কৃষির উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশি অর্থায়ন ও বিদেশি ঋণে পরিচালিত হচ্ছে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প, যার ব্যয় প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, খাদ্যশস্য উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনা, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো, কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি করা ও উন্নয়ন এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
বর্তমান সরকার বেশ গুরুত্ব দিয়েই এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে রূপরেখা অনুযায়ী বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ২০২৮-এর জুন নাগাদ।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নকে মোট পাঁচটি বিষয়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, নতুন আবাদযোগ্য জমির ঘাটতি ও কৃষি জমির পরিমাণ কমে যাওয়া। এছাড়া রয়েছে, উত্তম কৃষি চর্চায় প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন এর প্রত্যয়ন কার্যক্রম আরম্ভ করা, উত্তম কৃষি চর্চায় প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান না থাকা, ফিজিক্যাল কার্ডের পরিবর্তে ভার্চ্যুয়াল কার্ড সংক্রান্ত ক্রয় প্যাকেজ পুন:নির্ধারিণের জন্য ডিপিপি সংশোধন, ল্যাবরেটরিতে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের অভাব।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারপ্রেনরশিপ এন্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রোগ্রামের আওতায় ‘পার্টনার কংগ্রেস’ এ এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলা হলরুমে সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ পার্টনার কংগ্রেস আয়োজন করে।
সদর উপজেলা কৃষি অফিসার শাহানা বেগমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মুনসী তোফায়েল হোসেন, সদর উপজেলা সমবায় অফিসার আজিজুল হক, সদর উপজেলা বিআরডিবির চোয়ারম্যান আলী আজ্জম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন। অনুষ্ঠানে পার্টনার নানা তথ্য উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত কৃষি অফিসার সালমা সুলতানা।
জেলার আখাউড়া উপজেলাতেও মঙ্গলবার দুপুরে পার্টনার কংগ্রেস আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাপসী রাবেয়ার সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপ-পরিচালক মো. মোস্তফা এমরান হোসে। আয়ে এ বিষয়ে নানা তথ্য উত্থাপন করা হয়। প্রকল্পের আওতাধীন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সারাদেশেই একইভাবে পার্টনার কংগ্রেসের আয়োজন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। ওই বছরের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিবে প্রায় ১১৫ কোটি টাকা ও বাকি প্রায় ৫৭৫ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ থেকে ব্যয় করা হবে। আটটি বিভাগ, ১৪টি কৃষি সম্প্রসারণ অঞ্চলের ৪৯৫টি উপজেলাকে প্রকল্প এলাকার আওতায় আনা হয়েছে।
সূত্র জানায়, এ প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা হলো- উত্তম কৃষি চর্চা প্রত্যয়নসহ ফল ও সবজি আবাদী জমির পরিমাণ বৃদ্ধি করা, উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনসহ আবাদ জমির পরিমাণ বৃদ্ধি করা, দানাদার শষ্য (ধান ব্যতীত) ডাল ফসল, তেলবীজ ও উদ্যান ফসলের জাত উদ্ভাবনসহ আবাদী জমির পরিমাণ বাড়ানো, উন্নত ও দক্ষ সেচ প্রযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন আবাদী জমি সেচের আওতায় আনা, কৃষি স্মার্ট কার্ড এর মাধ্যমে কৃষি পরিসেবা দিয়ে ডিজিটাল কৃষিসেবা সম্প্রসারণসহ আরো কিছু বিষয়। ইতিমধ্যেই উত্তম কৃষি চর্চায় লক্ষ্যমাত্রার ১০ লাখের মধ্যে দুই লাখ কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ২৮ হাজার ৫৯৫টি কৃষি স্কুলের মধ্যে ১৪ হাজার বাস্তবায়িত হয়েছে। ১০টি ল্যাবরেটরি অ্যাক্রিডিটেশন এর মধ্যে দু’টির বাস্তবায়ন হয়েছে। কৃষক স্মার্ট কার্ড পলিসি২০২৫ এর খসড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এক লাখ হেক্টর জমিতে উন্নত ও দক্ষ সেচ প্রযুক্তির সম্প্রসারণের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সাত হাজার ৩৮ হেক্টরে পূরণ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্র দুই লাখ হেক্টরের মধ্যে ১.৬ লাখ হেক্টর জমিতে নতুন জাত প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ৯০৫০ মেট্রিক টন ধানবীজ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৯৮২ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। এছাড়াও আরো কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়নের তথ্য পার্টনার কংগ্রেসে তুলে ধরা হয়।




