• ই-পেপার

নীরব ঘাতক ক্যান্সার : কেন হয়, কোন লক্ষণ দেখলেই হবেন সতর্ক?

হাম ও উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
হাম ও উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু
মায়ের কোলে হামে আক্রান্ত শিশু। গতকাল রাজধানীর মহাখালীর সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতাল থেকে তোলা। ছবি : মঞ্জুরুল করিম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছরে এই রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১০ জনে।

এদের মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়া অন্তত ৯১টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এর পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫১৯ শিশু।

অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুসারে, গতকাল সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে ১ হাজার ১৬৮ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে ২৪৩ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়া অন্তত ৯১টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এর পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরো ৫১৯টি শিশু। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা ৬১০-এ পৌঁছেছে।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুর কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুর কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও দায়িত্বরত নার্স-স্টাফদের চরম অবহেলার প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী তদন্ত প্রতিবেদনের সারমর্ম তুলে ধরেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনার পরপরই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি আজ দুপুর ৩টায় তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা এবং দায়িত্বরত নার্স-স্টাফদের চরম অবহেলার প্রমাণ মিলেছে।

মর্মান্তিক এ ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমার আইনে যতটুকু কঠোর হওয়া সম্ভব, আমরা ততটুকুই যাব। এবার আর কাউকে মাফ করে দেওয়া যায় না।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে অপরাধ ও অবহেলা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। হাসপাতালটির যে পোস্ট অপারেটিভ রুমে এই ঘটনা ঘটেছে, সেটি আমরা ইতিমধ্যেই সিলগালা করে দিয়েছি। তবে পুরো হাসপাতালে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকায় হুট করে তা বন্ধ করা যাচ্ছে না। আমরা আগামী দুই দিন বন্ধের মধ্যে আইন খতিয়ে দেখব এবং আগামী রবিবারের মধ্যে হাসপাতালটির বিষয়ে চূড়ান্ত ও কঠোর সিদ্ধান্তে পৌঁছাব, ইনশাআল্লাহ।’ 

হাসপাতালগুলোর এই লাগামহীন অব্যবস্থাপনা রোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা যেভাবে সচিব, ডিজি এবং প্রতিমন্ত্রীসহ সবাই মিলে আকস্মিক পরিদর্শন কার্যক্রম সাজাচ্ছি এবং যে ধরনের কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি, আমার দৃঢ় বিশ্বাস—ভবিষ্যতে আর কোনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এভাবে বদ্ধ ঘরে মানুষ বা শিশু রাখার দুঃসাহস দেখাবে না।’ 

তিনি আরো জানান, বেসরকারি হাসপাতালের নতুন লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে এখন থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বানুমতি ও ভবন পরিদর্শন বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি, যা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।

ছয় শিশুর মৃত্যুকে কেবল পেশাগত অবহেলা নাকি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটি নিশ্চিতভাবেই একটি মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ এবং এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই মামলা হয়েছে। আবেগের কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনরা শিশুদের মরদেহ নিয়ে গেছেন, যা আসামিরা আইনি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে। তবে এটি রাতের আঁধারে ঘটা কোনো গোপন ঘটনা নয়, এটি শতভাগ প্রমাণিত সত্য। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বিজ্ঞ আদালত আসামিদের কোনো ছাড় দেবেন না।’

তদন্ত কমিটির বরাত দিয়ে মন্ত্রী জানান, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ২ নম্বর পোস্ট অপারেটিভ কক্ষটি মোটেও হাসপাতাল পরিচালনার উপযোগী ছিল না। ৯০০ বর্গফুটের ওই কক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ উপস্থিত ছিল। দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকা এবং কোনো বিকল্প ভেন্টিলেশন না থাকায় কক্ষটিতে অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড বেড়ে যায়, যা নবজাতকদের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব ছিল না।

সবশেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের নিয়ে আমরা একের পর এক জুম মিটিং করছি। আমাদের নির্দেশনা এবং ব্যবস্থাপনা দিন দিন কঠোর থেকে কঠোরতর হবে, যা আপনারা শিগগিরই মাঠে দেখতে পাবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ২৭ সকালে আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার কারণ ও অব্যবস্থাপনার তদন্তে উচ্চপর্যায়ের ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ঘটনায় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও পরে সময় বাড়িয়ে ৩ জুন নির্ধারণ করা হয়।

প্রাথমিকভাবে এসির গ্যাস লিকেজ থেকে মৃত্যু বলে ধারণা করা হলেও প্রকৃত কারণ তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরে তদন্ত কমিটিতে নিউরো চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ আরো কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

হাম ও উপসর্গে আরো ৪ মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
হাম ও উপসর্গে আরো ৪ মৃত্যু
ছবি: কালের কণ্ঠ

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬০৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৩৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আর নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৯ জনের শরীরে। 

আরো পড়ুন
পুকুরে ডুবে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

পুকুরে ডুবে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

 

সারা দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ২৬০ জন। আর হামের উপসর্গ রয়েছে ৭৫ হাজার ৭০৮ জনের দেহে। 

এ পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬১ হাজার ১৯৪ জন। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৫৭ হাজার ৪৩ জন।

হাম উপসর্গে আরো ৭ প্রাণহানি, ৬০০ ছাড়াল মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
হাম উপসর্গে আরো ৭ প্রাণহানি, ৬০০ ছাড়াল মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৬০১ জনে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এই সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২১০ জন।

বুধবার (৩ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

আরো পড়ুন
সাগর-রুনির সন্তান মেঘকে বিচারের আশ্বাস দিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল

সাগর-রুনির সন্তান মেঘকে বিচারের আশ্বাস দিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১২১০ শিশু সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৫৭২ জনে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫৫ জন। এখন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ১৯১ জন।

আরো পড়ুন
বগুড়ায় বাঁশ কাটার বিরোধে কৃষককে পিটিয়ে হত্যা

বগুড়ায় বাঁশ কাটার বিরোধে কৃষককে পিটিয়ে হত্যা

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬০ হাজার ১৫৮ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৫৫ হাজার ১৪২ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এখন পর্যন্ত পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫১১ জনের। এ ছাড়া নিশ্চিত হামে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৯০ জন।