• ই-পেপার

সব বিভাগে বজ্রবৃষ্টির আভাস

বিয়েতে বাড়ছে বয়সের ব্যবধান, ২৪ শতাংশের স্বামী ১০ বছরের বড়

অনলাইন ডেস্ক
বিয়েতে বাড়ছে বয়সের ব্যবধান, ২৪ শতাংশের স্বামী ১০ বছরের বড়
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

বিয়েতে বাড়ছে বয়সের পার্থক্য। সাম্প্রতিক এক জরিপ বলছে, শুধু বয়সে বড় হওয়াই নয় অনেক ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বয়সের ব্যবধান ১০ বছর বা তারও বেশি দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের বড় বয়সের ব্যবধান আগের তুলনায় ক্রমেই বাড়ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (মিকস) ২০২৫-এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিবাহিত মেয়েদের প্রায় ২৪ শতাংশের স্বামী তাদের চেয়ে ১০ বছর বা তার চেয়ে বেশি বড়। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রেও এ হার প্রায় ২৬ শতাংশ।

মিকসের ২০১২-১৩, ২০১৯ ও ২০২৫ সালের তথ্য তুলনা করলে একটি পরিস্কার চিত্র দেখা যায়। ২০১২-১৩ সালে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিবাহিত মেয়েদের মধ্যে ২০ শতাংশের স্বামী তাদের চেয়ে ১০ বছর বা তার বেশি বড় ছিলেন। ২০২৫ সালে সে হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ শতাংশে। একইভাবে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে ২০১২-১৩ সালে এই হার ছিল প্রায় ২২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে বেড়ে প্রায় ২৬ শতাংশ হয়েছে।

২০১৯ সালের মিকস জরিপে বয়সের ব্যবধান আরও বেশি দেখা গিয়েছিল। সে সময় ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিবাহিত মেয়েদের প্রায় ৩১ শতাংশ এবং ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের প্রায় ২৮ শতাংশের স্বামী তাদের চেয়ে ১০ বছর বা তার বেশি বড় ছিলেন। ফলে ২০১৯ সালের তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমলেও দীর্ঘমেয়াদে বয়সের বড় ব্যবধানের প্রবণতা এখনো এক যুগ আগের তুলনায় বেশি।

বয়সের পার্থক্য নিয়ে বিস্তারিত চিত্র পাওয়া যায় ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিবাহিত কিশোরীদের তথ্য থেকে। মিকস ২০২৫ অনুযায়ী, এ বয়সী বিবাহিত কিশোরীদের ৪৫ শতাংশের স্বামী তাদের চেয়ে ৫ থেকে ৯ বছর বড়। আরও প্রায় ২৪ শতাংশের স্বামী ১০ বছর বা তার বেশি বড়। অন্যদিকে ২০ শতাংশের স্বামী তাদের চেয়ে শূন্য থেকে ৪ বছর বড়। মাত্র ১ শতাংশ ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীর চেয়ে বয়সে ছোট।

বিবিএসের স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২৩ প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষদের গড় বয়স ২৪ বছরের বেশি, আর নারীদের ১৮ বছরের বেশি। অর্থাৎ প্রথম বিয়ের সময় নারী ও পুরুষের গড় বয়সের পার্থক্য প্রায় ৬ বছর। অতিদরিদ্র পরিবারে পুরুষদের প্রথম বিয়ের গড় বয়স ২২ বছর, যেখানে নারীদের ১৭ বছর। অন্যদিকে ধনী পরিবারে পুরুষদের প্রথম বিয়ের গড় বয়স ২৭ বছর এবং নারীদের ২১ বছর। অর্থনৈতিক অবস্থান ভিন্ন হলেও দুই ক্ষেত্রে বয়সের ব্যবধান প্রায় একই রকম রয়ে গেছে।

বিবিএসের উপপরিচালক (জনমিতি ও স্বাস্থ্য শাখা) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে বিয়ের ক্ষেত্রে বয়সের পার্থক্যের পেছনে প্রধানত আর্থসামাজিক বাস্তবতা কাজ করে। অধিকাংশ পুরুষ উপার্জন শুরু করার পর বিয়ে করেন। ফলে তাদের বিয়ের বয়স তুলনামূলক বেশি হয়। অন্যদিকে দেশে এখনো মেয়েদের কম বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। অনেক পরিবারে মেয়েদের কর্মজীবনে প্রবেশ বা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার অপেক্ষা না করে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান বড় হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়সের বড় ব্যবধানের অন্যতম কারণ বাল্যবিবাহ। যখন কোনো মেয়ের বিয়ে ১৫, ১৬ বা ১৭ বছর বয়সে হয়, তখন তার সম্ভাব্য স্বামী সাধারণত কর্মজীবনে প্রবেশ করা একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ হন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুজনের বয়সের মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হয়। এ কারণে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিবাহিত মেয়েদের মধ্যে ১০ বছর বা তার বেশি বয়সী স্বামীর হার তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ক্ষতিপূরণ আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়, সরকারের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত

