• ই-পেপার

চট্টগ্রামে সড়কে প্রাণ গেল কোস্ট ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাসহ দুজনের

মাদক নির্মূলে প্রতিটি মহল্লায় কমিটি গঠনের আহ্বান গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
মাদক নির্মূলে প্রতিটি মহল্লায় কমিটি গঠনের আহ্বান গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের
ছবি: কালের কণ্ঠ

মাদককে দেশ, সমাজ ও পরিবারের অন্যতম প্রধান শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে বিএনপির অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে কেরানীগঞ্জ উপজেলা দক্ষিণ শাখা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে চুনকুটিয়া গার্লস স্কুল মাঠে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, মাদক আজ দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এই ভয়াবহ ব্যাধি। তাই মাদক নির্মূলকে শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব হিসেবে দেখলে হবে না। এটিকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘মাদকের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করুন। সমাজকে রক্ষা করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বর্তমানে উদ্বেগজনকভাবে তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীরা মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘ছেলেদের পাশাপাশি এখন অনেক মেয়েও মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত হচ্ছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে।’

তিনি প্রতিটি মহল্লায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে ‘মাদকবিরোধী কমিটি’ গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব কমিটি জনসচেতনতা সৃষ্টি, মাদক কারবারিদের শনাক্তকরণ এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করলে সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

সমাবেশে আবাসন খাতের একটি অংশের বিরুদ্ধে অনিয়ম, প্রতারণা ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, কিছু অসাধু ভূমিদস্যু নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য তরুণ ও কিশোরদের ভাড়াটে বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করছে। আবার অনেক হাউজিং কোম্পানি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে বছরের পর বছর পার হলেও প্রতিশ্রুত ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়নি। এসব প্রতারণার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সমালোচনা করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘যারা বলে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে, তারা ধর্মকে অপব্যবহার করছে এবং জাতির সঙ্গে তামাশা করছে। মানুষের পরকাল নির্ধারণ হবে তার নিজ নিজ আমল ও সৎকর্মের ভিত্তিতে। ধর্মকে ভোটের রাজনীতির হাতিয়ার বানানো উচিত নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘একাত্তরের পরাজয় যারা এখনো মেনে নিতে পারেনি, তারা কখনো দেশের প্রকৃত কল্যাণ করতে পারে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ক্ষমতা কখনো চিরস্থায়ী নয়। মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করেই রাজনীতি করতে হবে। জনগণের পাশে থেকে তাদের সুখ-দুঃখে অংশীদার হতে পারলে জনগণই সবসময় রাজনৈতিক নেতাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, ‘মানুষের মন জয় করতে পারলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। জনগণ পাশে থাকলে কোনো বাধাই অতিক্রম করা অসম্ভব নয়।’

নাগরিক সমাবেশে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু, মাহবুব আলম মামুন, সোহেল রানা এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

ফতুল্লায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
ফতুল্লায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
প্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে সিজান (২৫) নামের এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৪ জুলাই) রাতে ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

সিজান পশ্চিম মাসদাইর এলাকার ইউনুছ ওরফে ইন্নু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, এলাকার মসজিদের ইমাম কাউছার সম্প্রতি এলাকায় একটি সামাজিক সংগঠন তৈরি করেছে। এ সংগঠনে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জন সদস্য রয়েছে। তারা সামাজিকভাবে এলাকার বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে থাকে। একই সঙ্গে বিভিন্নজনের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থাও নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এলাকাবাসী মিলে সিজানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।

নিহত সিজানের বাবা ইন্নু মিয়া বলেন, আমার ছেলে সিজানকে বাসা থেকে কাউসারের নেতৃত্বে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জন কিশোর ও যুবক বয়সের ছেলেরা ধরে নিয়ে যায়। এরপর মাসদাইর মোড়ে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে বেধরক পেটানো হয়। পাইপ দিয়ে পিটিয়ে তোর ডান পা ভেঙে দেওয়া হয়।

তখন নিথর হয়ে পড়লে মসজিদের ইমাম কাউসার খুঁটি থেকে হাতের বাঁধন খুলে আমার কাছে দিয়ে বলেন, চিকিৎসা করাও। এরপর খানপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মসজিদের ইমাম কাউসার বলেন, সিজানের নামে ছিনতাইসহ অনেক অভিযোগ আছে। তাকে বাসা থেকে আনা হয়েছিল বুঝানোর জন্য যে, সে যেন খারাপ কাজ ছেড়ে দেয়। তখন কিছু উত্তেজিত লোকজন সিজানকে গণপিটুনি দেয়। যারা পিটুনি দিয়েছে তারা আমার কেউ না।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের দাগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হবে।

খুলনায় চালককে গলা কেটে ভ্যান নিয়ে উধাও

খুলনা অফিস
খুলনায় চালককে গলা কেটে ভ্যান নিয়ে উধাও
প্রতীকী ছবি

ভ্যান চালককে গলা কেটে ভ্যান নিয়ে উধাও হলো ছিনতাইকারীরা। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটে জেলার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাটের মোল্লা ডাঙা এলাকায়। নিহত ব্যক্তির নাম সমির ভট্ট (৪০)।

শনিবার (৪ জুলাই) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে দিঘলিয়ার কেটলা গ্রামের রবিন ভট্টর ছেলে ভ্যানচালক সমির (৪০) যাত্রী নিয়ে মোল্লা ডাঙা সড়ক দিয়ে বারাসাতের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে যাত্রীবেশী দুর্বৃত্তরা সমিরকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে রাস্তায় ফেলে যায়।

এসময় সমিরের গোংরানিতে পার্শ্ববর্তী লোকজন ছুটে গিয়ে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় উদ্ধার করার কিছু সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে মারা যান। মাঝিরগাতী পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই জামিল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

দিঘলিয়া থানাার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ভ্যানচালককে গলা কেটে ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহত ভ্যানচালকের লাশ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লায় ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা নারীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত আটক

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা নারীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত আটক
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার সদর দক্ষিণের বিজয়পুর বাজার এলাকায় ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত খোকনকে (৫০) আটক করেছে পুলিশ। 

শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় জেলার বরুড়া উপজেলার ঝলম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৩০ জুন ভোর রাতে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর বাজার এলাকায় একটি কনফেকশনারি দোকানের সামনের ফুটপাতে এ ঘটনা ঘটে। তবে শনিবার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভোর ৪টা ৮ মিনিটের দিকে ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা এক মধ্যবয়সী নারীর কাছে সাদা শার্ট ও লুঙ্গি পরিহিত এক ব্যক্তি এসে তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর অভিযুক্ত দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। কিছুক্ষণ পর বাজারের এক পাহারাদার ঘটনাস্থলে এসে নারীটিকে দেখতে পান।

ভিডিও বিশ্লেষণ করে পুলিশ সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর বাজারসংলগ্ন দুর্গাপুর এলাকার দুলা মিয়ার ছেলে খোকনকে অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি এলাকায় জুয়া পরিচালনার সঙ্গে জড়িত এবং একজন চিহ্নিত জুয়াড়ি হিসেবে পরিচিত। 

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, ভাইরাল ভিডিওটি আমাদের নজরে আসার পরপরই তদন্ত শুরু করি। পরে অভিযুক্তকে শনাক্ত করে শনিবার সন্ধ্যায় বরুড়া উপজেলার ঝলম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।