• ই-পেপার

চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২৬ জুন

জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্রস্তাবিত বাজেটে ৫ দফা সুপারিশ বাপার

নিজস্ব প্রতিবেদক
জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্রস্তাবিত বাজেটে ৫ দফা সুপারিশ বাপার

জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর ৫ দফা সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, জবাবদিহিতাহীন ও আমলাতান্ত্রিক উপায়ে তৈরি বাজেট পরিবেশগত সংকট মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। প্রকৃত অর্থে সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে মেগা প্রজেক্টের নামে পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসব বন্ধ করতে হবে।

শনিবার (২০ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা।

বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত সুপারিশে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি প্রশমনে বর্তমান ০.৭৬ শতাংশ বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি অন্তত ৩ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত থেকে পরিবেশবান্ধব অর্থায়নের জন্য সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত বন্ড চালু করে তহবিল গঠন করা যেতে পারে।

সুপারিশে বলা হয়, উচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী শিল্প ও লাক্সারি গাড়ি আমদানিতে বিশেষ কার্বন কর আরোপ করে সেই অর্থ পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যবহার করতে হবে। যেসকল শিল্প বর্জ্য শোধনাগার চালায় না, তাদের ওপর কঠোর জরিমানা আরোপ করে সেই তহবিলে কেন্দ্রীয় শোধনাগার নির্মাণ করতে হবে।

সুপারিশে আরো বলা হয়, মহানগরগুলোর ল্যান্ডফিলে বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প গ্রহণ করে পরিবেশ রক্ষা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে হবে। প্লাস্টিক রিসাইক্লিং শিল্পে কর ছাড় এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। ক্লাইমেট টেকনোলজি স্টার্টআপদের জন্য বিশেষ ইনকিউবেশন সেন্টার ও সিড ফান্ড প্রদান করতে হবে। মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রকে শক্তিশালী করে নদীর গতিপথ ও বনভূমি দখল রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং করতে হবে। সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় কৃত্রিম বাঁধের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন ম্যানগ্রোভ বনায়ন সৃষ্টি করে সাইক্লোন থেকে রক্ষার প্রাকৃতিক দেয়াল তৈরি করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাপার সদস্য ফারহান হোসেন জয়। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের আগের আমলেই আমরা দেখেছি পলিথিন ব্যান হতে। এই সরকারই আগেরবার বেবি-ট্যাক্সির কালো ধোঁয়া থেকে ঢাকাকে মুক্ত করে সিএনজি মোটরে এনেছিল। এবারো সরকার পরিবেশ ও নাগরিকদের স্বার্থে কাজ করবে বলে আশা করি।

তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ প্রায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও কঠোর জবাবদিহিতা ছাড়া এই বরাদ্দ শুভঙ্করের ফাঁকি হবে।

বাপা সহসভাপতি অধ্যাপক এম. ফিরোজ আহমেদ বলেন, কার্বন ট্রেডিং কিয়োটো-প্রটোকলের মাধ্যমে বিক্রি করা সম্ভব হলেও বাংলাদেশ তা করতে ব্যর্থ। ফ্লাইওভার তৈরির মাধ্যমে শহরে বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পেয়েছে; আন্ডারগ্রাউন্ড যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হলে দূষণের মাত্রা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হতো। পয়ঃবর্জ্য ও শিল্প দূষণ সুপেয় পানির উৎস বাধাগ্রস্ত করছে।

বাজেটে ‘গ্রিন জব’ বলতে সরকার আসলে কী বুঝাতে চেয়েছে, সেটি সরকারকে স্পষ্ট করার আহ্বান জানান বাপার সহসভাপতি জাকির হোসেন। তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। বাজেটের বরাদ্দকৃত অর্থ দুর্নীতিমুক্তভাবে খরচ করতে হবে। পরিবেশের বাজেট করার আগে পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে।

বেতন বাড়ছে সরকারি চাকরিজীবীদের, আলোচনায় ‘টিফিন ভাতা’

