• ই-পেপার

হার্ডওয়্যারের দোকানে ২৮ কেজি ওজনের অজগর, উদ্ধারের পর সুন্দরবনে

ন্যায্য দাম না পেয়ে পানিতে পেঁয়াজ ফেলে প্রতিবাদ

নুরুল ইসলাম, সালথা-নগরকান্দা (ফরিদপুর)
ন্যায্য দাম না পেয়ে পানিতে পেঁয়াজ ফেলে প্রতিবাদ
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়ার গ্রামের ডোবায় পেঁয়াজ ফেলে দেন কৃষক দাউদ মাতুব্বর। রবিবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

তিন মণ পেঁয়াজ নিয়ে রবিবার (২৮ জুন) সকালে স্থানীয় বাজারে যান দাউদ মাতুব্বর। তবে বাজারে পণ্যটির দাম দেখে হতাশ ফরিদপুরের সালথা উপজেলার খোয়ার গ্রামের এই কৃষক। তাই রাগে দুঃখে সেই পেঁয়াজ বিক্রি না করে গ্রামের ডোবায় ফেলে দেন।

একই দিন বিকেলে উপজেলার জয়কাইল এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আলীর সংরক্ষণে থাকা পেঁয়াজ পচে যাওয়ায় বাড়ির পুকুরে ফেলে  দেন তা। তার ভাষ্য, সরকারি এয়ারফ্লো মেশিন ব্যবহারের পর পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না হওয়ায় প্রায় ৩৫০ মণ পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে যায়। পরে বাধ্য হয়ে তা পুকুরে ফেলা হয়। 

কৃষক আবুল মাতুব্বর বলেন, কৃষকের এ দুর্দশার কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না। আগামীতে ন্যায্য মূল্য না পেলে পেঁয়াজ চাষ থেকে সরে যেতে বাধ্য হবেন অনেক কৃষক।

ফরিদপুরের প্রধান অর্ধকরী ফসলই হচ্ছে পেঁয়াজ। জেলায়  বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আবাদ হয়ে থাকে সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে। প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। তবে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছে কৃষকরা।

কৃষকরা বলছেন, বর্তমানে প্রতিমণ পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি হচ্ছে  ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। অথচ উৎপাদন খরচই ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকা। সংরক্ষণ ব্যয় যোগ হলে পুরোপুরি লোকসান গুণতে হচ্ছে। তারা বলছেন, ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ থাকে মাত্র দুই-তিন ঘণ্টা। এই বিদ্যুৎ দিয়ে কোনোভাবেই পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়।

তাদের অভিযোগ, একদিকে বাজারে পেঁয়াজের ন্যায্য দাম নেই। অন্যদিকে সরকারিভাবে দেওয়া এয়ারফ্লো মেশিন অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না। বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও কারিগরি সমস্যার কারণে সংরক্ষিত পেঁয়াজ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই ক্ষোভে অনেক কৃষক  হাঁড়ভাঙা পরিশ্রমের পেঁয়াজ বস্তায় ভরে পানিতে ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার একাধিক কৃষক জানান, এবার নানা জাতের বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আবাদ হয়। তবে এর মধ্যে বেশিরভাগ হাইব্রিড জাতের। এই জাতের পেঁয়াজ কোনোভাবে ঘরে রাখা যাচ্ছে না। এমনকি সংরক্ষণের জন্য সরকারিভাবে যে ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়, সঠিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় সেখানেও পেঁয়াজ রাখা যাচ্ছে না। অতিরিক্ত গরম আর সংরক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে তা পচে যাচ্ছে। আর বাজারে পেঁয়াজের যে দাম, তাতে উৎপাদন খরচও ঘরে তুলতে পারছে না কৃষক।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, পেঁয়াজ সংরক্ষণে কৃষকদের সহায়তায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলায় ১৪৩০টি এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়। চলতি বছর বিতরণ করা হয়েছে ৭০০টি। আরো প্রায় আড়াই হাজার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সংরক্ষণ সুবিধা বাড়লে কৃষক কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হবে না।

রেললাইনে উঠে গেল ট্রাক, দুই ট্রেনের সূচি বিপর্যস্ত

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রেললাইনে উঠে গেল ট্রাক, দুই ট্রেনের সূচি বিপর্যস্ত
ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজবাড়ীর সদর উপজেলার বসন্তপুর রেলগেট এলাকায় জিপসামবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেললাইনের ওপর উঠায় অন্তত ছয় ঘণ্টা ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এতে খুলনা-ঢাকা রুটের নকশীকাঁথা এক্সপ্রেস এবং রাজবাড়ী-ভাঙ্গা রুটের রাজবাড়ী এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের অন্তত তিন ঘণ্টার বেশি বিলম্বে চলাচল করে।

