাকায় আসতে হয়। তারা ঢাকায় না আসতে পারলে অনলাইনে রেখেই বৈঠক সারা হয়।

কম্পানির কর্মকর্তারা বোর্ডে উপেক্ষিত
কম্পানিগুলোতে যেসব কর্মকর্তা চাকরি করেন তাদের মধ্যে শুধু ব্যবস্থাপনা পরিচালককেই বোর্ডে রাখা হয়। যদিও একটি বা দুটি কম্পানির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা গেছে। তবে কম্পানির আর কাউকে বোর্ডে রাখা হয় না। ব্যবসা একজনের চালান অন্যরা।

সেরাদের সেরা এমন কম্পানির বোর্ড কেমন হয়
ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কম্পানির বোর্ড কেমন হয়, তা জানার চেষ্টা করেছি আমরা। কম্পানিগুলোর ওয়েবসাইটে বোর্ড মেম্বারদের তালিকার সঙ্গে তাদের পেশাগত তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, সেসব বোর্ড সরকারি আমলানির্ভর নয়।

ভারতের সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কম্পানি ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশনের (এনটিপিসি) ১২ বোর্ড মেম্বারের ৬ জনই কম্পানির, বাকি ৬ জনের ২ জন সরকার মনোনীত আর ৪ জন স্বাধীন পরিচালক। চীনের নরিনকো গ্রুপের ৯ সদস্যের বোর্ডে ৪ জন কম্পানির, বাকি সদস্যরা বাইরের। আমেরিকান ইলেকট্রিক পাওয়ারের (এএইপি) ১০ সদস্যের বোর্ডে একজন কম্পানির চাকুরে, বাকি সবাই প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সাবেক নির্বাহী। বোর্ডে থাকা সারা মার্টিনেজ ২০০৬-২০০৮ সালে মার্কিন শিক্ষা বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি ছিলেন, এখন তিনি সে পদে নেই। ভারত, চীন আমেরিকার কম্পানির বোর্ডগুলো যেখানে কম্পানির প্রতিনিধি ও পেশাজীবীদের নিয়ে গঠিত, সেখানে বাংলাদেশের সরকারি কম্পানির বোর্ডগুলো আমলানির্ভর।

কম্পানির কর্মকর্তারা যা বলছেন
কম্পানির বোর্ডের বিষয়ে সরাসরি কোনো কম্পানির কর্মকর্তা কথা বলতে সম্মত হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে আমলা নিয়ে বোর্ড গঠন করা হয়। এখন মন্ত্রণালয়ে এমন বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিষয়ে কথা বলতে গেলে বলা হয়, উনি বিদ্যুৎ-জ্বালানির কী বোঝেন! বোর্ডগুলো দ্রুত কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেও পারে না। পেশাজীবীর বদলে কর্মকর্তাকেন্দ্রিক হওয়ায় অনেক প্রস্তাব উত্থাপনের পর বলা হয়, ‘এটা পরে ওঠান।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘ওসির কাজ তো ডিসিকে দিয়ে হয় না। আমলাদের কাজ ব্যবসা করা নয়। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবসায়ী বানানো হয়েছে।’ বোর্ডগুলো ভেঙে করপোরেট ধারায় গড়ে তোলা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
 

পেনশন ভোগান্তি কমাতে সরকার ওপিটিএমএ চালু করছে : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
পেনশন ভোগান্তি কমাতে সরকার ওপিটিএমএ চালু করছে : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, পেনশন আবেদন ও মঞ্জুরির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে সরকার ‘অনলাইন পেনশন ট্র্যাকিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (ওপিটিএমএস) চালু করেছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনলাইন পেনশন ট্র্যাকিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওপিটিএমএস ব্যবস্থার মাধ্যমে পেনশনভোগীরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন জমা, আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারবেন। এর ফলে সময় ও হয়রানি কমার পাশাপাশি এ সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা পেনশন সংক্রান্ত কাজ নিয়ে প্রায়ই বিলম্ব, প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং অপ্রয়োজনীয় অফিস যাতায়াতের মুখোমুখি হয়ে থাকেন। ওপিটিএমএস চালু হলে দ্রুত সময়ে পেনশন প্রাপ্তিও নিশ্চিত সম্ভব হবে। অনলাইনে সেবার ফলে দুর্নীতি অনেকটাই কমে যাবে।

এ ছাড়া তিনি শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী পেনশনভোগীদের ব্যাপারে বলেন, বিদ্যমান বিধান মোতাবেক, ১৫ বছরের পুনঃস্থাপন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যদি কোনো পেনশনভোগীর মৃত্যু হয়, তাহলে তার পরিবার পেনশন পুনঃস্থাপনের সুবিধা পায় না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য এই নীতি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী।