• ই-পেপার

রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগের ১৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

‘কলেজের জমি-ভবন বিক্রি করা অধ্যক্ষের’ সঙ্গে হঠাৎ সমঝোতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
‘কলেজের জমি-ভবন বিক্রি করা অধ্যক্ষের’ সঙ্গে হঠাৎ সমঝোতা

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ফজলুল হক চৌধুরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হোছেন আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে কলেজের জমি ও ভবন বিক্রির অভিযোগ করেন একই কলেজের শিক্ষকরা। 

গত মে মাসে করা ওই অভিযোগের ব্যাপারে শুক্রবার (১৯ জুন) বিরোধপূর্ণ অবস্থান থেকে হঠাৎ দুই পক্ষের মধ্যে ‘সমঝোতা’ হয়েছে বলে জানা গেছে। 

স্থানীয়রা মনে করছে, দুই পক্ষের সমঝোতায় মোটা অংকের টাকার লেনদেন হয়েছে। তাদের অভিযোগ,  কয়েকজন প্রভাবশালীর মধ্যস্থতায় অধ্যক্ষ হোছেন আলী চৌধুরী আন্দোলনরত শিক্ষকদের মোটা অংকের টাকা দিয়েছেন। শর্ত হচ্ছে, তার (অধ্যক্ষ) বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দেওয়া দুর্নীতির অভিযোগের  বিষয়ে শিক্ষকরা আর কোনো কথা বলবেন না। পাশাপাশি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় বরখাস্ত করা দুই শিক্ষককে পুনর্বহাল করা হবে। 

তারাকান্দা উপজেলা সদরের একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘টাকা লেনদেনের বিষয়ে জানা গেছে, অধ্যক্ষ ১০ লাখ টাকা আন্দোলকারী শিক্ষকদের দেবেন। গত শুক্রবার রাতে এ বিষয়ে অধ্যক্ষ ও একাধিক শিক্ষকের মধ্যে মৌখিক সমঝোতা হয় বলে জানা যায়।’

কলেজের একাধিক শিক্ষক, স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তারাকান্দা উপজেলায় অবস্থিত ফজলুল হক চৌধুরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হোছেন আলী চৌধুরী গোপনে কলেজের জমি ও তিনতলা ভবন বিক্রি করে দিয়েছেন। বিষয়টি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। 
হোছেন আলী চৌধুরী নিজের বাবার নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন ২০০৯ সালে। পরে এমপিওভুক্তির শর্ত পূরণ করতে নিজের মায়ের কাছ থেকে তারাকান্দা উপজেলা সদরে কলেজের নামে জমি লিখে নেন। কিন্তু এর আগে হোছেন আলী কলেজের জমিটি নিজের নামেও মায়ের কাছ থেকে লিখে নেন। জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি একই জমি কলেজ ও নিজের নামে লিখে নেন মায়ের কাছ থেকে। 

পরে ২০২২ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হলে ২০২৪ সালে হোছেন আলী কলেজের জমি কোটি টাকায় অন্যের কাছে বিক্রি করে দেন। পরে উপজেলা সদর থেকে কিছুটা দূরে মধুপুর গ্রামে কলেজের জন্য অন্য একটি জমি কিনে সেখানে টিনশেড ভবন নির্মাণ করে কলেজের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ক্রেতার পক্ষ থেকে লোক পাঠিয়ে কলেজটির জমি দখলের প্রক্রিয়া শুরু হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। বিষয়টি তখন এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর প্রতিবাদে কলেজের শিক্ষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন।

এদিকে, শিক্ষকদের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে কলেজের প্রভাষক হান্নান তালুকদার ও কামরুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়। এতে শিক্ষকদের প্রতিবাদ কর্মসূচি আরো জোরালো হয়। মে মাসে কলেজটির শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি বিক্রি, কলেজ তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেন।

শিক্ষকরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গত ২৩ ফেব্রæয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেন কলেজের শিক্ষকরা। পরে গত ১৯ মে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক বরাবর এসব বিষয়ে অভিযোগ করেন।

