• ই-পেপার

জ্ঞানচর্চার নতুন প্ল্যাটফর্ম আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট

জেনেভা ক্যাম্পে আরো নতুন কৌশলে চলছে গডফাদারদের মাদক কারবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
জেনেভা ক্যাম্পে আরো নতুন কৌশলে চলছে গডফাদারদের মাদক কারবার
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পে আরো নতুন কৌশলে মাদক কারবার চলছে। সেই সঙ্গে এতে যুক্ত হয়েছে আরো কিছু নতুন মুখ। তারা সবাই পর্দার আড়ালে থেকে মাদক কারবারে সম্পৃক্ত রয়েছে। নতুন শীর্ষ মাদক কারবারিরা হলো- শান্ত, ইরফান, নেটা সামির ও উল্টা সালাম।

এরা প্রতিদিন বিকাল থেকে ভোর পর্যন্ত ইয়াবা, হেরোইনসহ সব ধরনের মাদক কারবার করে। তাদের প্রত্যেকের মাদকের টাকায় রয়েছে বিলাশি জীবন। শনিবার রাতে ক্যাম্পের বাসিন্দারা জানায় এ তথ্য।

পুলিশ বলছে,  ক্যাম্পের মাদক নিয়ন্ত্রণে তারা প্রতিদিন নজরদারির পাশাপাশি অভিযানও চালান।
তবে সরেজমিনে জানা গেছে, এখনো সেখানকার প্রতিটি সড়ক, গলি চিহ্নিত মাদক কারবারিদের দখলে থাকে। শীর্ষ মাদক গডফাদার উল্টা সালাম, গাল কাটা মনু, শাহ আলম, নেটা সামির ও ইমতিয়াজসহ একাধিক গডফাদারের নিয়ন্ত্রণে। তাদের শতাধিক সহযোগী এখনো অনেকটা প্রকাশ্যে ইয়াবা, হেরোইন, গাজা, আইস, সিসাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করে।

ক্যাম্পের চার পাশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল থাকলেও রহস্যজনক কারণে এসব মাদক কারবারিদের ধরা হয় না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার কেউ তাদের মাদক কারবারের প্রতিবাদ করলে তাদেরকে মারধর করা হয়। দেওয়া হয় হত্যার হুমকি। গতকালও কয়েকজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে তারা মারধর করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেনেভা ক্যাম্পের একাধিক ব্যক্তি জানায়, ক্যাম্পের ভেতরে প্রতিদিন বিকাল থেকে রাতভর গডফাদারদের নিয়ন্ত্রণে প্রকাশে্য মাদক কারবার চলে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাদক গডফাদার উল্টা সালাম, ইমতিয়াজ, নেটা সামির, শাহ আলম ও গালকাটা মনুর প্রভাব রয়েছে ক্যাম্পের ভেতরে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে ৫ আগস্ট পরবর্তী দফায় দফায় অভিযানের পরও জেনেভা ক্যাম্পের
মাদক কারবার এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

এদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দীন কালের কণ্ঠকে বলেন, জেনেভা ক্যাম্পের মাদক গডফাদারদের মধ্যে অনেকেই এরই মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে। বর্তমানে যারা গ্রেপ্তার হয়নি তাদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদক গডফাদাররা আধিপত্য ধরে রাখতে ক্যাম্পে তাদের সহযোগীদের দিয়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি করে। এর জেরে প্রাণ যাচ্ছে এলাকার নিরীহ মানুষের। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এক আতঙ্কের জনপদ। শুধু মাদক কারবারই নয়, প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে এ এলাকায়। এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। মাঝে মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান হয় এতে কিছুদিনের জন্য স্বস্তি ফিরলেও ফের একই পরিস্থিতি রয়েছে। মোহাম্মদপুর থানাধীন আটকেপড়া পাকিস্তানিদের আবাসস্থল জেনেভা ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চলছে জানিয়ে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিন সেখানে হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যায়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও তাদের ক্রেতা। মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আরো কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে মাদক কারবার বারতেই থাকবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৩০ এপ্রিল থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই এই তত্পরতা বৃদ্ধি পায়। 

পুলিশ ও ক্যাম্পের বাসিন্দাদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়, এর আগে মাদক অপরাধীদের হাতে খুন হয় শাহ আলম নামের এক নিরপরাধ তরুণ। তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। গত এক বছরে একই কারণে এই মাদক কারবারিরা আরো পাঁচজন খুন করে। তাদের চাপাতির কোপে ও গুলিতে আহত হয় অর্ধশতাধিক লোক। এর মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে।

পুলিশ বলছে, ক্যাম্পের অন্তত ৮০ শতাংশ লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এখন মাদকে জড়িয়ে পড়েছে। শিশু ও কিশোরদের পাশাপাশি নারীদেরও ব্যবহার করে তারা ক্যাম্পে মাদক কারবার করছে।

ইপিএসের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠাতে কোল্যাবের বার্ষিক মিলনমেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইপিএসের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠাতে কোল্যাবের বার্ষিক মিলনমেলা

বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় ইপিএস-এর মাধ্যমে অধিকসংখ্যক কর্মী পাঠাতে করণীয় নিয়ে আলোচনা করতে কোরিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের (কোল্যাব) উদ্যোগে বার্ষিক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৪ জুন) রাজধানীর ধানমণ্ডির একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কোল্যাবের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।