অনলাইন ডেস্ক
বেতন বাড়ছে সরকারি চাকরিজীবীদের, আলোচনায় ‘টিফিন ভাতা’
সংগৃহীত ছবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামোতে সবচেয়ে বেশি স্বস্তির খবর পেয়েছেন নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের ১১ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো টিফিন ভাতা। আগে যা ছিল মাত্র ২০০ টাকা, তা বাড়িয়ে ১,০০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলের পর এত বড় পরিবর্তন এবারই প্রথম। টিফিন ভাতা পাঁচ গুণ বাড়ার খবরে সচিবালয় থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ দেখা গেছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন।

টিফিন ভাতা কতটা বাড়ছে

* আগের ভাতা : ২০০ টাকা (মাসিক)

* নতুন প্রস্তাব : ১,০০০ টাকা (মাসিক)

* বৃদ্ধি : ৫ গুণ

এই সুবিধা মূলত ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারী এবং প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

কেন এই পরিবর্তন

বেতন কমিশন সূত্রে জানা যায়, গত এক দশকে নিত্যপণ্যের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় ২০০ টাকায় টিফিন খরচ সামলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তাই কর্মীদের দৈনন্দিন খরচ কিছুটা হলেও সহায়তা দিতে ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। বিষয়টি বাজেট পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে বলেও জানা গেছে।

নতুন পে স্কেলে আরো যা আসছে

নতুন কাঠামো ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হতে পারে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে—

* সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার সুপারিশ

* বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব

* শিক্ষা ভাতা ২,০০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ

* প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্যবীমা চালুর পরিকল্পনা

* প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য অতিরিক্ত ২,০০০ টাকা ভাতা

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সঙ্গে মিল রেখে আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে স্কেল কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কইকা স্কলারশিপের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের থেকে আবেদন আহ্বান

বাসস
দক্ষিণ কোরিয়ার কইকা স্কলারশিপের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের থেকে আবেদন আহ্বান
ছবি : কালের কণ্ঠ

দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠেয় কইকা স্কলারশিপ প্রগ্রাম ২০২৭-এ অংশগ্রহণের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়েছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তারা এই প্রগ্রামে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিদেশ প্রশিক্ষণ শাখার উপসচিব মু. মাহমুদ উল্লাহ মারুফ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সব জেলা প্রশাসক ও সব মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের অর্থায়নে কইকা স্কলারশিপ প্রগ্রাম ২০২৭-এর আওতায় বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থাসমূহ এবং মাঠ প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তাদের উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে ১৫টি পূর্ণবৃত্তির সুযোগ পাওয়া গিয়েছে (১১টি মাস্টার্স এবং ৪টি পিএইচডি)।

প্রগ্রামসমূহে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের যাবতীয় ব্যয় দক্ষিণ কোরিয়া সরকার কর্তৃক বহন করা হবে এবং এতে বাংলাদেশ সরকারের কোনো আর্থিক সংশ্লেষ থাকবে না।

নিম্নোক্ত শর্তাবলি অনুসরণপূর্বক উল্লিখিত মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন আহ্বান করা যাচ্ছে।

বর্ণিতাবস্থায়, নিম্নরূপ শর্ত সাপেক্ষে প্রতিটি প্রগ্রামের বিপরীতে যোগ্যতার মানদণ্ড অনুযায়ী ৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন করত মনোনীত কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা নীতিমালা ২০২৩ ও কইকার নির্ধারিত ফর্মে আবেদনসহ প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ই-মেইলে ([email protected]) একটি ফাইলে আগামী ৯ জুলাইয়ের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অবহিত রেখে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে পাঠানোর জন্য নির্দেক্রমে অনুরোধ করা হলো।

শর্তাবলী : প্রার্থীর বয়স ৪০ বছর অথবা এর কম হতে হবে। প্রগ্রামের বিষয়বস্তুর সঙ্গে প্রার্থীর কাজের সম্পৃক্ততা থাকতে হবে।

