• ই-পেপার

রুশ বাহিনীর কাছে ‘বিক্রি’ ৩০ যুবককে দেশে ফেরাতে কাজ করছে সরকার

অবৈধ বাংলাদেশিদের নিয়ে যে বার্তা দিলেন রণধীর জয়সওয়াল

অনলাইন ডেস্ক
অবৈধ বাংলাদেশিদের নিয়ে যে বার্তা দিলেন রণধীর জয়সওয়াল
ফাইল ছবি

ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিসহ সব বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, ভারত তা আরো শক্তিশালী করে এগিয়ে নিতে চায়।

শুক্রবার (৫ জুন) দিল্লিতে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন রণধীর জয়সওয়াল।

তিনি বলেন, অবৈধভাবে কেউ ভারতে থাকতে পারবে না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আমাদের অবস্থান অভিন্ন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের আইন রয়েছে ও সেই আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রণধীর জানান, সন্দেহভাজন অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভারত। এ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম আরো ‘মসৃণ ও কার্যকরভাবে’ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, অবৈধভাবে ভারতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ইতোমধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা বা মেকানিজম বিদ্যমান রয়েছে।

জয়সওয়ালের ভাষ্য, যাদের ফেরত পাঠানোর বিষয় রয়েছে, তাদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য আমরা এসব মামলা বাংলাদেশের কাছে পাঠাই। বাংলাদেশ যখন তাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে, তখন আমরা পরবর্তী ধাপে বহিষ্কার বা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাই।

তিনি জানান, এ ধরনের একাধিক অনুরোধ এরই মধ্যে বাংলাদেশের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে এর অনেকগুলোর যাচাই প্রক্রিয়া এখনো বাকি রয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি, এসব প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করা হবে, যাতে অবৈধভাবে ভারতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম মসৃণ ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়।

ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপর চলমান ‘পুশ-ইন’ বা সীমান্ত দিয়ে লোক ঠেলে পাঠানোর ঘটনাগুলোর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করা ও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষেই রয়েছে ভারত।

সকাল ৯টার মধ্যে ৭ অঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
সকাল ৯টার মধ্যে ৭ অঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা
সংগৃহীত ছবি

দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার এক বিশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামীকাল শনিবার (৬ জুন) সকাল ৯টার মধ্যে দেশের ৭টি অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার বিশেষ পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়ার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে– রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর (পুন.) ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টা বা ৫ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিরাজ করছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু কক্সবাজার উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে।

এর প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮টি বিভাগেই কম-বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।
 
বৃষ্টির কারণে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, যা গত কয়েক দিনের ভ্যাপসা গরম থেকে সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দেবে।

কৌশলগত অংশীদারি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সম্মত বাংলাদেশ-তুরস্ক

বাসস
কৌশলগত অংশীদারি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সম্মত বাংলাদেশ-তুরস্ক

দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা যাচাইয়ে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও তুরস্ক।

শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি কৌশলগত স্তরে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং সহযোগিতা জোরদার করার ক্ষেত্রে উভয় দেশের যৌথ অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অংশীদারির প্রতিফলন ঘটিয়ে বন্ধুভাবাপন্ন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, আমাদের সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের দ্বারা পরিচালিত। এই নীতিটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণে আমাদের সুদৃঢ় অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। একই সঙ্গে এটি আমাদের এই বিশ্বাসকেও ধারণ করে যে, সীমান্তের বাইরে আমাদের বন্ধু ও অংশীদার রয়েছে, কোনো প্রভু নয়।

উভয় পক্ষই একমত পোষণ করেছে যে, এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং এটি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন ও আঞ্চলিক বিষয়ে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

এই আলোচনার একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ। খলিলুর রহমান জানান, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরো গতিশীল করতে বাংলাদেশ ও তুরস্ক একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) সইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে।

খলিলুর রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেন, হাকান ফিদানের এই সফর দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা, যৌথ প্রয়াস এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াকে আরো গভীর করবে এবং বিভিন্ন খাতে অংশীদারির নতুন নতুন সুযোগ উন্মোচনে সহায়তা করবে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানো এবং নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেরিস একিনচিকে পাঠানোর জন্য তুরস্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন খলিলুর রহমান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতায় সমর্থন দেওয়ায় তুরস্কের সরকার এবং ব্যক্তিগতভাবে হাকান ফিদানকে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে তার দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে বাংলাদেশকে তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করেন।

ফিদান বলেন, বেশ কয়েকটি খাতে, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্প, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিতে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশকে ‘গ্লোবাল সাউথের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর’ হিসেবে অভিহিত করে ফিদান বলেন, উভয় পক্ষই আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে মতামত ব্যক্ত করেছে এবং এর অনেকগুলোতেই অভিন্ন ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

ফিদান বলেন, তুরস্ক পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে। তিনি বন্ধুভাবাপন্ন এই দুই দেশের যৌথ আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আঙ্কারার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানবিক কারণে ১০ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন এবং মায়ানমারে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য আঙ্কারার অব্যাহত সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে। আমরা এর প্রচেষ্টাকে অত্যন্ত মূল্যায়ন করি এবং রোহিঙ্গা জনগণের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।

ফিদান জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিক এজেন্ডায় টিকিয়ে রাখতে তুরস্ক নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে এবং এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করবে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গাজা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলমান নৃশংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, তুরস্ক আঞ্চলিক সংঘাত বৃদ্ধির বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে কূটনীতি ও সংলাপের গুরুত্বের ওপর জোর দেয়।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার বিষয়ে ফিদান আশা প্রকাশ করেন, এই আলোচনা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখবে। তিনি নৌ-পথে কৌশলগত নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন এবং উত্তেজনা প্রশমন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় থাকা পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি করতে এলে তাকে বেঁধে আমাকে ফোন দেবেন : প্রতিমন্ত্রী পুতুল

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি করতে এলে তাকে বেঁধে আমাকে ফোন দেবেন :  প্রতিমন্ত্রী পুতুল
শুক্রবার নাটোরের লালপুরে বাজার উন্নয়ন ও আধুনিক ওয়াশ ব্লক নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল।

বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে কেউ চাঁদাবাজি করতে এলে সে যে দলেরই হোক তাকে বেঁধে তাকে ফোন দিতে বললেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। 

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে নাটোরের লালপুরে বাজার উন্নয়ন ও আধুনিক ওয়াশ ব্লক নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে কেউ চাঁদাবাজি করতে এলে সে যে দলেরই হোক তাকে বেঁধে আমাকে ফোন দেবেন। প্রয়োজনে আইনের হাতে তুলে দেবেন। বাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই ওয়াশ ব্লক নির্মাণের মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা শুধু স্বাস্থ্য সুরক্ষাই নয়, বরং একটি এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরকত উল্লাহ, সহকারী কমিশনার ভূমি আবীর হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু, গোপালপুর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও  সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম মুলাম, বিলমাডিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিদ্দিক আলী মিষ্টু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার আওলাদ হোসেন, লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, লালপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, লালপুর বাজারের দীর্ঘদিনের স্যানিটেশন সমস্যার সমাধানে এই ওয়াশ ব্লক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বাজার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ আরও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী নির্মাণাধীন কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা প্রদান করেন।