লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তার তিন মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এক যুবক গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার দেনায়েতপুর এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর পাড়ের একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নিহতরা হলেন শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। তাদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়। এছাড়া গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার (২৮)। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার কার্তিক মজুমদারের ছেলে এবং রায়পুরে ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে শাহীনুর বেগম সন্তানদের নিয়ে দেনায়েতপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। ২০১৯ সালে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলেন।
ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা শাহীনুর, তার মেয়ে সায়মা ও শিফাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে বিকেলে মারা যায় ইকরা। অন্যদিকে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে আহত অন্তর মজুমদারকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতার ছোড়া ইটপাটকেলে ৬ থেকে ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শাহীনুরের একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন স্থানীয় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, ঘটনার সময় সিফাত কর্মস্থলে ছিলেন। খবর পাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, অন্তর মজুমদার আগে ওই এলাকায় ভাড়া থাকতেন এবং প্রায় সাত-আট মাস আগে বাসা ছেড়ে চলে যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে তিনি ওই বাসায় প্রবেশ করেছিলেন। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে পাঁচজনকে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে চারজন নিহত হন এবং গুরুতর আহত একজনকে ঢাকায় পাঠানো হলে পরে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় উত্তেজিত জনতার হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।





