• ই-পেপার

মাগুরা

গাঁজা সেবনকারীকে আটকের ঘটনায় ২ গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, ৬ জন জেলহাজতে

পঞ্চগড়ে ১৬৫টি কারেন্ট জাল জব্দের পর পুড়িয়ে ধ্বংস

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ে ১৬৫টি কারেন্ট জাল জব্দের পর পুড়িয়ে ধ্বংস
ছবি : কালের কণ্ঠ

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিনটি দোকান থেকে ১৬৫টি অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে এসব জাল জনসম্মুখে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

সোমবার (২২ জুন) বিকেলে উপজেলার টুনিরহাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জব্দ করা জালগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অভিযানকালে অবৈধ কারেন্ট জাল বিক্রির দায়ে টুনিরহাট বাজারের দোকানদার মাহবুব আলমকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্য দুই দোকানের মালিক অভিযান চলাকালে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের দোকানে থাকা জাল জব্দ করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ আলী। এ সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হিমেল চন্দ্র রায় ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হিমেল চন্দ্র রায় বলেন, ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জব্দ করা কারেন্ট জালগুলো পরে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।’

ঈশ্বরদীতে বিএসআরআই ২ দিনের গবেষণা সম্প্রসারণ কর্মশালার উদ্বোধন

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
ঈশ্বরদীতে বিএসআরআই ২ দিনের গবেষণা সম্প্রসারণ কর্মশালার উদ্বোধন
ছবি : কালের কণ্ঠ

পাবনার ঈশ্বরদীস্থ বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএসআরআই) আয়োজনে দুই দিনের কর্মশালা উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রথম দিনে অতিথিদের বক্তব্যে উঠে এসেছে প্রতিষ্ঠানটির আখসহ মিষ্টি জাতীয় খাদ্যপণ্যের উৎপাদন গবেষণার উজ্জ্বল সম্ভাবনা। এর সঙ্গে উঠে এসেছে বিএসআরআই প্রতিষ্ঠানটি নানামুখী সমস্যার কথা। গবেষণায় বৈজ্ঞানিকদের পদন্নোতি, শূন্যতা, পরিবেশ পরিস্থিতি অনুসারে আখের নতুন জাত উদ্ভাবন না হওয়া, মাঠ পর্যায়ে কৃষিবিদ না থাকা, একই ক্যাটাগরিতে কৃষকদের ভুর্তকি প্রদান, আখের জীবনকাল আরো কমিয়ে এনে অন্যান্য ফসলের চাষ করে কৃষকদের লাভবান করানো উদ্যোগ না নেওয়াসহ গবেষণার ফলাফল সেমিনারে উপস্থাপনা না করার সমস্যাতেও জর্জরিত দেশে আখের উৎপাদন গবেষণার এই বিএসআরআই প্রতিষ্ঠানটি।

আজ সোমবার (২২ জুন) সকালে প্রতিষ্ঠানের এএসএম কামাল উদ্দিন মিলনায়তনে এ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা এসব সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বক্তরা।

গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি, উন্নত জাত, চাষাবাদ কৌশলকে মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ কার্যক্রমের সঙ্গে আরো কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করে প্রযুক্তি হস্তান্তর কার্যক্রম গতিশীল করাই এ কর্মশালার অন্যতম লক্ষ্য বলে কর্মশালার শুরুতে জানানো হয়।

উদ্বোধনী কর্মশালার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এগ্রিকালচারাল ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগ ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক এ এস এম গোলাম হাফিজ।

তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত বৈজ্ঞানিকদের মামলাসহ নানা জটিলতার কারণে পদন্নোতি হয়নি। শূন্য রয়েছে বৈজ্ঞানিকদের পদ। এই কারণে বৈজ্ঞানিকরা মনোযোগসহ গবেষণামূলক কাজ করতে পারছেন না। এই কারণে প্রতিষ্ঠান নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। কিন্তু বিএসআরআই প্রতিষ্ঠানটিতে সুপার ফুড/ ব্রেইন ফুড তথা মিষ্টি চিনি জাতীয় পণ্য উৎপাদন ও গবেষণার রয়েছে উজ্জ্বল সম্ভাবনা। এই জন্য নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত সভা-সেমিনার করা, মাঠে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত থাকা চাষিদের সমস্যাগুলো চিহিৃত করে দ্রুত সমাধান করার বিকল্প নেই।’

বিএসআরআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. কবির উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএসফআইসি) যুগ্ম সচিব এবং পরিচালক (ইক্ষু উন্নয়ন ও গবেষণা) ড. আব্দুল আলীম খান বলেন, ‘বিগত তিন বছর ধরে বিএসআরআই আখের কোন নতুন জাতের আখ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। চাষীর নিকট নতুন জাতের আখের চাহিদা রয়েছে, কিন্তু আমরা তা দিতে পারছি না। আখের জীবনকাল আরো কমিয়ে অন্যান্য ফসলের সঙ্গে চাষ করার ব্যবস্থা করে চাষীদের লাভ না করাতে হবে। আখের চাষ কমিয়ে যাওয়ার পেছনে এটি প্রধান একটি কারণ।’

