নাটোরের লালপুর উপজেলায় আব্দুল হালিম নামের এক বিএনপি কর্মীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে উপজেলার জোতদৈবকি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী আব্দুল হালিম বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ও সাবেক ছাত্রদল নেতা।
অভিযোগে বলা হয়, ভোর প্রায় ৪টার দিকে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল আব্দুল হালিমের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় দক্ষিণ লালপুর গ্রামের সানাউল্লাহর ছেলে সাকলাইন নেতৃত্ব দেন এবং তাঁর সঙ্গে লোকমানের ছেলে মোহনসহ আরো কয়েকজন অংশ নেন।
অভিযুক্ত সাকলাইন ও তার পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
আব্দুল হালিম দাবি করেন, হামলাকারীরা তাঁর বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে নগদ ৩২ লাখ টাকা, প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৫৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। তিনি অভিযোগ করেন, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এতে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, থানা থেকে তাঁর বাড়ির দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার হলেও ৯৯৯ ও থানায় বারবার ফোন করার পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর ও লুটপাট চলার পর পুলিশ এসে তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে উদ্ধার করে।
আব্দুল হালিমের স্ত্রী মুন্নি বেগম অভিযোগ করেন, হামলার সময় সাকলাইন তাঁদের মেয়ের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আলমারির চাবি নিয়ে যান। পরে আলমারি থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে যান হামলাকারীরা। এ সময় পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সাকলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




