পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি এলাকায় পাপিয়া খাতুন (৩৪) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্বামী হুমায়ুন কবির সরদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে দোগাছি এলাকার বিল্ডিং বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত পাপিয়া খাতুন একই এলাকার আব্দুর রশিদ শেখের মেয়ে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী ছিলেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৪ বছর আগে পারিবারিকভাবে পাপিয়ার সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের বিয়ে হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। গত কোরবানির ঈদের আগে ছুটিতে দেশে ফেরেন তিনি।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি হুমায়ুন কবির অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। মঙ্গলবারও তাদের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাতেও তাদের বাসা থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন প্রতিবেশী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাপিয়াকে বাড়ির ছাদে কাপড় শুকাতে দেখা যায়। এরপর দীর্ঘ সময় তার কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে শয়নকক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের চাচা আসলাম হোসেন অভিযোগ করেন, পাপিয়া নিয়মিত নামাজ পড়তেন এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতেন। তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন বলে তাদের বিশ্বাস হয় না। এ ছাড়া মরদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান পরিবারের সদস্যরা।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কিছু বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য ছিল।
পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, ঘরের ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তের স্বার্থে স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।