অধ্যক্ষের সঙ্গে শিক্ষকদের বিরোধপূর্ণ অবস্থানের পর অধ্যক্ষের সঙ্গে শিক্ষকদের ‘ভুল বোঝাবুঝির’ অবসান হয়েছে- গত শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন খবর প্রচারিত হয়। ওই খবরের সঙ্গে একটি ছবিও প্রকাশিত হয়। 

ছবিতে দেখা যায়, প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে  স্থায়ীভাবে বরখান্ত শিক্ষক হান্নান অধ্যক্ষকে মিষ্টি খাইয়ে দিচ্ছেন। ছবিটি প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিষয়টি ফের আলোচনার জন্ম দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, এ সমোঝতার জন্য অধ্যক্ষ মোটা অংকের টাকা দিয়েছেন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষকদের।

ফজলুল হক চৌধুরী মহিলা কলেজের প্রভাষক হান্নান তালুকদার বলেন, কলেজের স্বার্থে অধ্যক্ষের সঙ্গে এক ধরনের সমঝোতা হয়েছে। তবে সেজন্য কোনো টাকা লেনদেন হয়নি।

কলেজের জমি বিক্রির অভিযোগ বিষয়ে মাউশির ময়মনসিংহ অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোজ্জামেল হক বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কলেজের জমি ও ভবন বিক্রি করা যায় না। এ বিষয়ে ফজলুল হক চৌধুরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেননি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ হোছেন আলী চৌধুরী সোমবার মোবাইল ফোনে বলেন, ‘কলেজের জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।’ সমঝোতার জন্য টাকা লেনদেনের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। স্থায়ীভাবে বরখাস্ত হওয়া দুই শিক্ষককে পুনর্বহাল প্রসঙ্গে বলেন, ‘কলেজ কমিটি তাদের বরখাস্ত করেছে। তবে শিক্ষা বোর্ড এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।’

মেঘনায় লঞ্চ বিকল, ৯৯৯-এ ফোনকলে ৮০ যাত্রী উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
মেঘনায় লঞ্চ বিকল, ৯৯৯-এ ফোনকলে ৮০ যাত্রী উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

মুন্সীগঞ্জে মেঘনা নদীর ষোলআনি এলাকায় নারী-শিশুসহ ৮০ যাত্রী নিয়ে একটি লঞ্চ বিকল হয়ে যায়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করলে গজারিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করা হয়। সোমবার (২২ জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

জাতীয় জরুরি সেবার গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ার সাত্তারের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার বিকেলে মেঘনা নদী থেকে ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ নম্বরে সেলিম হোসেন নামে একজন লঞ্চযাত্রী ফোন করেন। তিনি জানান, মকবুল-২ নামে একটি ছোট লঞ্চযোগে তারা চাঁদপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ ফিরছিলেন। পথিমধ্যে মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীর ষোলআনি এলাকায় তাদের লঞ্চটি বিকল হয়ে যায়। এ সময় তিনি দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, জাতীয় জরুরি সেবা থেকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়িতে  জানানো হয়। সংবাদ পেয়ে গজারিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থল মেঘনা নদীর ষোলআনিতে উপস্থিত হয়ে চাঁদপুর থেকে নারায়ণঞ্জগামী এমডি আল-মাহবুব নামের অন্য একটি লঞ্চ থামিয়ে বিকল লঞ্চের যাত্রীদের তুলে দেয়।

হাতকড়া পরে মায়ের জানাজায় আ. লীগ নেতা

অনলাইন ডেস্ক
হাতকড়া পরে মায়ের জানাজায় আ. লীগ নেতা
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের পটিয়ায় কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা আইয়ুব বাবুল। সোমবার রাত ৯টায় পটিয়া পৌর সদরের আদালত জামে মসজিদ চত্বরে অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশ নেন তিনি। জানাজা শেষে পটিয়া পৌর সদরে পারিবারিক কবরস্থানে তার মায়ের মরদেহ দাফন হয়।

আইয়ুব বাবুল পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে বাবুলের মা আমজুমান আরা বেগম (৮০) মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। পৌর সদরের ওয়াদপা রোড এলাকায় তাদের বাড়ি। মায়ের মৃত্যুর পর আইয়ুব বাবুলকে প্যারোলে মুক্তি দিতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইয়ুব বাবুলকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। মায়ের জানাজা ও দাফন শেষে তাকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

