• ই-পেপার

আদাবরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, তিনজন আটক

পয়োবর্জ্যের অবৈধ নিষ্কাশন বন্ধে ডিএনসিসির যৌথ কর্মপরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
পয়োবর্জ্যের অবৈধ নিষ্কাশন বন্ধে ডিএনসিসির যৌথ কর্মপরিকল্পনা

রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকায় নিরাপদ ও টেকসই পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সিডিউল ডিস্লাজিং কার্যক্রম বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সোসাইটি, ঢাকা ওয়াসা ও ডিএনসিসির অংশগ্রহণে একটি সমন্বয় সভা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বারিধারা সোসাইটি, গুলশান সোসাইটি, বনানী সোসাইটি ও নিকেতন সোসাইটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ডিএনসিসি এবং ঢাকা ওয়াসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, ঢাকা শহরের কিছু এলাকায় ঢাকা ওয়াসার পয়োনিষ্কাশন (সুয়ারেজ) ব্যবস্থা থাকলেও অনেক এলাকায় এখনো সেপটিক ট্যাংকের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বাস্তবে বহু স্থানে পয়োবর্জ্য সরাসরি লেক, খাল ও অন্যান্য জলাশয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে পরিবেশ দূষণ, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি, মশার বংশবিস্তার এবং জলাবদ্ধতার মতো সমস্যা বাড়ছে।

এ প্রেক্ষাপটে ডিএনসিসির প্রশাসক গুলশান, বনানী ও বারিধারা লেকসহ সব জলাধারে পয়োবর্জ্যের অবৈধ নিষ্কাশন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় বারিধারা, গুলশান, বনানী ও নিকেতন সোসাইটির প্রতিনিধিরা প্রশাসকের সঙ্গে একমত পোষণ করেন এবং সিডিউল ডিস্লাজিং কার্যক্রম বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সভায় আরো জানানো হয়, নিরাপদ পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসার মধ্যে একটি মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) সই হয়। ওই সমঝোতার ভিত্তিতেই ডিএনসিসি এলাকায় পরিকল্পিতভাবে সিডিউল ডিস্লাজিং কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত পাঁচটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে আগামী দুই মাস ড্রাই-রান কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলক এ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিগরি সক্ষমতা, সেবার মান এবং কার্যক্রমের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হবে। সফলভাবে ড্রাই-রান সম্পন্ন হলে পর্যায়ক্রমে ডিএনসিসির আওতাধীন এলাকায় পূর্ণাঙ্গ সিডিউল ডিস্লাজিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিত এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরো আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হবে। একই সঙ্গে জলাশয় দূষণ কমবে, মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

হলি আর্টিজান ট্র্যাজেডির ১০ বছর

নিহত ৭ জাপানি নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাল জাইকা

অনলাইন ডেস্ক
নিহত ৭ জাপানি নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাল জাইকা

হলি আর্টিজান ট্র্যাজেডির দশম বছর স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিহত ৭ জন জাপানি নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।

বুধবার (২ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় মেট্রো রেল প্রদর্শনী ও তথ্যকেন্দ্র (এমইআইসি) আয়োজিত স্মরণসভায় এ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

জাইকা জানায়, নিহত সাত জাপানি নাগরিক বাংলাদেশের মেট্রো রেল প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাদের অবদানেই ঢাকা মেট্রো রেলের ভিত্তি রচিত হয়। এটি বর্তমানে রাজধানীর লাখো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং বাংলাদেশ-জাপান অংশীদারির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো, জাইকার দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক ইয়ামাদা তেতসুইয়া, জাইকা বাংলাদেশ অফিসের মুখ্য প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো, জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিমাদা তোমোআকি, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং জাপান সরকার ও দূতাবাসের অন্য কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শৌগাতুল আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই হত্যা মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই হত্যা মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর মিরপুরের কাফরুল থানায় মাহবুব হাসান মামুন হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ নেতা (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক) রবিউল ইসলাম রবিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক মো. আব্দুল আলীম আসামিকে আদালতে হাজির করে আবেদন করেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ আসামির গ্রেপ্তারের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, এ আসামি ছাত্রলীগের পদধারী নেতা। ছাত্র আন্দোলন চলাকালে  এ আসামি মিরপুর বিআরটিএর সামনে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরদের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে সেখানে উপস্থিত ছিল। তারা সেখান ছাত্র-জনতার ওপরে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে। যার ফলে ভুক্তভোগী মাহবুব সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলামসহ কয়েকজন গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করে শুনানি করেন। তারা আদালতে বলেন, এ মামলায় আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তিনি ইতিমধ্যে কয়েকটি মামলায় জামিন পেয়েছেন। ফের নতুন এ মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। 

শুনানি শেষে আইনজীবী ফয়সাল ইসলাম জানান, আমরা আদালতে বলেছি, এ আসামির পক্ষে আমরা উচ্চ আদালতে রিট করেছিলাম। উচ্চ আদালতের একটি বেঞ্চ তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না থাকলে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে রুল জারি করেছেন। সেটি আদালতে জমা দেওয়ার পরেও আজকে  একটি হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে উচ্চ আদালতের রুলস ভায়োলেন্স হয়েছে। 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২৪ সালের ১৭ জুলাই ছাত্র আন্দোলনের সময়ে মিরপুরের বিআরটিএর সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মাহবুব হাসান মামুন।এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী সাহীনুর ওই বছরের ২১ নভেম্বর মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬১ জনকে আসামি করা হয়।

গ্রেপ্তারের আবেদনে পুলিশ বলেছে, ওই আসামি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। সন্দিগ্ধ এ আসামি ছাত্রলীগ করার কারণে এজাহারনামীয় আসামিসহ ছাত্র-জনতার যৌক্তিক আন্দোলন দমনের জন্য গুলি করে ভিকটিমকে হত্যা করেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন। পরবর্তী সময়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে।

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪২২, মামলা ৮৯

অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪২২, মামলা ৮৯
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ৮৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগ ৪৪ জন, লালবাগ বিভাগ ১৯ জন, ওয়ায়ী বিভাগ ৫৫ জন, মতিঝিল বিভাগ ৪৩ জন, তেজগাঁও বিভাগ ৮২ জন, মিরপুর বিভাগ ৯৬ জন, গুলশান বিভাগ ৩৪ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এ সময় তাদের হেফাজত হতে ১ কেজি ৩৫৫ গ্রাম গাঁজা, ১০ হাজার ৫২৪ পিস ইয়াবা, ৫৩ গ্রাম হেরোইন, ১ টি শর্টগান, ১ টি ছুরি, ১ টি রড, ১ টি স্ক্রু ড্রাইভার, একটি হেক্সো ব্লেড, ১ টি ল্যাপটপ, ১ টি এসএসডি, ১৫ টি মোবাইল, ১৬০ টি সিম কার্ড, ১ টি প্রাইভেটকার, ১ টি ট্রাক, ১ টি স্কুল ব্যাগ ও নগদ ২ হাজার ৮৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিএমপির বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।