• ই-পেপার

মাদক ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে গোপালগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ

ফেনীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২

ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২
সংগৃহীত ছবি

ফেনী সদর উপজেলাধীন মোহাম্মদ আলী বাজারস্থ ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন এবং ১ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বুধবার (২৪ জুন) বেলা ১১টার সময় মহিপাল হাইওয়ে থানার আওতাধীন স্টার লাইন পাম্প সংলগ্ন খোরশেদ আলম সওদাগরের বাড়ির সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী একটি দ্রুতগতির মাঝারি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের বাম পাশে থাকা একটি কড়ই গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। ধাক্কার তীব্রতায় গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। একই সময় সড়কে থাকা একটি ভ্যানগাড়ি ও পথচারীও এই দুর্ঘটনার শিকার হন। পরে স্থানীয়রা তিনজনকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করলে সেখানে কতব্যরত ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতরা হলেন- আহসানুল ইসলাম (১৫)। তিনি দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটির হেলপার ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের ভূজপুর থানার সিকদার খিল গ্রামের মো. সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। নিহত অপরজন হলেন- মির হোসেন (৪৫)। তিনি একজন পথচারী ছিলেন। তিনি ফেনী সদর থানার মধ্যম কাছাড় এলাকার ছন্দু মিয়ার ছেলে।

এছাড়া এই ঘটনায় মো. সুমন (৪৫) নামে একজন ভ্যানচালক পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি ফেনী সদর উপজেলার কাছাড় এলাকার মো. মোস্তফার ছেলে। তিনি বর্তমানে সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকের চালক কৌশলে পালিয়ে যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মহিপাল হাইওয়ে থানার ওসি আছাদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার কবলে পড়া গাড়িগুলো মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে এবং গাড়িটি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। নিহতদের মরদেহ ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এই বিষয়ে একটি আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পুলিশের কাছ থেকে আ. লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৮

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
পুলিশের কাছ থেকে আ. লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৮
সংগৃহীত ছবি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌরসভার সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজুকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে কালীগঞ্জ থানার এসআই মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বিজুকে প্রধান আসামি করে মামলাটি করেন। মামলার পর মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার সকালে শহরের আড়পাড়া এলাকার নিজ বাড়ির নিচতলায় দলীয় অফিসে বসেছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বিজু। সে সময় তার সঙ্গে অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা, আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল করার পরিকল্পনা করছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মোস্তাফিজুর রহমান বিজুকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী পুলিশের কাছ থেকে বিজুকে ছিনিয়ে নেয়।  

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেল্লাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত চলছে।  
 

সুনামগঞ্জ

চেক ডিজঅনার মামলায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ৫ মাসের কারাদণ্ড

জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
চেক ডিজঅনার মামলায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ৫ মাসের কারাদণ্ড

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে চেক ডিজঅনার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. তদবির আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের গনিনগর ষোলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং জামালগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত একটি মামলায় আদালত মো. তদবির আলমকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। ওই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে গত সোমবার রাতে তাকে গ্রেফতার করে জামালগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তদবির আলম এর আগেও বিভিন্ন কারণে আলোচনায় ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার এমপিও (মান্থলি পে-অর্ডার) সুবিধা স্থগিত রাখে বলে জানা গেছে।

‎জামালগঞ্জ থানার ওসি মো. বন্দে আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘চেক সংক্রান্ত একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাকে পাঁচ মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে।’

৩ দিনেই উঠে গেল নতুন সড়কের পিচ, কাজ বন্ধ করে দিল এলাকাবাসী

অনলাইন ডেস্ক
৩ দিনেই উঠে গেল নতুন সড়কের পিচ, কাজ বন্ধ করে দিল এলাকাবাসী

নির্মাণের মাত্র তিন দিনের মাথায় নতুন সড়কের পিচ উঠে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও একটু টানেই পিচের আস্তরণ উঠে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে রাস্তার সংস্কারকাজ বন্ধ করে দেন।

ঘটনাটি ঘটে খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া-রোনবাগ সড়কে।

নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ না করায় নির্মাণের কয়েকদিনের এ মাথায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাদারবাড়িয়া-রোনবাগ সড়কটির প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা জুড়ে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় হাতের টানেই পিচের আস্তরণ উঠে আসছে। এ সময় সড়কের ওপর একটি রোলার গাড়ি দেখা গেলেও সেখানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মীর দেখা পাওয়া যায়নি।

এদিকে সড়কের মাঝামাঝি অংশে নতুন একটি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও তার পাশেই পুরনো একটি কালভার্ট ভঙ্গুর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া প্রকল্প এলাকায় কোনো তথ্যফলক বা সাইনবোর্ডও দেখা যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, পুরনো কালভার্ট না ভেঙ্গে তার ওপর দিয়েই পিচ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কয়েক দিন ধরে সড়কে পিচ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। তিন দিন আগে দেওয়া পিচের বিভিন্ন অংশ উঠে যেতে শুরু করলে আজ বাকি অংশে পিচ ঢালাইয়ের সময় এলাকাবাসী বাধা দেন।

মহারাজপুর ইউনিয়নের সদস্য জামাল ফারুক বলেন, রাস্তার ওপর খুবই পাতলা করে পিচ দেওয়া হয়েছে। পিচের নিচের অংশ পরিষ্কার না করেই ধুলাবালি ও মাটির ওপর ঢালাই দেওয়া হয়েছে। তিন দিন আগে দেওয়া পিচ এখন হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে। আজ (মঙ্গলবার) আবার ধুলাবালির ওপর পিচ দেওয়া শুরু হলে এলাকাবাসী বাধা দেন।

সড়কের পাশের একটি বাড়ির বাসিন্দা মো. শহিদুল বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশে রাস্তা, তারপর খাল। খালের পাড়ঘেঁষা অংশটা অনেক নিচু। সেখানে আজ পিচ দেওয়ার পর রোলার চালাতেই ফাটল ধরেছে। এভাবে কাজ হলে বর্ষার সময় সড়কের ওই অংশ ধসে পড়বে।’

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাদারবাড়িয়া উত্তর সীমানা থেকে রোনবাগ সড়কের এক কিলোমিটার উন্নয়ন, একটি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ ও বেদকাশী এলাকার প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নকাজ একই প্যাকেজের আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২ কোটি ৬৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকার কাজটি পায়। কাজের মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজের দায়িত্বে থাকা মো. হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এলজিইডির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। আমাদের কাজে বড় ধরনের কোনো ত্রুটি নেই। রাস্তার ওপরের অংশ কিছুটা উঠে যাওয়াকে অনেকেই সমস্যা ভাবছেন। কিন্তু এটি কাজের একটি ধাপ। প্রথমে লেভেলিং করা হয়, পরে সিল কোট দেওয়া হয়। এখনো আরো এক দফা পিচ দেওয়া হবে। তখন রাস্তা মজবুত হবে। মূলত ভুল-বোঝাবুঝি থেকেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’

কয়রা উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, বিটুমিন ঢালাইয়ের পর রাস্তা পুরোপুরি মজবুত হতে অন্তত সাত দিন সময় প্রয়োজন। তবে কাজে প্রাইম কোট না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ জন্য পুরনো প্রাইম কোটের ওপর কার্পেটিং না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিটুমিন দেওয়ার পরও ঢালাই উঠে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।