কর্মশালার বিএসআরআই-এর পরিচিতি ও গবেষণা সাফল্য উপস্থাপন করে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটিতে ৩৫ টি বৈজ্ঞানিক পদ শুন্য রয়েছে। ১৫ টি মুখ্য বৈজ্ঞানিক পদে পদন্নোতি হয়নি। যার ফলে বৈজ্ঞানিক শুন্যতার কারণে অনেক বিষয়ে গবেষণা হচ্ছে না।’

বর্তমান প্রেক্ষাপটে মিল এলাকায় ইক্ষু চাষ বিষয়ক প্রযুক্তি বিস্তারের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং প্রণীতব্য অগ্রাধিকারভিত্তিক গবেষণা নিয়ে আলোচনায় করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের প্রতিনিধি ড. মো. ইউসুফ আলী।

নন-মিল জোনে ইক্ষু ও অন্যান্য সুগারক্রপ চাষের প্রযুক্তি বিস্তারে বিরাজমান সমস্যাদি ও গবেষণা অগ্রাধিকার নিরূপণ বিষয়ক প্রতিবেদন উপস্থাপন ও আলোচনা কালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ী ঢাকার পরিচালক (ক্রপস) ড. সালমা লাইজু বলেন, ইংল্যান্ডের মানুষ বছরে ১৬ কেজি মিষ্টি জাতীয় তথা সুগার গ্রহন করেন। আর বাংলাদেশের মানুষ গ্রহন করেন মাত্র ৫-৬ কেজি। বছরে ইংল্যান্ডের একজন লোক এতো পরিমাণে সুগার গ্রহন করলেও তাদের মধ্যে কোনরুপ ভয় ভীতি নেই। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সুগার গ্রহনের ক্ষেত্রে রয়েছে নানাবিধ ভয় ও ভীতি। কারণ আমরা জানি না কখন কিভাবে সুগার গ্রহন করতে হয়।

একই সঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘সুগার ফুডকে ব্রেন ফুডও বলা হয়। যা মানব দেহের জন্য অতি প্রয়োজন। তারপরও বাংলাদেশের সব জেলায় আখের উৎপাদন হয় না। আবার বিশ্বের আখ উৎপাদন দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নামই নেই। এদেশের মানুষের জন্য ব্রেন ফুড প্রয়োজন রয়েছে। তাই বাড়ির আঙ্গিনায় ব্রেন ফুড তথা আখের চাষ করা উপর গুরুত্ব আরোপ করেন ড. সালমা লাইজু।’ কর্মশালায় আগত সকলকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন বিএসআরআই-এর পরিচালক (প্রযুক্তি হস্তান্তর) ড. সেলিনা আখতার।

এ অনুষ্ঠানে বিএসআরআই-এর বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সুগারমিল, এনজিও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, মৌ চাষি ও কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন। যৌথভাবে কর্মশালা সঞ্চালনায় ছিলেন বিএসআরআইর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নুসরাত জাহান উপমা ও নাজনীন আক্তার মুন্না।

কর্মশালার আয়োজক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে বিএসআরআই-এর রোগতত্ত্ব, কীটতত্ত্ব, কৃষি প্রকৌশল, কৃষি অর্থনীতি, অন-ফার্ম এবং প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর বিভাগের প্রযুক্তি উপস্থাপন ও আলোচনা করবেন বিভাগীয় প্রধানরা।

বন্ধের এক দিন পরই খুলল সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
বন্ধের এক দিন পরই খুলল সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র
সংগৃহীত ছবি

পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র খুলে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২২ জুন) সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও রবিন মিয়া বলেন, ‘ভারতের পাহাড়ি ঢলে সাদাপাথর এলাকা প্লাবিত হওয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে পানি নেমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আবারও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে রবিবার সাদাপাথর এলাকার অন্তত ৫০টি অস্থায়ী দোকান ভেসে যায়। একইভাবে গোয়াইনঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়। তবে এক দিনের ব্যবধানে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেট কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন বলেন, ‘সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ঢল কম হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।’
 

সাপের কামড়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর সাপসহ হাসপাতালে কৃষক

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
সাপের কামড়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর সাপসহ হাসপাতালে কৃষক
ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় সাপের কামড়ে গুরুতর আহত হয়ে সাপসহ হাসপাতালে হাজির হয়েছেন এক কৃষক। সোমবার (২২ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার মাছপাড়া ইউনিয়নের রামকোল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত কৃষকের নাম সহমান মোল্লা। তিনি রামকোল গ্রামের মো. মজিবর মোল্লার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশের একটি খড়ের পালায় কাজ করার সময় হঠাৎ একটি সাপ সহমান মোল্লার ডান হাতে কামড় দেয়। এ সময় তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। পরে তারা সাপটিকে একটি প্লাস্টিকের পাত্রে আটক করে আহত কৃষককে নিয়ে হাসপাতালে যায়।

হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক সহমান মোল্লাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, সাপটি সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ায় চিকিৎসকদের সাপ শনাক্ত করতে সুবিধা হয়েছে।