• ই-পেপার

ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

৩০০ ফিটে মৃত্যুফাঁদ ‘রেসিং’

বসানো হবে এআই ও স্পিড ক্যামেরা

অনলাইন ডেস্ক
৩০০ ফিটে মৃত্যুফাঁদ ‘রেসিং’
রাজধানীর ৩০০ ফিটে রাতে বেপরোয়া মোটরসাইকেলচালকরা। ছবি : সংগৃহীত

অবৈধ রেসিং ও তীব্রগতিতে গাড়ি চালানোর কারণে দৃষ্টিনন্দন ৩০০ ফিট সড়ক পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে। সড়কটি মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত পুরোপুরি ফাঁকা থাকার সুযোগ কাজে লাগায় রেসাররা। তখন তরুণদের জন্য এ সড়ক হয়ে যায় রেসিং ট্র্যাক। শুরু হয় বেপরোয়া গতির প্রতিযোগিতা। মাসে প্রায় দেড় শতাধিক দুর্ঘটনা ঘটে এ সড়কে। মারা যায় অনেকেই। এদের মধ্যে বেশির ভাগই অল্পবয়স্ক তরুণ তরুণী।

স্থানীয়দের বরাতে বাংলাদেশ প্রতিদিন এক প্রতিবেদনে জানায়, দিনের তুলনায় রাতে এ সড়কে দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। ব্যক্তিগত গাড়ি অথবা মোটরসাইকেল নিয়ে রেসিং করতে আসা বেশির ভাগ চালকই ধনী পরিবারের সন্তান। অনেক সময় নেশাগ্রস্ত হয়ে রেসিং প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন তারা। আবার অনেকে টিকটক কিংবা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রিলস ভিডিও বানাতে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়। অনেকে মোটরসাইকেল নিয়ে স্টান্ট করে। এতে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারালে ঘটে দুর্ঘটনা।

গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে ৩০০ ফিট সড়কে সরেজমিন দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকে সড়কে দলবেঁধে মডিফাই করা মোটরসাইকেল নিয়ে উপস্থিত হন। প্রাথমিকভাবে গাড়ি নিয়ে ভিডিও করতে দেখা যায়। তবে রাত গভীর হলে পাশের সার্ভিস রোডে রেসিংয়ের জন্য প্রস্তুত হন তারা। কিছুদূর গেলে শুরু হয় তাদের আসল প্রতিযোগিতা। ওঠেন প্রধান সড়কে। তীব্র গতি ও শব্দ করে ৩০০ ফিট সড়ক ছুটে বেড়ান তারা। রাস্তাটি পরিণত হয় তাদের খেলার জায়গায়। রাস্তায় পর্যাপ্ত পরিমাণে টহল ও নজরদারি না থাকায় চালকদের মধ্যে কোনো রকমের শৃঙ্খলা দেখা যায় না। সড়কে সরকার নির্ধারিত গতিসীমা মোটরসাইকেলের জন্য ৬০ কিলোমিটার প্রাইভেটকারের জন্য ৮০ কিলোমিটার লেখা থাকলেও চালকরা এ গতিসীমা মানেন না। কয়েকটি পয়েন্টের চেকপোস্ট পার হলেই তীব্রগতিতে গাড়ি চালানো শুরু হয়। এসব প্রতিরোধে এক্সপ্রেসওয়েটিতে স্বয়ংক্রিয় স্পিড মনিটরিং ব্যবস্থা নেই। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক সাইনেজের ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া সড়কের অনেকাংশে সৌর স্ট্রিট লাইটগুলোও অকেজো হয়ে পড়েছে। এতে দুর্ঘটনার পাশাপাশি চুরি ছিনতাই, মাদকগ্রহণের মতো অবৈধ কার্যক্রম চলে।

জানা যায়, রেসিং অথবা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো রোধে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিদিনই টহল ও চেকপোস্ট বসানো হয়। অনেক সময় এক্সপ্রেসওয়ে ছেড়ে ভিতরের রাস্তায় চলে যায় রেসিং করতে। তাই তাদের ধরা যায় না। আর রেসাররা বেশির ভাগই আসে পুরান ঢাকা, গুলশান, বনানী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ধানমন্ডি এবং ঢাকার আশপাশের এলাকা থেকে।

নীলা মার্কেটে ব্যবসা করেন স্থানীয় রুবেল মিয়া এমন এক দুর্ঘটনার কথা জানান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে। তিনি বলেন, মডিফাইড করা মোটরসাইকেল ও দামি প্রাইভেট কার নিয়ে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন চালকরা। এদের গতি অনিয়ন্ত্রিত থাকায় অনেক সময় ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে এক লেন থেকে অন্য লেনে গিয়ে পড়ে। কিছুদিন আগেও বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসছিলেন একজন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাথরবোঝাই ট্রাকের পেছনে ধাক্কা লাগলে তিনি সেখানেই মারা যান।

ডিএমপির খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন বলেন, ৩০০ ফিট সড়কে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু থানায় সেভাবে কেউ অভিযোগ করেন না। কোনো দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হলেও তার স্বজনরা আমাদের জানাতে চান না। যখন ক্ষতিপূরণ, বিআরটিএতে অভিযোগের মতো বিষয়গুলো আসে শুধু তখনই অভিযোগ করতে আসেন কেউ কেউ।

