• ই-পেপার

দেবলছড়া সীমান্ত দিয়ে ৭ জনকে ঠেলে দিল বিএসএফ

কালনদীতে ডুবে প্রাণ গেল ৩ নারীর

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
কালনদীতে ডুবে প্রাণ গেল ৩ নারীর
প্রতীকী ছবি

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের ভাদুরীপাড়া গ্রামে পানিতে ডুবে তিন নারীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে কালনদী এলাকায় ঘটে।

নিহতরা হলেন- আকলিমা খাতুন (১৬), দুলালী খাতুন (২৩) ও সুরভী (১৩)। তাদের বাড়ি উপজেলার ১০ নম্বর হরিরামপুর ইউনিয়নের ভাদুরীপাড়া গ্রামে। আকলিমা খাতুন বিবাহিত ছিলেন এবং তিনি তৌহিদুল ইসলামের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, দুপুরের দিকে গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত কালনদীর একটি অংশে তিনজন পানিতে নামেন। একপর্যায়ে তারা গভীর পানিতে তলিয়ে যান। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নিলেও তাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হলে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এদিকে, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একই এলাকার তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার-পরিজন ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ঘটনাস্থলের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি আব্দুল ওয়াদুদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি নিয়ে আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ইউএনওর কাছে গাঁজা সেবনের টাকা চেয়ে আটক যুবক

অনলাইন ডেস্ক
ইউএনওর কাছে গাঁজা সেবনের টাকা চেয়ে আটক যুবক
সংগৃহীত ছবি

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে গাঁজা সেবনের জন্য টাকা চেয়ে এক নেশাগ্রস্ত যুবককে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বুধবার (২৪ জুন) রাতে নড়িয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনাটি ঘটে। দণ্ডপ্রাপ্ত যুবকের নাম বাবলু বেপারি (৩০)। তিনি নড়িয়া পৌরসভার শুভগ্রাম এলাকার নান্নু বেপারির ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় পরিদর্শনে বের হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল কাইয়ুম খান। এসময় হঠাৎ নেশাগ্রস্থ অবস্থায় বাবলু বেপারি তার কাছে গিয়ে গাঁজা সেবনের জন্য ১০০ টাকা চান। এসময় তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকেন। তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের সদস্যরা তাকে আটক করেন। পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বাবলু বেপারীকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

ইউএনও আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, ‘নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এক ব্যক্তি আমার কাছে এসে গাঁজা সেবনের জন্য টাকা দাবিসহ অসংলগ্ন আচরণ করেন। জনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।’

পরকীয়ার জেরে স্বামী হত্যা: স্ত্রীসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
পরকীয়ার জেরে স্বামী হত্যা: স্ত্রীসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুর আলোচিত মুকুল মল্লিক হত্যা মামলায় স্ত্রীসহ তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক গৌতম কুমার ঘোষ এ রায় ঘোষণা করেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—হরিণাকুণ্ডু উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত ছহিরুদ্দিনের মেয়ে ফিরোজা খাতুন, একই গ্রামের মিঠু মিয়ার ছেলে বিল্লাল হোসেন এবং মনোয়ার হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন। এর মধ্যে আলমগীর হোসেন পলাতক রয়েছেন।

খালাসপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন ফারুক হোসেন ও মাসুদ রানা।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল রাতে পারিবারিক কলহের পর চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাওকি গ্রামের আব্দুর রশিদ বিশ্বাসের ছেলে মুকুল মল্লিক নিখোঁজ হন। পরে ১৩ এপ্রিল হরিণাকুণ্ডু উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের বাঘমারা মাঠ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ বিশ্বাস বাদী হয়ে ওই দিনই হরিণাকুণ্ডু থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরকীয়াজনিত কারণে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে উল্লেখ করে ২০১৮ সালের ৬ জুন আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর দুই আসামিকে খালাস দেন।

রায়ে আদালত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পূর্বে ভোগ করা হাজতবাসের সময় সাজা ভোগের মেয়াদের সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে খালাসপ্রাপ্ত আসামিদের জামিননামার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পলাতক আসামি আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিয়ের ৬ দিনের মাথায় গৃহবধূর আত্মহত্যা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিয়ের ৬ দিনের মাথায় গৃহবধূর আত্মহত্যা
প্রতীকী ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিয়ের ৬ দিনের মাথায় ফারহানা আসিক কলি (২৬) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (২৪ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বাবার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মৃত কলি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের টিকরামপুর মহল্লার ইউনুস শিকদার রিপনের স্ত্রী এবং একই মহল্লার সাইদুর রহমানের মেয়ে।  

পরিবারের বরাতে পুলিশ জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কলি বাবার বাড়িতে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একরামুল হোসাইন বলেন, মাত্র ৬ দিন আগে (১৯ জুন) বিয়ের পর রিপন কলিকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে ঢাকায় চলে যান। এর মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।

ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কলি আত্মহত্যা করেছেন। তবে এর কারণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। 

একরামুল হোসাইন জানান, ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।