জানাজার নামাজে অংশ নেওয়া সমবেতদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব বাবুল বলেন, ‘আপনারা আমার মায়ের জানাজায় এসেছেন আমি খুবই কৃতজ্ঞ। আমি মায়ের সেবা করতে পারি নাই। এটা হচ্ছে আমার বড় দুঃখ। সরকারি প্রটোকলে আমি আসছি। কেউ কোনো স্লোগান ইত্যাদি দেওয়ার প্রয়োজন নাই। যেহেতু দেরি হয়ে গেছে, আমি সবার কাছে মাফ চাইছি।’

পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক বলেন, ‘কয়েক ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব বাবুল মায়ের জানাজায় অংশ নেন। এ সময় নিয়ম অনুসারে পুলিশ পাহারা ছিল। তার হাতে হাতকড়া ছিল। পরে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। আইয়ুব বাবুলের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৬টি মামলা আছে। ২০২৫ সালে ২৯ এপ্রিল থেকে তিনি কারাগারে আছেন।’

রংপুরের গঙ্গাচড়া

তিস্তা সেতুরক্ষা বাঁধে ভাঙন অব্যাহত

তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি

নজরুল ইসলাম রাজু,রংপুর
তিস্তা সেতুরক্ষা বাঁধে ভাঙন অব্যাহত
রংপুরের গঙ্গাচড়ার মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধের ভাঙনকবলিত স্থান। সোমবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও তিস্তা নদীতে পানি বাড়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুরক্ষা বাঁধে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তীব্র স্রোতে এলজিইডির ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁশের পাইলিং ভেঙে যাওয়ায় সেতু ও রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক হুমকিতে পড়েছে। 

পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের তিন গ্রামের এক হাজারের বেশি পরিবার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। 

এদিকে, দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুরক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন ও ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা বাঁশের পাইলিং (স্পার) ধসে পড়ার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানায়, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর  প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে। একই সঙ্গে ঢাকা থেকে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে।

জানা গেছে, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারি বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ বেড়েছে। এতে সেতুরক্ষায় নির্মাণ করা  বাঁশের পাইলিং ভেঙে গেছে। এর প্রভাবে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর উত্তর-পশ্চিম অংশের রক্ষা বাঁধেও বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের ফলে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু ও  রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়কও হুমকির মুখে পড়েছে।

সূত্র জানায়, গত শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা থেকে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ে। এতে মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধে ভাঙন শুরু হয়। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ মিটারের বেশি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং সেখানে প্রায় ৬০ ফুট গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গতবছর নদীভাঙনে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর রক্ষা বাঁধের ১০০ মিটারেরও বেশি অংশ নদীগর্ভে চলে যায়। ভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করা হয়। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার ছয় মাস না যেতেই চলতি মৌসুমের প্রথম বড় ঢলেই সেটি ধসে পড়ে।

ভাঙনে রক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। সেখানে প্রায় ৬০ ফুট গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, ‘ভাঙনের শুরুতেই দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা হলে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতো না। দুই-এক লাখ টাকার জরুরি কাজেই ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো বরাদ্দ না আসায় ভাঙন বাড়তে থাকে।’ তিনি বলেন, ‘গত বছর থেকেই বরাদ্দের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।’

ইউপি চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘বুয়েটের এক বিশেষজ্ঞের পরামর্শে বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি প্রথম বড় পানির চাপই সহ্য করতে পারেনি। ফলে ১৪ লাখ টাকার কাজ কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে।’

এলজিইডির গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘গত বছর ভাঙন শুরু হলে বিষয়টি আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের নদীভাঙন মোকাবেলায় অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতার কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বুয়েটের একজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীর পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করা হয়। তবে এবার পানিপ্রবাহ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সেটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।’

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ‘ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘ভাঙনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কারণ এটি শুধু একটি বাঁধের ক্ষতি নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও আঞ্চলিক সড়কের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। এ কারণে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।’

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আহসান হাবিব বলেন, ‘তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ ও ভাঙন পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য টেকসই নদীশাসন ব্যবস্থার বিকল্প নেই।’