• ই-পেপার

চৌদ্দগ্রামে পরপর তিন গাড়ির সংঘর্ষ, ট্রাকের হেলপার নিহত

বই আছে, পাঠক নেই

রকিব হাসান নয়ন, জামালপুর
বই আছে, পাঠক নেই

বিশাল হলরুম। সারি সারি আলমারির তাকজুড়ে গল্প-উপন্যাস, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন ধরনের বই। রয়েছে পর্যাপ্ত চেয়ার-টেবিল, আলো-বাতাস ও মনোরম পরিবেশ। তবে নেই শুধু পাঠকের কোলাহল। দিনে গড়ে ২৫ জনের বেশি পাঠকও আসেন না জামালপুর জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারে।

গ্রন্থাগার সূত্রে জানা গেছে, ‘শহরের কাচারিপাড়ায় ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় গ্রন্থাগারটি। প্রথম দিকে বিভিন্ন বয়সী পাঠক নিয়মিত বই পড়তে আসতেন। পাঠকদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত থাকত গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণ। বর্তমানে গ্রন্থাগারটিতে ৪৮ হাজার গ্রন্থ রয়েছে। এর মধ্যে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত তিন হাজার ৯টি গ্রন্থ আছে। বাংলা ভাষার নানা বিষয়ের ৪৫ হাজার গ্রন্থ রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিন জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্র পড়ার সুযোগ রয়েছে এখানে। শিশুদের জন্য রয়েছে আলাদা হলরুম। সেখানে পড়ার পাশাপাশি খেলাধুলারও ব্যবস্থা রয়েছে।’

1

সরেজমিনে দেখা যায়, কাঠের ফার্নিচার দিয়ে সাজানো পরিবেশ। চকচকে কাঠের চেয়ার-টেবিল, মেঝেজুড়ে টাইলস। রয়েছে পর্যাপ্ত আলো ও পাখা। তবে পাঠকের সংখ্যা নগণ্য। একসঙ্গে কখনো ১৫ জনের বেশি পাঠককে দেখা যায়নি গ্রন্থাগারে। উপস্থিত পাঠকদের বেশির ভাগ চাকরিপ্রার্থী। তারা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গ্রন্থাগারে আসেন। তবে গ্রন্থাগারে প্রতিদিনের পাঠকসংখ্যার খাতায় ৩৫ থেকে ৪০ জনের উপস্থিতির স্বাক্ষর রয়েছে।

গ্রন্থাগারে নিয়মিত পড়তে আসা হৃদয় হাসান নামের একজন বলেন, ‘প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ জন পড়তে আসেন। এখানে যারা পড়তে আসেন, তারা বেশির ভাগই চাকরির প্রস্তুতি নেন। তবে চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য গ্রন্থাগারে মানসম্মত বই নেই। বাসা থেকে বই নিয়ে এসে এখানে পড়তে হয়।’

সাব্বির নামের একজন বলেন, ‘এখানে পড়ার সব সুযোগ-সুবিধা থাকলেও পাঠক খুবই কম। পর্যাপ্ত বই থাকলেও চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য প্রয়োজনীয় বই নেই। এখন আর গল্প-উপন্যাস পড়ার জন্য কোনো পাঠক আসে না।’

2

কবি ও মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্ম অনেক বেশি অনলাইনে ব্যস্ত থাকে। তাই তারা বই পড়ায় সময় দিতে পারে না। গ্রন্থাগার ডিজিটালাইজেশন করে পাঠকের কাছে নিতে হবে। এ ছাড়া নতুন মানসম্মত বইয়ের পাশাপাশি পাঠক বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে দিনে দিনে পাঠক আরো কমে যাবে।’

এ বিষয়ে সিনিয়র লাইব্রেরিয়ান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আগের তুলনায় পাঠকসংখ্যা কমেছে।  প্রতিবছর নতুন নতুন বই সংগ্রহে যুক্ত হচ্ছে। পাঠকসংখ্যা বাড়াতে আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি।’

ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ জনে। 

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুদের প্রত্যেকের বয়স আট মাসের মধ্যে। 

শনিবার সকালে হাসপাতাল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার।

মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে দুই শিশু ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ফুলপুর উপজেলার বাসিন্দা। অপর দুই শিশুর একজন নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও অপর শিশু সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার বাসিন্দা। 

গত ১৭ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৩৭৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২ হাজার ২২৬ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১৬ শিশু। এ সময় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯ শিশু। হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৯৪ শিশু। 
 

মোংলা নদীতে ২৪ ঘণ্টা দুই ফেরি চলাচল উদ্বোধন

মোংলা প্রতিনিধি
মোংলা নদীতে ২৪ ঘণ্টা দুই ফেরি চলাচল উদ্বোধন

মোংলা নদীতে ২৪ ঘণ্টা ফেরি চলাচল উদ্বোধন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, মোংলা বন্দর, ইপিজেড ও শিল্পাঞ্চলের হাজারো কর্মজীবী মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ এবং নদী পারাপারে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।

