• ই-পেপার

বরিশালে বাসার এসির ভেতর থেকে ৪টি সাপ উদ্ধার

নেত্রকোনা

আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অফিস ভাঙচুর

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অফিস ভাঙচুর
সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় আর্জেন্টিনা বনাম জর্ডান ম্যাচের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২৮ জুন) সকালে কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে এ ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে আর্জেন্টিনা বনাম জর্ডানের ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ না থাকায় উত্তেজিত ফুটবলপ্রেমীরা কেন্দুয়া বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর করে। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমেছিল। রবিবার সকালে আর্জেন্টিনা বনাম জর্ডানের ফুটবল ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় সেই ক্ষোভ আরো বেড়ে যায়। তাদের দাবি, এরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এক পর্যায়ে জোনাল অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) প্রকৌশলী মো. ফরিদ আহম্মেদ বলেন, সকালে আর্জেন্টিনা বনাম জর্ডানের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট চলার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক অফিসে ভাঙচুর করেছে। বিষয়টি মৌখিকভাবে থানায় জানানো হয়েছে। 

এজিএম বলেন, আমাদের যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। বরাদ্দ অনুযায়ীই গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। 

অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। 
 

দামুড়হুদা

ভৈরবের ভাঙনে সড়ক বিলীন

ঝুঁকিতে নদপারের বসতবাড়ি

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
ভৈরবের ভাঙনে সড়ক বিলীন
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হাতিভাঙ্গা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার সড়কের প্রায় ৩০ ফুট অংশ ভেঙে ভৈরব নদে বিলীন হয়েছে। শনিবার তোলা। কালের কণ্ঠ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ভৈরব নদে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে উপজেলার হাতিভাঙ্গা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) সড়কের প্রায় ৩০ ফুট অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে নদতীরবর্তী বাসিন্দাদের বসতবাড়ি। 

এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা মৌসুমে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করার আগেই জরুরি ভিত্তিতে সড়ক সংস্কার ও নদীতীর রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। অন্যথায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে একাধিক বসতবাড়ি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাতিভাঙ্গা গ্রামের একটি মহল্লার পানি দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়কের ওপর দিয়ে ভৈরব নদীতে প্রবাহিত হয়। এতে সড়কটির নিচের মাটি সরে যায় এবং এক পর্যায়ে তা  ধসে পড়ে। সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও নদীর পানির চাপ বাড়ায় পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়। এরই মধ্যে সড়কের প্রায় ৩০ ফুট অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে  এলাকাবাসী। 

নদতীরের বাসিন্দা শুকুর আলী বলেন, ৩০ লাখ টাকা খরচ করে বাড়ি নির্মাণ করেছি। সড়কের পাশে যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমার ঘরবাড়ি নদীতে চলে যাবে। এতে আমি পথে বসে যাব। একই কথা বলেন একই এলাকার বাসিন্দা মকবুল হোসেন। তারা বলেন, এখানে আরো দুইটি বাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পরিবার দুটি ভাঙনের আতঙ্কে রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কামরুল হাসান বলেন, সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা প্রয়োজন। তা না হলে আরো বড় অংশ ভেঙে যেতে পারে। তিনি জানান, নদ থেকে ১০০ গজ দূরে সড়কের পাশে আরো ৩০-৪০টি পরিবারের বসবাস। দ্রুত মেরামত করা না হলে পরিবারগুলো ঝুঁকিতে পড়বে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি। 

উপজেলা প্রকৌশলী খালিদ হাসান বলেন, সড়কটির বিষয়ে জানতে পেরেছি, দ্রুত পরিদর্শনে যাব। পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন আলম বলেন, ‘ভাঙনের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

গভীর রাতে নারীর বাড়িতে আটক ইমাম, সালিশে ১০ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
গভীর রাতে নারীর বাড়িতে আটক ইমাম, সালিশে ১০ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে
ছবি: কালের কণ্ঠ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার এক নারীর বাড়িতে গভীর রাতে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের হাতে আটক হন এক মসজিদের ইমাম। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ১০ লাখ টাকা কাবিন ধার্য করে ওই নারীর সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হয়।

শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের দেড়াগাঁতী মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেড়াগাঁতী মধ্যপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মো. সেলিমকে মৃত আল আমিনের স্ত্রী শানু বেগমের বাড়িতে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতা ভিড় করেন।

মো. সেলিম জানান, প্রায় দেড় মাস ধরে শানু বেগমের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। সেই সূত্রেই তিনি রাতে ওই বাড়িতে যান। 