অনলাইন ডেস্ক
ক্ষতিপূরণ আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়, সরকারের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত
ফাইল ছবি

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুমৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেবে, কী পরিমাণ দেবে সেটি তাদের বিষয়। তবে সরকার তার অবস্থান অপরিবর্তিত রাখবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের আইনজীবী নিয়োগ করে শিশুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে, সে ব্যাপারে সরকারের কিছু বলার নেই। তবে এর কারণে তাদের বিরুদ্ধে সরকারের সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হবে না।

আজ সোমবার নিজ মন্ত্রণালয়ে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃক অনুদান হিসেবে ১ লাখ ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড (আইভি স্যালাইন) হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

শিশুমৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজের জবাব দেওয়ার আরো দুদিন সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, জনস্বার্থ সংরক্ষণ থেকে সরকার এক বিন্দু পিছপা হবে না।

মন্ত্রীর দাবি, বাংলাদেশের ওষুধ ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। দেশীয় উৎপাদকরা ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারলে এই পরিসর আরো বাড়বে বলে আশাবাদী তিনি।

‘হামের এন্টিবডি তৈরি হতে ২০ জুন পর্যন্ত সময় লাগবে’, যোগ করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সংসদে বাজেট উপস্থাপন ১১ জুন

অনলাইন ডেস্ক
সংসদে বাজেট উপস্থাপন ১১ জুন

আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রবিবার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। 

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন। এর আগে সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ৭ মে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেন।

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের পরিকল্পনা করেছে সরকার। বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবেলা, ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় বৃদ্ধি, সুদ পরিশোধের চাপ এবং সরকারি কর্মচারীদের প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়নের কারণে ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।

মূলত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও প্রায় দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড ঘাটতি বাজেটের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী অর্থবছর মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য স্থির করা হচ্ছে।

ক্যান্সার-কিডনিসহ ৬ রোগের চিকিৎসায় সাড়ে ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ

অনলাইন ডেস্ক
ক্যান্সার-কিডনিসহ ৬ রোগের চিকিৎসায় সাড়ে ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ

ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ার মতো জটিল ও ব্যয়বহুল রোগে আক্রান্ত অসহায় ও দুঃস্থ  মানুষকে চিকিৎসা সহায়তা দিতে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের চতুর্থ কিস্তিতে ৪৯ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে এই অর্থ দেশের ৬৩ জেলার ৯ হাজার ৮৮৯ জন রোগীর মধ্যে বিতরণ করা হবে।

চিকিৎসা ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে সরকারের এই সহায়তা কর্মসূচি হাজারো দরিদ্র রোগী ও তাদের পরিবারের জন্য স্বস্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে অনেক পরিবারকে জমি বিক্রি, ঋণ গ্রহণ কিংবা সঞ্চয় ভেঙে ফেলতে হয়। সরকারের এ আর্থিক সহায়তা তাদের চিকিৎসা ব্যয়ের একটি অংশ বহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ‘সরকারি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। প্রতিটি আবেদন যথাযথভাবে যাচাই করার পরই তা অনুমোদন দেওয়া হয়। চিকিৎসা ব্যয়ের তুলনায় বরাদ্দের পরিমাণ হয়ত সীমিত, কিন্তু দরিদ্র রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত সহায়ক।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার চায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে এই অর্থ পৌঁছে দিতে। সে কারণেই বরাদ্দ অনুমোদনের পর দ্রুত অর্থ ছাড় এবং বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

আবেদনের পর রোগীদের সরকারি অর্থ সহায়তা পেতে বিলম্ব হয়—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে কামাল উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, রোগ শনাক্ত হওয়ার পরপরই আবেদন করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় না।

তিনি বলেন, অনেক রোগী দেরিতে সহায়তার জন্য আবেদন করেন। তখন চিকিৎসা করে রোগ নির্মূলের সময়ও হয়ত থাকে না। তাই রোগ নির্ণয়ের সঙ্গে সঙ্গেই সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করা প্রয়োজন। তাই রোগী, স্বজন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের প্রতি এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।