সোমবার (২৯ জুন) ভোর ৪টার দিকে বসন্তপুর রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যশোরের নওয়াপাড়া থেকে জিপসামবোঝাই একটি ট্রাক মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। ভোরে বসন্তপুর রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেললাইনের ওপর উঠে যায়। এতে ওই রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দীর্ঘ প্রায় ছয় ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১০টার দিকে ট্রাকটি রেললাইন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার কারণে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী নকশীকাঁথা এক্সপ্রেস রাজবাড়ীর পাচুরিয়া স্টেশনে দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। একই সময়ে রাজবাড়ী থেকে ভাঙ্গার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকা রাজবাড়ী এক্সপ্রেসও রাজবাড়ী রেলস্টেশন থেকে নির্ধারিত সময়ে যাত্রা শুরু করতে পারেনি। পরে রেললাইন সচল হওয়ার পর নকশীকাঁথা এক্সপ্রেস প্রায় ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট এবং রাজবাড়ী এক্সপ্রেস প্রায় ৩ ঘণ্টা ১০ মিনিট বিলম্বে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটির চালকের সহকারী মো. সোহেল বলেন, ‘আমার ওস্তাদ (চালক) অসুস্থ বোধ করছিলেন। তখন তিনি আমাকে ট্রাক চালাতে বলেন। ট্রাক চালানোর সময় হঠাৎ আমার ঘুম চলে আসে। এতে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেললাইনের ওপর উঠে যায়।’

রাজবাড়ী রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. মাহবুব হাসান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। সকাল ১০টার দিকে ট্রাকটি রেললাইন থেকে সরানো সম্ভব হয়। এরপর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় দুটি ট্রেনের সময়সূচিতে উল্লেখযোগ্য বিলম্ব হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলে সড়ক সংস্কারে অনিয়ম, কাজ বন্ধ করে দিল এলাকাবাসী

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
শ্রীমঙ্গলে সড়ক সংস্কারে অনিয়ম, কাজ বন্ধ করে দিল এলাকাবাসী
ছবি : কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের হোসনাবাদ-বিলাসছড়া সড়ক সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উন্নতমানের উপকরণের পরিবর্তে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয়রা। একই সঙ্গে তারা এই দায়সারা কাজ বন্ধের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিডিউল অনুযায়ী উন্নতমানের ভিটি বালু, পাথর ও প্রথম শ্রেণির ইট ব্যবহারের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সানি এন্টারপ্রাইজ’ পুরনো ইটের খোয়া (রাবিশ) ও বালু ব্যবহার করছে।

ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ পদ্ধতি যেমন রোলার বা ভাইব্রেটর দিয়ে সঠিকভাবে কমপ্যাকশন না করা এবং রাস্তার পাশে গাইডওয়ালের ওপর ইট-পিলার ও বালু-সিমেন্টের বস্তা ব্যবহারের ফলে কাজ শুরুর আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রকৌশল (এলজিইডি) বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের যথাযথ তদারকির অভাবেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ পাচ্ছে।

উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের নাম- কালিঘাট-মনু-দলই সার্কুলার রোড সংস্কার। মোট বরাদ্দ ৪ কোটি ৫ লাখ ২২ হাজার ৮৪৬ টাকা। মেয়াদ ২০২৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সানি এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী মো. হাসানুজ্জামান দাবি করেন, দরপত্র অনুযায়ী সরকার তাদের কাছ থেকে ৭৫ লাখ টাকায় ‘সেলবেজ’ (পুরোনো ইট) কিনে নিয়েছে, যা তারা কাজে ব্যবহার করছেন।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল এলজিইডি উপ-সহকারী প্রকৌশলী সঞ্জয় পন্ডিত স্বীকার করেছেন যে, কাজে কিছুটা ‘উনিশ-বিশ’ হয়েছে এবং শতভাগ মান বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।
তবে এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাকিব জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি সরেজমিনে তদন্ত করবেন এবং নিম্নমানের সামগ্রী পাওয়া গেলে তা অপসারণের ব্যবস্থা নেবেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান জানান, তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এলাকাবাসীর তীব্র প্রতিবাদের মুখে বর্তমানে ওই সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ রয়েছে। চা শ্রমিকসহ ৭টি গ্রামের হাজারো মানুষের চলাচলের একমাত্র এই প্রধান সড়কটির টেকসই উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়রা চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক মানের নির্মাণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

মায়ের অভিযোগে মাদকসহ ছেলে গ্রেপ্তার, ৩ মাসের কারাদণ্ড

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
মায়ের অভিযোগে মাদকসহ ছেলে গ্রেপ্তার, ৩ মাসের কারাদণ্ড
ছবি: কালের কণ্ঠ

নাটোরের লালপুরে মাদকাসক্ত ছেলের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন এক মা। পরে পুলিশের অভিযানে মাদকসহ ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

সোমবার (২৯ জুন) উপজেলার ওয়ালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলামিন (২৩) দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তিনি প্রায়ই তার মায়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। একপর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে তার মা ওয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে ওয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল সোমবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে আলামিনকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরে তাকে লালপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।