• ই-পেপার

মেহেরপুর সীমান্তে ৪ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে বিধবা নারীর আত্মহত্যা

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে বিধবা নারীর আত্মহত্যা
প্রতীকী ছবি

বগুড়ার আদমদীঘির বাগবাড়ি গ্রামে মর্জিনা বেগম নামে এক বিধবা নারী বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

শনিবার (২০জুন) রাত ৮টার দিকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।

নিহত মর্জিনা বেগম (৫৩)  উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউপির বাগবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের স্ত্রী।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। এরপর থেকে দুই ছেলেসন্তান নিয়ে তিনি স্বামীর বাড়িতেই থাকতেন। বড় ছেলে মুক্তার হোসেন প্রবাসে থাকেন এবং ছোট ছেলে সানোয়ার হোসেন বাড়িতেই থাকেন। শনিবার বিকেল ৪টার দিকে সবার অজান্তে মর্জিনা বেগম নিজ বাড়িতে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে ছটফট করতে শুরু করেন। এ সময় ছেলে সানোয়ার ও তার স্ত্রী দেখতে পেয়ে তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেন। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরে পথেই তিনি মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।

আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে আত্মহত্যার কারণ এখনো জানা যায়নি।

কুষ্টিয়ায় পাথরবোঝাই ট্রাক উল্টে চালক-হেলপার নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় পাথরবোঝাই ট্রাক উল্টে চালক-হেলপার নিহত
সংগৃহীত ছবি

কুষ্টিয়ার বাইপাস সড়কে পাথরবোঝাই ট্রাক উল্টে চালক ও তার হেলপার নিহত হয়েছেন। রবিবার (২১ জুন) সকালে মিনাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, চালক আনিস মন্ডল (৩৮) ও হেলপার রতন আলী (৩৬)। আনিসের বাড়ি ফরিদপুর, আর রতনের বাড়ি কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার মিনাপাড়ায়।

কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আরশেদ আলী জানান, যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা চালক ঘুমিয়ে পড়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

চৌড়হাস হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ সেকেন্দার আলী জানান, ট্রাকটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সোনামসজিদ থেকে পাথর নিয়ে খুলনায় যাচ্ছিল। পথিমধ্যে কুষ্টিয়া শহর বাইপাস সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি খাদে উল্টে পড়ে। এ সময় ট্রাকটিতে আগুন ধরে যায়। ঘটনার দুই ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা লাশ উদ্ধার করে।

দামুড়হুদায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
দামুড়হুদায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২
সংগৃহীত ছবি

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় পৃথক অভিযানে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলার আসামি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা ও মাদক মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে দর্শনা থানা পুলিশ। রবিবার (২১ জুন) ভোররাতে দর্শনা থানার ওসি নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন দর্শনা এলাকার প্রভাত আলম (৩২)। তিনি দর্শনা শ্যামপুর গ্রামের মৃত ইসলামের ছেলে এবং দর্শনা কলেজের ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক। তিনি বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। অপর দিকে ওয়াসিম হোসেন (৩২) দর্শনা দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে। তিনি একটি মাদক মামলার আসামি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলার আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

দর্শনা থানার ওসি নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

কালীগঞ্জ

১৮ কোটির হাসপাতাল এখন সাপ-শিয়ালের আস্তানা

হস্তান্তর করা হয় ২০২১ সালে  দ্রুত চালুর দাবি স্থানীয়দের

রিপন আনসারী, গাজীপুর
১৮ কোটির হাসপাতাল এখন সাপ-শিয়ালের আস্তানা
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ২০ শয্যাবিশিষ্ট তালিয়া হাসপাতালটি পাঁচ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। শনিবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

দূর থেকে দেখলে মনে হবে ঝকঝকে আধুনিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ভেতরে এসি, টেলিভিশনসহ রয়েছে সব সরঞ্জাম। তবে দরজায় তালা, করিডোরে নিস্তব্ধতা আর চারপাশে ঝোঁপঝাড়, যেখানে গড়ে উঠেছে সাপ ও শিয়ালের আস্তানা। 

প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসার জন্য ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তালিয়া ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল। কিন্তু নির্মাণের পর গত পাঁচ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটি। 

শনিবার (২০ জুন) সরেজমিন হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের চারপাশ ঝোপঝাড়ে ঢাকা। হাসপাতালের খোলা জায়গা দখল করে স্থানীয়রা সবজি চাষ করছেন। ভবনের ভেতরে আসবাব ও সরঞ্জাম থাকলেও তা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২ দশমিক শূন্য ৭ একর জমির ওপর হাসপাতালটি নির্মিত হয়েছে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরু হয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শেষ হয়। ২০২১ সালের জুনে এটি গাজীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। একটি মূল ভবন, তিনটি কোয়ার্টার, জেনারেটর কক্ষ ও গ্যারেজ থাকলেও নেই চিকিৎসা কার্যক্রম।

সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রম চালুর প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের মার্চে অর্থ মন্ত্রণালয় ১৬টি পদ অনুমোদন দিলেও ১২টি পদ এখনো শূন্য। পদায়ন করা একজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ও দুইজন নার্স বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক কোড না থাকা। এ কারণে বাজেট বরাদ্দ হচ্ছে না। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বা ওষুধ কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

তালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আফরোজা বেগম বলেন, ‘অসুস্থ হলে আমাদের অনেক দূরে যেতে হয়। বিশেষ করে প্রসূতিদের নিয়ে ঢাকায় যাওয়া খুব কষ্টের। হাসপাতালটি চালু হলে আমাদের দুর্ভোগ কমত।’ 

স্থানীয় চিকিৎসক ও বাসিন্দারা দ্রুত এটি চালুর দাবি জানিয়েছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশীদ বলেন, ‘অর্থনৈতিক কোড না থাকায় কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, ‘ওষুধ, জনবল ও বাজেটের কিছুটা ঘাটতি আছে। তবে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে। আশা করছি দ্রুতই হাসপাতালটি চালু করা যাবে।’