গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় অবস্থিত ড্রেসম্যান লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানায় আবারও অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শনিবার (২০ জুন) সকালে কাজে যোগ দেওয়ার কিছুক্ষণ পর শ্রমিকদের মধ্যে বমি, তীব্র পেটব্যথা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট ও দুর্বলতার উপসর্গ দেখা দিলে কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে ওই কারখানার শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
হাসপাতাল ও কারখানা সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার কারখানার সরবরাহকৃত পানি পান করার পর শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর শ্রমিকদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং কারখানাটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির পর শনিবার কারখানা পুনরায় চালু করা হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্রমিকদের মধ্যে একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়।
অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে জুতি, শারমিন, আল আমিন, হাজেরা, রুমা, খুকিমনি, তানিয়া, অঞ্জনা, আসমা, আয়শা, সুবর্ণা, কাজলী, জান্নাতী, পিয়ারা, চম্পা, রুনা ও তসলিমাসহ প্রায় ৫০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অসুস্থ কয়েকজন শ্রমিক জানান, শনিবার তারা কারখানার পানি পান করেননি। তবে কারখানায় প্রবেশের পর অস্বাভাবিক একটি গন্ধ অনুভব করেন। এরপর তাদের বমি, পেটব্যথা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
ড্রেসম্যান লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার শ্রমিকরা অসুস্থ হওয়ার পর কারখানার পানির লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। শনিবার শ্রমিকরা পানি পান না করলেও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন বলেন, সকাল থেকে বেশ কয়েকজন শ্রমিক বমি, পেটব্যথা ও মাথা ঘোরার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। প্রাথমিকভাবে এটি খাদ্যে বিষক্রিয়া বা দূষিত পানিবাহিত কোনো সমস্যার কারণে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং অধিকাংশ শ্রমিক বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, কারখানার পানির নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের অসুস্থ হওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তদন্তে কোনো গাফিলতি বা অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