শানু বেগম বলেন, তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি মো. সেলিমকে বিয়ে করতে আগ্রহী।

পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে উভয় পক্ষের সম্মতিতে ১০ লাখ টাকা কাবিন ধার্য করে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। বিয়ের পর মো. সেলিম নববধূকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

২ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
২ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ
ছবি: কালের কণ্ঠ

এক সময় যে সেতু দিয়ে প্রতিদিন নির্বিঘ্নে চলাচল করতেন হাজারো মানুষ, এখন সেখানে রয়েছে ভাঙা কাঠামো আর নড়বড়ে একটি অস্থায়ী কাঠের সেতু। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই সেতু পার হচ্ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও ছোট যানবাহনের চালকেরা। 

দুই বছর আগে নতুন সেতু নির্মাণ শুরু হলেও কাজের গতি এতটাই ধীর যে, মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নির্মাণকাজ এখনো অর্ধেকেই আটকে আছে। এতে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড়, আম্ফান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় নেহালপুর ইউনিয়নের হাজিরহাট বাজার ভায়া কুলটিয়া ইউপি সড়কের ‘বড় খাল’-এর ওপর ২০ মিটার দীর্ঘ একটি আরসিসি গার্ডার সেতু পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ২ কোটি ৭২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে কাজটি পান সাতক্ষীরার পলাশপোলের ঠিকাদার মো. ইকবাল জমাদার। ২০২৪ সালের ১ মে কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো সেতুর বেশির ভাগ অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। নতুন সেতুর দুই পাশে পিলার নির্মাণ করা হলেও মূল কাঠামোর কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। চলাচলের জন্য নির্মাণাধীন সেতুর পাশে কাঠের গুঁড়ি ও তক্তা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি অস্থায়ী সেতু। সময়ের সঙ্গে সেটিও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। 
পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে পার হচ্ছেন। আর ভ্যান, মোটরসাইকেল ও সাইকেল ঠেলে কিংবা টেনে পার করতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতার কারণে কাঠের সেতুটি পানির নিচে তলিয়ে গেলে এই সড়কে যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানায়, নেহালপুর-হাজিরহাট-কুলটিয়া সড়কটি এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন অন্তত ২০টি গ্রামের চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতায় সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

পদ্মনাথপুর গ্রামের ভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, দুই বছর ধরে একটু একটু করে কাজ হচ্ছে, কিন্তু শেষ হচ্ছে না। কাঠের সেতু দিয়ে ভ্যান পার করতে খুব কষ্ট হয়। এতে আয়ও কমে গেছে।

ডাঙ্গা মহিষদিয়া গ্রামের শ্রমিক আলমগীর হোসেন বলেন, শুকনো মৌসুমে কষ্ট করে চলাচল করা গেলেও বর্ষা এলে এই পথ প্রায় অচল হয়ে পড়ে। তখন দুর্ভোগের সীমা থাকে না।

পাঁচকাটিয়া গ্রামের ভ্যানচালক অজিত বিশ্বাস বলেন, যাত্রী নামিয়ে ভ্যান টেনে সেতু পার করতে হয়। প্রতিদিনই এই কষ্ট করতে হচ্ছে। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ হওয়া দরকার। 

হরিদাসকাটি গ্রামের কৃষক প্রণব বিশ্বাস বলেন, এই সড়কটি আমাদের সময় ও দূরত্ব দুটোই বাঁচায়। কিন্তু সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় দুই বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কবে যে এর শেষ হবে, জানি না।

মনিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, ভবদহ এলাকার দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে বছরে প্রায় ছয় মাস কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। বর্তমানে শাটারিং ও পুরোনো সেতুর অবশিষ্ট অংশ অপসারণের কাজ চলছে। এরপর স্লাব ঢালাই শুরু হবে। কাজের গতি বাড়ানো হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।

ফয়সাল আহমেদ আরো বলেন, মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে নির্মিত অস্থায়ী কাঠের সেতুটি নড়বড়ে হয়ে গেছে। ঠিকাদারকে এটি দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. ইকবাল জমাদার বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে পানি সেচে কাজ করতে হওয়ায় সময় বেশি লেগেছে। পুরোনো সেতু অপসারণের কাজ শেষ হলেই স্লাব ঢালাই শুরু হবে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে মূল কাজ শেষ করার আশা করছি। পাশাপাশি দুই দিনের মধ্যে অস্থায়ী কাঠের সেতুটিও মেরামত করা হবে।