শনিবার সকালে স্থায়ী বন্দর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ফেরিঘাটে ফুলটাইম ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৩ সালে মোংলা নদীতে ফেরি চলাচল শুরু হলেও এতদিন কেবল জোয়ারের সময় ফেরি চলত। ভাটার সময় ফেরি বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হতো। এখন থেকে দুটি ফেরি সার্বক্ষণিক চলাচল করবে।

তিনি বলেন, ফেরিঘাটে ভাড়ার তালিকা (চার্ট) দৃশ্যমানভাবে টানাতে হবে। ভাড়ার তালিকা না থাকলে যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দেবেন না। সরকার সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চায়।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন, মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আমরা রাজনীতি করতে চাই। এছাড়া সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা সমাজের পজিটিভের পাশাপাশি নেগেটিভ বিষয়েও তুলে ধরবেন, তাতে আমরা নিজেদের সুধরাতে পারবো।

তিনি আরো বলেন, ফুলটাইম ফেরি চলাচল শুরু হওয়ায় জয়মনির খাদ্যগুদাম থেকে পণ্য পরিবহন সুবিধা হবে। এছাড়া মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা ও রামপালের মানুষের যাতায়াতসহ কৃষিপণ্য পরিবহন সহজতর হবে। এর ফলে এ ফেরি সার্ভিসটি লাভজনক হয়ে উঠবে।

২৪ ঘণ্টা ফেরি চলাচলের এ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন–বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অনুপ দাস, বাগেরহাট সড়কনও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম প্রামানিক, মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মোংলা পোর্ট পৌরসভার প্রশাসক শারমিন আক্তার সুমি, মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি মো. জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আ. মান্নান হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির তালুকদার এবং গোলাম নুর জনি।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে মোংলা নদীতে ফেরি চলাচল শুরু হলেও এতদিন তা কেবল জোয়ারের সময় সীমিত আকারে পরিচালিত হতো। দীর্ঘ ২৩ বছর পর শনিবার সকাল থেকে দুটি ফেরি ২৪ ঘণ্টা চলাচল শুরু করল।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, মোংলা নদীর উপর ঝুলন্ত সেতু হবে। সেই সেতু না হওয়া পর্যন্ত এ নদীতে ফুলটাইম দুইটি ফেরি চলাচল করবে। এতে এখানকার মানুষের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

রামগতি

সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় ধান রোপণ করল এলাকাবাসী

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় ধান রোপণ করল এলাকাবাসী
সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দিশারী জামে মসজিদ থেকে তহসিলদার বাড়ি পর্যন্ত ‘মুক্তিযোদ্ধো সায়েদুলহক সড়ক’ নামের এক কিলোমিটার রাস্তাটি ২৬ বছরেও পাকা হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোনো সমাধান না পেয়ে কাদাযুক্ত রাস্তার ওপর ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন গ্রামবাসী। 

জানা যায়, ২০০০ সালে রামগতি পৌরসভা গঠিত হলে রাস্তাটি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে চলে যায়। এর আগে এটি রামগতি উপজেলার আওতাধীন ছিল। ১৯৯০ সালের দিকে রাস্তাটি প্রথমে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে চলাচলের জন্য নির্মাণ করেন। পরে এটি পৌরসভার রাস্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ২৬ বছরেও রাস্তাটি পাকা করণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জনপ্রতিনিধি আসছে আর গেছে, কিন্তু কেউই এ রাস্তার দিকে নজর না দেওয়ায় ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানান এলাকাবাসী।

তবে পৌরসভা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা সায়েদুলহক সড়কসহ মোট ৫টি রাস্তা নিয়ে একটি প্যাকেজ করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যায়ে প্যাকেজটি অনুমোদন হয়। বর্তমান ওই প্যাকেজের কাজটি চলমান রয়েছে। অল্পসময়ের মধ্যে ওই রাস্তা পাকা করার কাজ শুরু হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আলেকজান্ডার আ স ম আব্দুর রব সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক তৌহিদুল ইসলাম নয়ম বলেন, ‘যখন উপজেলার আওতাধীন ছিল, তখনও পাকা করার কোন উদ্যোগ নওয়া হয়নি। এর পর পৌরসভা গঠিত হলেও কেউ জনগুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটির দিকে নজর দেয়নি।’

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ভোগ লাঘবে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানিয়ে এলেও কাজ হয়নি। তাই রাস্তায় ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পৌরসভার রাস্তার এমন অবস্থা হলে গ্রামের রাস্তা কেমন হবে?  তা স্বচক্ষে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবেনা।’

এ বিষয়ে রামগতি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফখরুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘রাস্তাটি পাকা করণের জন্য বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে।’

রামগতি পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘টেন্ডারসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন কাজ শুরু হবে। দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বলা হবে।’

পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।’