এ সময় ইপিএসের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, কোরিয়ান ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, বৈধ অভিবাসন এবং প্রবাসীদের কল্যাণে করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে আশা প্রকাশ করা হয়, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দক্ষ জনশক্তি বিনিময় আরো জোরদার করবে এবং ইপিএস-এর মাধ্যমে অধিকসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বোয়েসেলের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন, ইপিএস সেন্টার ইন বাংলাদেশের সাবেক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোতালিব, সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন রানা এবং কোল্যাবের উপদেষ্টা ইসলাম হোসেন ও মোরশেদ আলম প্রিন্স।

স্টার অ্যাওয়ার্ড পেলেন তরুণ সংগঠকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্টার অ্যাওয়ার্ড পেলেন তরুণ সংগঠকরা

সমাজসেবা, মানবকল্যাণ, স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং তরুণ নেতৃত্বের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নির্বাচিত তরুণ সংগঠকদের স্টার অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার অডিটরিয়ামে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. রশিদুল হাসান। তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখা তরুণ সংগঠকদের হাতে স্টার অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন।

এ সময় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক এবং তরুণ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার কালের কণ্ঠ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর রশিদুল হাসান বলেন, দেশের উন্নয়ন ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, নেতৃত্বগুণ এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি তরুণদের মানবকল্যাণে আরো নিবেদিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, মানবিক সহায়তা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে যেসব তরুণ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের স্বীকৃতি দিতেই এই স্টার অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। এমন সম্মাননা তরুণদের আরো উৎসাহিত করবে এবং সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনে নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করবে।

অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ করে পুরস্কারপ্রাপ্ত তরুণ সংগঠক মো. শাফায়াত হোসেন বলেন, স্টার অ্যাওয়ার্ড আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি আমার সংগঠন, সহযোদ্ধা এবং সমাজের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। সমাজের কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে যারা প্রতিনিয়ত সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমি এই সম্মাননা উৎসর্গ করছি। এ ধরনের স্বীকৃতি আমাদের দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে দেয় এবং ভবিষ্যতে মানবকল্যাণে আরো নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়। আমরা বিশ্বাস করি, তরুণদের নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমই একটি মানবিক, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে মোহাম্মদ আলী বলেন, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে নিরলসভাবে কাজ করা তরুণদের সম্মানিত করার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। দেশের উন্নয়ন, মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধিতে তরুণদের অংশগ্রহণ আরো শক্তিশালী করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

জ্বালানি খাতকে আরো স্বচ্ছ-টেকসই করে গড়ে তোলার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
জ্বালানি খাতকে আরো স্বচ্ছ-টেকসই করে গড়ে তোলার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

জ্বালানি খাতকে আরো স্বচ্ছ, টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু সহনশীল করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, নীতিগত সংস্কার, গবেষণা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ‘এনার্জি টক-৪ : ট্রানজিশন রিয়েলিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন তারা। ড্রিম রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (ডিআরডিএফ) সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান বাস্তবতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাব এবং জ্বালানি রূপান্তরে নাগরিক সমাজের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় ‘বাংলাদেশে জ্বালানি রূপান্তরের যৌক্তিকতা’ বিষয়ে বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের মূল কারণ শুধু জ্বালানির ঘাটতি নয়, বরং আমদানিনির্ভরতার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি। এই বাস্তবতায় টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি ও নিজস্ব সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার। সুতরাং এখনই জ্বালানি রূপান্তরের গতি ত্বরান্বিত করতে হবে।

‘পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তির জ্বালানি রূপান্তরে সম্ভাব্য প্রভাব’ বিষয়ে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও জ্বালানি গবেষক ড. মোশাহিদা সুলতানা। তিনি বলেন, জ্বালানিনীতি কখনোই শুধু প্রযুক্তি বা অর্থনীতির বিষয় নয়; এর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত রয়েছে বাণিজ্য, ভূ-রাজনীতি এবং জাতীয় স্বার্থ। যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি এমন হতে হবে, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের পথকে শক্তিশালী করবে।

‘জ্বালানি রূপান্তরের আন্দোলন’ বিষয়ে বক্তব্য দেন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়কারী শরীফ জামিল। তিনি বলেন, জ্বালানি রূপান্তর কোনো অবান্তর চাওয়া নয়, এটি বাংলাদেশের সময়ের দাবি। জীবাশ্ম জ্বালানির দূষণ, আমদানিনির্ভরতা ও জলবায়ু ঝুঁকি থেকে বেরিয়ে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্ভর, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে এখনই সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রকৃতিকে ধ্বংস করে এবং মানুষের জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়, তা কখনো টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না। সুতরাং জ্বালানি রূপান্তরের আন্দোলন পরিচ্ছন্ন, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই হতে হবে।

সভায় জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উন্নয়নকর্মী, পরিবেশ আন্দোলনের প্রতিনিধি, তরুণ নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রতিটি উপস্থাপনার পর অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে ন্যায়সংগত ও টেকসই জ্বালানি রূপান্তর বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গবেষণা ও নীতিগত সংলাপ জোরদার এবং তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘এনার্জি টক’ ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।