ওসি আরো বলেন, যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে ট্রাফিক পুলিশ। তারা থানা পুলিশের সহযোগিতা চাইলে আমরা তখন ঘটনাস্থলে গিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি।

ট্রাফিকের গুলশান বিভাগের এডিসি মো. জিয়াউর রহমান বলেন, যেসব গাড়ি আইন ভঙ্গ করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিয়মিতই মামলা দেওয়া হচ্ছে, রেকারে পাঠানো হচ্ছে। এরপরও অনেকে আইন মানতে চান না। এজন্য এআই ক্যামেরা বসানো এবং রাজউকের মাধ্যমে স্পিড ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি বসানো হলে গাড়ির গতি কমে আসবে।

সোমবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক
সোমবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

নানা প্রয়োজনে ঢাকার বাসিন্দারা দোকানপাট ও মার্কেটে যান। কিন্তু তীব্র যানজট পেরিয়ে গিয়ে যদি দেখতে পান সব দোকানপাট বন্ধ, তাহলে বিফলে যাবে সব। তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক সোমবার রাজধানীর কোন কোন এলাকায় দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকবে।

যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ
আগারগাঁও, তালতলা, শেরেবাংলা নগর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পল্লবী, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, মিরপুর-১৩, মিরপুর-১৪, ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত, কাফরুল, মহাখালী, নিউ ডিওএইচএস, ওল্ড ডিওএইচএস, কাকলী, তেজগাঁও ওল্ড এয়ারপোর্ট এরিয়া, তেজগাঁও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া, ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান-১, ২, বনানী, মহাখালী কমার্শিয়াল এরিয়া, নাখালপাড়া, মহাখালী ইন্টারসিটি বাস টার্মিনাল এরিয়া, রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও, গোড়ান, মালিবাগের একাংশ, বাসাবো, ধলপুর, সায়েদাবাদ, মাদারটেক, মুগদা, কমলাপুরের একাংশ, যাত্রাবাড়ীর একাংশ, শনির আখড়া, দনিয়া, রায়েরবাগ ও সানারপাড়।

অর্ধদিবস বন্ধ যেসব মার্কেট
পল্লবী সুপার মার্কেট, মিরপুর বেনারসি পল্লী, ইব্রাহীমপুর বাজার, ইউএই মৈত্রী কমপ্লেক্স, বনানী সুপার মার্কেট, ডিসিসি মার্কেট গুলশান-১ এবং ২, গুলশান পিংক সিটি, মোল্লা টাওয়ার, আল-আমিন সুপার মার্কেট, রামপুরা সুপার মার্কেট, মালিবাগ সুপার মার্কেট, তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট, কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, গোরান বাজার, আবেদিন টাওয়ার, ঢাকা শপিং সেন্টার, আয়েশা মোশারফ শপিং কমপ্লেক্স ও মিতালী অ্যান্ড ফ্রেন্ড সুপার মার্কেট।

খিলগাঁওয়ে কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক
খিলগাঁওয়ে কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে জখম

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে এক কলেজ ছাত্রকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। আহত শিক্ষার্থীর নাম সৌরভ শাহরিয়ার (১৮)। তিনি খিলগাঁও মডেল কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী।

রবিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে খিলগাঁও তিলপাপাড়া এলাকার লাকি ফার্মেসীর সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় সৌরভকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, সন্ধ্যায় তিলপাপাড়া লাকি ফার্মেসীর সামনে সৌরভ তার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বসে ছিলেন। এ সময় স্থানীয় যুবক আরাফাত, ফাতিন ও সোলেমানসহ কয়েকজন আকস্মিকভাবে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সৌরভের বাম কাঁধে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

তবে ঠিক কী কারণে সৌরভের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ বা প্রত্যক্ষদর্শীরা।

আহত শিক্ষার্থীর বাবা শুভ মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে ওদের কোনো পূর্বশত্রুতা ছিল না। ওরা এলাকার বকাটে ছেলে। ঘটনার সময় ওরা আমার ছেলের মোবাইল ফোনটি টানাটানি করেছিল, কিন্তু নিতে পারেনি। এরপরই তাকে কুপিয়ে জখম করে।’

ঢামেক হাসপাতালের সামনে ফুটপাত থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢামেক হাসপাতালের সামনে ফুটপাত থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বাগান গেটের সামনের ফুটপাত থেকে এক নবজাতক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার বিকেলে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

আজ বিকেলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে শাহবাগ থানা-পুলিশের একটি দল ঢামেক হাসপাতালের বাগান গেটের সামনের ফুটপাতে যায়। সেখানে কালো কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় ওই নবজাতকের মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মো. লাভলু আহমেদ বলেন, ‘৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে আমরা বিকেলে ঘটনাস্থলে যাই। সেখান থেকে ফুটপাতে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় মৃত নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়।’

এসআই লাভলু আহমেদ আরো জানান, উদ্ধার হওয়া নবজাতকটির বয়স আনুমানিক এক দিন হতে পারে। কে বা কারা মৃত নবজাতকটিকে সেখানে ফেলে গেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।