প্রার্থীদের রেলিভেন্ট ফিল্ড অব স্টাডিতে কমপক্ষে ২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

যেসব কর্মকর্তা পূর্বে কোনো কইকা স্কলারশিপ প্রগ্রামে অংশগ্রহণ করেননি, তবে কইকা মাস্টার্স ডিগ্রি প্রগ্রাম সম্পন্ন করেছেন এবং ইতিমধ্যে সর্বনিম্ন ৩ বছর সময় অতিক্রম হয়েছে, তারা ডক্টরাল ডিগ্রি প্রগ্রামের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

পেনশনব্যবস্থায় সংস্কার

পাঁচ বছর চাকরিতে পেনশনের সুযোগ, বাড়ল সর্বোচ্চ হারও

অনলাইন ডেস্ক
পাঁচ বছর চাকরিতে পেনশনের সুযোগ, বাড়ল সর্বোচ্চ হারও

সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী করতে ২০১৫ সালে পেনশনব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার আনে সরকার। পেনশন পাওয়ার ন্যূনতম চাকরিকাল কমানো, সর্বোচ্চ পেনশনের হার বৃদ্ধি, গ্র্যাচুইটির নতুন কাঠামো, পারিবারিক পেনশনে শর্ত শিথিল এবং ছুটি নগদায়নের সুবিধা বাড়ানোর ফলে অবসরপ্রাপ্ত ও চাকরিজীবীদের জন্য তৈরি হয়েছে বাড়তি স্বস্তি।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পেনশন পাওয়ার জন্য ন্যূনতম চাকরিকাল ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর করা হয়। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ পেনশনের হার শেষ অর্জিত মূল বেতনের ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে দীর্ঘদিন চাকরি করা কর্মচারীরা অবসরের পর তুলনামূলকভাবে বেশি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান।

প্রজ্ঞাপনে ৫ থেকে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালের জন্য ধাপে ধাপে নতুন পেনশন হার নির্ধারণ করা হয়। এতে ৫ বছর চাকরিকালে ২১ শতাংশ থেকে শুরু করে ২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরিতে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন পাওয়ার বিধান রাখা হয়।

তবে ৫ থেকে ২৪ বছর চাকরিকালের এই সুবিধা সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। যেমন—চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু, মেডিক্যাল বোর্ড কর্তৃক স্থায়ী অক্ষমতা অথবা পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি হারানোর ঘটনা।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনও বাড়ানো হয়। ৬৫ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পেনশন বৃদ্ধি করা হয়। একই সঙ্গে মাসিক ন্যূনতম পেনশন ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

চাকরিকাল কমিয়ে আনার ফলে আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। ৫ থেকে ৯ বছর চাকরিকালের ক্ষেত্রে প্রতি ১ টাকা পেনশনের বিপরীতে ২৬৫ টাকা আনুতোষিক নির্ধারণ করা হয়।

এ ছাড়া চাকরির মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই কোনো কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তার পরিবারের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার বিধান রাখা হয়। প্রতিটি পূর্ণ বছরের জন্য শেষ তিন মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এককালীন সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।

পারিবারিক পেনশন ব্যবস্থাতেও আনা হয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। বিধবা স্ত্রীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সের পর পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামার শর্ত শিথিল করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে মৃত নারী কর্মচারীর স্বামীও পারিবারিক পেনশন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

অবসর সুবিধার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের একটি হলো ছুটি নগদায়নের সুযোগ বৃদ্ধি। আগে যেখানে সর্বোচ্চ ১২ মাসের ছুটি নগদায়ন করা যেত, সেখানে তা বাড়িয়ে ১৮ মাস করা হয়। ফলে অবসরের সময় কর্মচারীরা আরও বেশি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান।

প্রজ্ঞাপনটি ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয় এবং ওই সময় পিআরএলে থাকা কর্মচারীরাও নতুন সুবিধার আওতায় আসেন। গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন।